বলতে বলতে বিরক্ত কোচ জেমি ডে

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল। সেই থেকে এই মৌসুম বাদে প্রিমিয়ার লিগের ১১টি আসর হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯-১০ মৌসুম ছাড়া বাকি আসরগুলোতে দাপট ছিল বিদেশি ফরোয়ার্ডদের। সর্বোচ্চ স্কোরারের তালিকায় সবার ওপরে ছিল বিদেশিরা। সেই ধারাটা এবারের লিগেও। যদিও বিপিএলে মাত্র নয় ম্যাচ শেষ হয়েছে। গোল হয়েছে ১৬টি। যার ১৪টি করেছেন বিদেশিরা। দেশি ফুটবলারদের নামের পাশে মাত্র দুই গোল। একটি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ডিফেন্ডার ইয়াসির আরাফাত, অন্যটি চট্টগ্রাম আবাহনীর শাখাওয়াত রনির। ঘরোয়া লিগে দেশি ফুটবলারদের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারার বড় কারণ বিদেশি কোটা। শিরোপার জন্য ক্লাবগুলো আক্রমণভাগে বিদেশিদের ওপরই ভরসা করে থাকে। যে কারণে দেশি স্ট্রাইকারদের অনেকেই সাইড বেঞ্চে বসে থাকছেন। এমন চিত্রটা বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন নয়। কিন্তু জাতীয় দলে গোল স্কোরিংয়ের সমস্যার সমাধানের জন্য ঘরোয়া লিগের কাঠামো পরিবর্তনের কথা অনেকবারই বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্যর্থ হওয়ার পরও ফেডারেশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে যে নোট দিয়েছিলেন, সেখানেও জেমি উল্লেখ করেছিলেন কাঠামো পরিবর্তনের কথা। কিন্তু পেশাদার লিগ কমিটি তার কথা শোনেনি। তাই প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে বিদেশিদের দাপট দেখে অবাক হননি জেমি, 'এখানে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সমস্যার সমাধান তো ফেডারেশনের হাতে। একটা দেশের ফুটবলের সাফল্য-ব্যর্থতার নির্ণায়ক হচ্ছে জাতীয় দল। আপনি যদি জাতীয় দলের সাফল্য চান, তাহলে অবশ্যই লিগে দেশিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু আপনি তা করছেন না। যত দিন পর্যন্ত কাঠামোগত পরিবর্তন না আনবেন, ততদিন আপনার দেশের ফুটবলেও সাফল্য আসবে না। তাই দেশি ফুটবলাররা গোল না পাওয়ায় আমার কাছে ব্যতিক্রম কিছু মনে হচ্ছে না। প্রতিটি মৌসুমেই তো এমনটি হয়ে আসছে।'

পেশাদার লিগে ব্যতিক্রম ছিল ২০০৯-১০ মৌসুমে। সর্বোচ্চ গোল স্কোরার প্রথম দু'জনই ছিলেন বাংলাদেশের। ঢাকা আবাহনীর এনামুল হক করেছিলেন ২১ এবং ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জাহিদ হাসান এমিলি করেছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ গোল। প্রিমিয়ার লিগের গত কয়েক আসর মানেই বিদেশিদের দাপট। গত মৌসুমে তাদের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন। ১৭ গোল করা জীবন সর্বোচ্চ স্কোরারের তালিকায় ছিলেন তিন নম্বরে। সেই জীবন এবার খেলেছেন এক ম্যাচ, গোল পাননি। এখনও পর্যন্ত হয়ে যাওয়া নয় ম্যাচের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে গোল করেছেন চট্টগ্রাম আবাহনী ম্যাথিউ চিনেদু এবং আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের এলিটা কিংসলে। ইংল্যান্ডে বসে বিদেশি খেলোয়াড়দের আধিপত্য দেখে বেশ কষ্ট হচ্ছে জেমির, 'লিগ মাত্র শুরু হয়েছে। এখনও অনেক দূর বাকি। কিন্তু শুরুটা দেখলেই বলা যায়, শেষটা কেমন হবে। বিপিএলে আমি যে কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি, তাতে বিদেশি ফুটবলাররাই গোল পেয়েছেন। দেশি খেলোয়াড়রা তো সুযোগই পাচ্ছেন না। কীভাবে তারা পাবেন, একটি দলে যে চারজন বিদেশির বেশিরভাগই খেলেন ফরোয়ার্ড লাইনে। আমার কাছে এই জিনিসগুলো খারাপ লাগে। আপনি কেবল দেশি খেলোয়াড়দের দোষ দিয়ে যাবেন, তারা গোল পাচ্ছে না বলে। কিন্তু আপনাকে তো তাদের সুযোগ দিতে হবে। সেটা কি দেশি খেলোয়াড়রা পাচ্ছে?'