হাল্যান্ড 'দ্য ফেনোমেনন'

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্পোর্টস ডেস্ক

হাল্যান্ড 'দ্য ফেনোমেনন'

আরও একবার পরাস্ত কেইলর নাভাস, হাল্যান্ডের পায়ের ছোঁয়ায় বল পিএসজির জালে। মঙ্গলবার রাতে জার্মানির সিগনাল ইদুনা পার্কে এএফপি

কয়েক মাস আগেও খুব একটা আলোচনায় ছিলেন না আর্লিং ব্রাট হাল্যান্ড। আলোচনায় না থাকার অন্যতম কারণ ছিল তিনি নামি-দামি ক্লাবের খেলোয়াড় নন। অস্ট্রিয়ান ফুটবল ক্লাব রেড বুল সালসবার্গ থেকে গত জানুয়ারিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পরই পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে থাকেন হাল্যান্ড। জার্মান ক্লাবটির জার্সি গায়ে গোলের পর গোল করে যাচ্ছিলেন। তবুও নেইমার, এমবাপ্পে, মেসিদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের আড়ালেই ছিলেন ১৯ বছর বয়সী নরওয়ের এ ফরোয়ার্ড। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোলের পরই পুরো ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হাল্যান্ড। তরুণ এ স্ট্রাইকারের চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্সের কারণে মলিন নেইমার-এমবাপ্পের পিএসজি। বিশ্বের সবচেয়ে দামি দুই ফুটবলারের মঞ্চকে নিজের করে নেওয়া হাল্যান্ড স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ডর্টমুন্ডকে। ঘরের মাঠে পিএসজির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে জার্মান ক্লাবটি এখন কোয়ার্টারে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে গেল। ১১ মার্চ পাক্য দ্য প্রিন্সেসে দ্বিতীয় লেগে ড্র করলেই নেইমারদের বিদায় করে শেষ আটে উঠে যাবে হাল্যান্ডের ডর্টমুন্ড।

পিএসজির দুই তারকা নেইমার ও এমবাপ্পের মোট মূল্য ৪০২ মিলিয়ন ইউরো। আর মাত্র ২০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ডর্টমুন্ডে যোগ দেন হাল্যান্ড। সবচেয়ে দামি দুই ফুটবলারকে সাক্ষী রেখে সিগনাল ইদুনা পার্কে রাজত্ব করেন তিনি। ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধ্বে। আর দুই গোল করা হাল্যান্ড নাম লিখেছেন ইতিহাসের পাতায়। কিলিয়ান এমবাপ্পের পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দ্বিতীয় তরুণ ফুটবলার হিসেবে ১০ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে করেছেন ১১ গোল। আর এই মৌসুমে দুই ক্লাবের (সালসবার্গ ও ডর্টমুন্ড) জার্সি গায়ে জড়ানো হাল্যান্ডের নামের পাশে ২৯ ম্যাচে ৩৯ গোল। গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা তরুণ এই ফরোয়ার্ডের নামের পাশে অনেক মিডিয়া 'ফেনোমেনন' ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছে। যে নামে সবাই ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোকেই চেনেন।

বাবা আলফ-ইং হাল্যান্ডেও ছিলেন ফুটবলার। ইংলিশ ক্লাব লিডস ও ম্যানচেস্টার সিটির জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। ২০০০ সালের ২১ জুলাই ইংল্যান্ডের লিডসে যখন জন্ম নেন, হাল্যান্ডের তখন বাবা খেলতেন লিডসের হয়েই। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়ায় সেই দেশের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল ১৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের; কিন্তু নরওয়েকে বেছে নেন তিনি। আপন আলোয় আলোকিত হওয়া হাল্যান্ড এখন যে কোনো দলের জন্যই বড় হুমকি। পিএসজির বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে তার গোলে লিড নেয় ডর্টমুন্ড। ৭৫ মিনিটে এমবাপ্পের মাইনাসে আলতো টোকায় গোল করে সমতা ফেরান চার ম্যাচ পর খেলতে নামা নেইমার। কিন্তু পিএসজির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি মাত্র দুই মিনিটেই শেষ করে দেন ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অভিষেক হওয়া হাল্যান্ড। তার করা দ্বিতীয় গোলটি ছিল এককথায় অসাধারণ। সতীর্থের পাস ধরে ২২ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে নেন ১৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এই মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের লেভানডভস্কির সমান ১০ গোল নিয়ে তালিকায় শীর্ষে আছেন হাল্যান্ড। সাবেক ক্লাব সালসবার্গের হয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আট গোল করা হাল্যান্ড উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না, 'আমার এখনও উন্নতি করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ পর্যন্ত যেতে চাই আমরা। দ্বিতীয় গোল করার মুহূর্তটি আমি উপভোগ করেছি।'