সালমাদের স্বর্ণ-উৎসব

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সালমাদের স্বর্ণ-উৎসব

সালমারাই যেন হিমালয়ের রানী! পোখারার রঙ্গশালায় শ্রীলংকাকে হারানোর পর এভাবেই জয়োৎসব করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল- মাহবুব হোসেন নবীন

কাছ থেকে আকাশকে বড্ড আপন মনে হয়। মনে হয় মুচকি হেসে বলবে কিছু। সেই আকাশকে যেন মাথায় বয়ে এঁকেবেঁকে দাঁড়িয়ে হিমালয়। আবার তারই সুশীতল ছায়ায় ছেলের আদরে রঙ্গশালা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ যে এক আত্মীয়তার বন্ধন। প্রকৃতির এমনই এক মঞ্চে গতকাল বাংলার মেয়েরা নামেন ব্যাট-বল হাতে। দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত এসএ গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে স্বর্ণ জিতবেন বলে। হয়তো শুরুতে একটু হতাশ করেছিলেন। তবে শেষটা ভালোই হয়েছে। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে শ্রীলংকাকে ২ রানে হারিয়ে হিমালয়ের কোলে সোনালি উৎসবই করলেন সালমা-জাহানারারা।

শেষ ওভারটাই বেশি শিহরণ জাগিয়েছিল। শ্রীলংকার সামনে মামুলি টার্গেট দাঁড় করিয়ে মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের পথটা যে দারুণভাবে আটকে দিয়েছেন, এটা বলতেই হয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলংকার প্রয়োজন ছিল সাত রান। বাংলাদেশি অধিনায়ক সালমা খাতুন আস্থা রাখেন নাম্বার ওয়ান বোলার জাহানারা খাতুনের ওপর। হতাশ করেননি। চোখজুড়ানো বোলিং করে ছয় বলের প্রথম পাঁচটিতে দেন মাত্র চার রান। বিপরীতে রান আউটে কাটা পড়ে একজন। তাতে আরও চাপে পড়ে শ্রীলংকা। শেষ বলে লংকানদের দরকার ছিল ৩ রান। জাহানারা দেননি এক রানও। উল্টো আরেক উইকেট শিকার করেন। তাতেই স্বপ্নের জয় পেল বাংলাদেশ নারী দল। সেই সঙ্গে সাউথ এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট ইভেন্টে কাঙ্ক্ষিত স্বর্ণপদকও গলায় ঝোলালেন বাংলার মেয়েরা।

যদিও বাংলাদেশি ব্যাটাররা হতাশই করেছেন। নেপালের পোখারার রঙ্গশালা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়াটা যেন ভুলই হয়ে গেল! অবশ্য টসকে ফ্যাক্টর হিসেবে ভাবারও কোনো উপায় নেই। দাপট দেখিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটা বাংলাদেশকে এ দিন ভিন্ন রূপেই দেখা যায়। চারজন ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের ঘরে নাম ওঠাতে পারেননি। তা ছাড়া শুরুটা ছিল আরও বিবর্ণ। ১৬ রানের মাথায় ওপেনার মুরশিদা খাতুন ফিরে যান সাজঘরে। এরপর আরেক ওপেনার আয়েশা রহমানও থিতু হতে পারেননি। রানের খাতা খোলার পরপরই বিদায় নেন তিনি। ওপেনিং ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খুইয়ে খাদে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে কিছুটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন উইকেটকিপার নিগার সুলতানা। যদিও ছিলেন বেশ খরুচে। ৩৮ বল মোকাবেলা করে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ২৯ রান। আরেক ব্যাটার সানজিদা ইসলামও চেয়েছিলেন উইকেট আঁকড়ে রানের চাকা ঘোরাতে; কিন্তু পারেননি বেশিদূর যেতে। ১২ বলে ১৫ রান করে ফিরতে হয় তাকে। শেষ দিকে বাংলাদেশি ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ১৫ রান করেন ফাহিমা খাতুন। যার সুবাদে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ৯১।

ব্যাটিং আশানুরূপ না হলেও বোলিংটা ছিল দেখার মতো। লংকান ব্যাটারদের সহজ সুযোগ হাতের মুঠোয় নিতে দেননি তারা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন নাহিদা। তাও আবার ৪ ওভারের স্পেলে ৯ রান দিয়ে। আর জাহানারা নেন ১৭ রানের বিনিময়ে নেন ১ উইকেট। আর শ্রীলংকা আটকে যায় ৮৯ রানের ঘরে। কেবল ক্যাপ্টেন হার্শিথা উল্লেখ করার মতো ব্যাটিং করেছেন। তার ব্যাট থেকেই আসে সর্বোচ্চ ৩২ রান। তবে বাংলাদেশ স্বর্ণ জিতলেও একটা অস্বস্তি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। তৃতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল শ্রীলংকা। তাদের দলে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন মাত্র একজন। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয় দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল। এর পরও এতটা ভুগতে হয়েছে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ :৯১/৮ (নিগার ২৯*, সানজিদা ১৫, ফাহিমা ১৫; উমেশা ৪/৮, কাভিশা ১/২০)
শ্রীলংকা :৮৯/৯ (হার্শিথা ৩২, আপ্সারা ২৫; নাহিদা ২/৯, জাহানারা ১/১৭)
ফল :বাংলাদেশ ২ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা :নাহিদা আক্তার