অধিনায়ক মাশরাফির শেষ সিরিজ

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অধিনায়ক মাশরাফির শেষ সিরিজ

ছবিটি পুরোনো, তবে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া অর্থে বর্তমান! জিম্বাবুয়ে সিরিজ উপলক্ষে যখন মিরপুর জিমে এসেছিলেন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত বছর মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করতে চেয়েছিল বিসিবি। অবসর প্রশ্নে নড়াইল এক্সপ্রেস সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। বিপিএল চলাকালে ওয়ানডে অধিনায়ক পরিস্কার জানিয়ে দেন, এ মুহূর্তে অবসর নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের মাটিতে শুরু হচ্ছে আরেকটি জিম্বাবুয়ে সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজ শুরু ১ মার্চ থেকে। তিন ম্যাচের সিরিজটি মাশরাফির নেতৃত্বেই খেলবে বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এই ঘোষণা দেন। তবে বোর্ড সভাপতি আরেকটি ঘোষণা দিয়েছেন, এক মাসের ভেতরেই ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করা হবে। যার অর্থ, জিম্বাবুয়ে সিরিজই অধিনায়ক মাশরাফির শেষ। তবে খেলোয়াড় মাশরাফির শেষ কিনা, বোঝা যাবে এই সিরিজে তার পারফরম্যান্সের ওপর।

হোম সিরিজ খেলার জন্য গত কয়েক দিন ধরে ফিটনেস বাড়াতে জিম করছেন মাশরাফি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলার জন্যই এই প্রস্তুতি তার। আজ থেকে রানিং এবং বোলিং প্র্যাকটিস করতে দেখা যেতে পারে তাকে। এই সিরিজটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ভালো করলে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার পাশাপাশি ওয়ানডে দলের জায়গাটাও ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। পাপনের কথায় সে ইঙ্গিত স্পষ্ট, 'মাশরাফির মতো অধিনায়ক এ মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। মাশরাফি এই সিরিজে অবশ্যই খেলছে এবং অধিনায়ক হিসেবেই। ও ফিট না হলে ভিন্ন কথা। তবে ওর ফিটনেস নিয়ে অতটা কড়াকড়ি করতে চাচ্ছি না।'

ফিটনেস পরীক্ষা বিপ টেস্টে ১১ স্কোর নির্ধারণ করে দিয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এটা শিথিলযোগ্য। নয় সাড়ে নয় স্কোর করেও খেলার সুযোগ পাচ্ছেন কেউ কেউ। মাশরাফির ক্ষেত্রেও এই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। পাপন জানান, ভবিষ্যতে অধিনায়ক না থাকলেও খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি, 'কারও যদি পারফরম্যান্স ফিটনেস ঠিক থাকে, তাহলে খেলতে কোনো সমস্যা নেই। কেউ যদি খেলে যেতে চায়, খেলবে। জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে যে প্রক্রিয়ার আছে সেগুলো পূরণ করতে হবে।'

বিশ্বকাপের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে খেলা হয়নি মাশরাফির। ইনজুরির কারণে গত বছর জুলাই মাসে শ্রীলংকা সফরে যেতে পারেননি তিনি। গত আট মাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট বলতে বিপিএলে খেলেছেন। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ছন্দ ফিরে পেয়েছিলেন ঢাকা দলের অধিনায়ক। সে যাই হোক, নেতৃত্বে থাকায় স্বস্তি নিয়েই মাঠে নামতে পারবেন নড়াইল এক্সপ্রেস। গতকাল ফোনে কথা বলার সময় তাকে বেশ উজ্জীবিতই মনে হলো। বোঝা গেল হোম সিরিজে ভালো খেলতে উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি।

মূলত সাকিব নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় অধিনায়ক নিয়ে চাপে পড়েছে বিসিবি। টেস্টে মুমিনুলকে সিরিজ ধরে ধরে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। টি২০ অধিনায়ক করা হয়েছে মাহমুদুল্লাহকে। পাকিস্তান বা আয়ারল্যান্ড সিরিজে মাশরাফিকে নেতৃত্বে রাখা না হলে ওয়ানডে সংস্করণে আপৎকালীন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মাহমুদুল্লাহকে। আগামী ৮ মার্চ বোর্ড সভায় নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান বোর্ড সভাপতি। যার অর্থ হলো, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নড়াইল এক্সপ্রেসের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় বোর্ড কর্তারা। সেখানে ভালো খেলে ফেললে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সিরিজেও মাশরাফিকে রেখে দেওয়ার কথা ভাবতেও পারেন কর্মকর্তারা। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলে বোর্ডের কাজটা সহজ হয়ে যাবে। বিসিবি সভাপতি পাপন জানালেন, সাকিব আগের ছন্দে থাকলে তার হাতেই নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২৯ অক্টোবর। ততদিনে টি২০ বিশ্বকাপের সুপার লিগের খেলা শুরু হয়ে যাবে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো চান টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকেন মাহমুদুল্লাহ। তবে কোনো কিছু চূড়ান্ত করার আগে সাকিবের সঙ্গে কথা বলবেন বোর্ড সভাপতি।