প্রাপ্তি তানজিদ-আল আমিনের সেঞ্চুরি

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ছিল টেস্টের প্রস্তুতি গ্রহণ। আর বিসিবির লক্ষ্য ছিল কিছু যুব ক্রিকেটারকে জাতীয় পর্যায়ের দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা পাইয়ে দেওয়া। যে কারণে বিসিবি একাদশের ব্যানারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের ছয় তরুণকে। বিকেএসপির দু'দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটিতে শিরোপাজয়ী যুবাদের অভিজ্ঞতাটা হলো মিশ্র। ব্যাট হাতে আকবর আলী, মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেনদের সময়টা ভালো যায়নি। কিন্তু বেশ খানিকটা সময় পিচে টিকে থাকতে পেরেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম। এর মধ্যে ৬৬ বলে ৩৪ রান করার পথে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাট করেছেন ইমন। তবে ইমন তো বটেই, পুরো ম্যাচে দুই দলের সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া ইনিংস এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। সচরাচর ওপেনিংয়ে খেলা এই বাঁহাতি ৭ নম্বরে নেমে ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২১৯ রানের জুটিতে ব্যক্তিগত তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন আল-আমিন জুনিয়রও। মূলত আল-আমিনের সেঞ্চুরি হতেই হাতে সময় থাকার পরও খেলার সমাপ্তি টানে জিম্বাবুয়ে ও বিসিবি একাদশ। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি শেষ হয় অমীমাংসিত ড্রতে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আগের দিনই ব্যাটিং করে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ৯০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রান তুলেছিল তখন। এরপর গতকাল আর ব্যটিংয়ে না নেমে বোলারদের প্রস্তুতির জন্য ফিল্ডিংয়ে নামে। বিসিবি একাদশের হয়ে ওপেনিং করেন মোহাম্মদ নাঈম ও ইমন। দুই বাঁহাতির উদ্বোধনী জুটিটি ৬.৩ ওভারের বেশি টেকেনি। নাঈম আউট হয়ে যান ১৭ বলে ১১ রান করে। যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল হাসান জয়ও মাঠে থিতু হতে পারেননি। চার্লটনের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে, ৫ বলে করেন ১ রান। বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়া শাহাদাত খেলেন চার নম্বরে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ ইমনের সঙ্গে তার জুটিটা জমেছিল ভালোই। তবে ৩৯ মিনিট স্থায়ী জুটি ভেঙে যায় শাহাদাতের আউটে। ভালো খেলতে খেলতে মিডঅফে সহজ ক্যাচ দেন ২২ বলে ২ রান করা শাহাদাত। পেস-স্পিন দুই বোলিংকে ভালোভাবে সামাল দেওয়া ইমন আউট হন প্রথম সেশনের শেষ মুহূর্তে। এনলভুর বাঁহাতি স্পিনে ক্যাচ দেন মিডঅফে। ঠিক পরের ওভারে লেগস্পিনার মুতোমবোজির গুগলিতে বোল্ড হন আকবর আলী, টেকেন মাত্র ৩ বল। ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিসিবি একাদশ তখন বিপর্যয়ে। ওই অবস্থা থেকে দলকে ২৮৮ রানে নিয়ে যায় তামিম-আল আমিনের অবিচ্ছিন্ন জুটি। এর মধ্যে বাঁহাতি তানজিদ ছিলেন মারমুখী। ১০ চার ও ৫ ছয়ে ৮৭ বলেই সেঞ্চুরি তুলে ফেলেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে সেঞ্চুরিকে টেনে নিয়েছেন ৯৯ বলে ১২৫ রানে, হাঁকান আরও ৪টি চার। আল-আমিন একশ'তে পৌঁছান ১৪৫ বলে, তার ইনিংসে চার ১৬টি। সফরকারী জিম্বাবুয়ে হাত ঘুরিয়েছে আট জনকে দিয়ে। এর মধ্যে কেউই ১১ ওভারের বেশি করেননি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে : ২৯১/৭।

বিসিবি একাদশ : ৫৯.৩ ওভারে ২৮৮/৫ (নাঈম ১১, ইমন ৩৪, মাহমুদুল ১, শাহাদাত ২, আল-আমিন ১০০*, আকবর ১, তানজিদ ১২৫*; এনলভু ২/৫১, মুমবা ১/৩৭)।