অধিনায়কের বিদায় উপলক্ষে বিয়েবাড়ির সাজে সাজানো হয়নি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বেলুন, পায়রা ওড়ানো হবে কিনা, বলেনি কেউ। নাই বা থাকল জমকালো আয়োজন; তবুও যে বাজে বিদায়ের সুর। বিদায়, অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়। কত আলোচনা, কত কথা দেশজুড়ে তার বিদায় নিয়ে। খেলা তিনি ছাড়ছেন না ঠিকই, ছেড়ে দিলেন নেতৃত্ব। মানপত্র হবে কি পাঠ? জানে না তো কেউ। তবুও তো আবেগ খেলে যায় সতীর্থদের হৃদয়ে। এই ভেন্যুতে ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে অধিনায়ক মাশরাফির কোনো ছবি ঠাঁই পাক বা নাই পাক, তামিম-মুশফিকরা বুকে ধরে রাখবেন নড়াইল এক্সপ্রেসকে। গতকাল দুপুরে মাশরাফি যখন অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন পুরো দলই ব্যস্ত ছিল কঠোর অনুশীলনে। নড়াইল এক্সপ্রেসের দীর্ঘপথ চলার সঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া জানতে তাই অপেক্ষা করতে হলো বিকেলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল পর্যন্ত। সেখানেই মিঠুনরা বললেন, অধিনায়ককে মিস করবেন তারা।

বর্তমান দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে মাশরাফির সবচেয়ে পুরোনো সঙ্গী মুশফিকুর রহিম। ২০১৪ সালে তার কাছ থেকেই নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাশরাফিকে। ভালো করার পরও নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়ার আক্ষেপ মুশফিকের কোনো দিনই হয়তো ঘোচার নয়। তবে ভাবার কোনোই কারণ নেই, মাশরাফির প্রতি আক্রোশ পুষে রেখেছেন তিনি। বরং গতকাল বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসালেন মুশফিক, 'মাশরাফি ভাইয়ের বিকল্প কখনও আসবে না। তিনি শুধু আমাদের জন্য বড় ভাই-ই নন, আমাদের একাংশ। তিনি অধিনায়ক হওয়ার পর আমাদের দল আমূল বদলে দিয়েছেন। মাঠের ভেতরই শুধু নয়, মাঠের বাইেরও। অবশ্যই অনেক মিস করব উনাকে।' অধিনায়ক হিসেবে না পেলেও খেলোয়াড় মাশরাফিকে আরও কিছুদিন দলে দেখতে চান উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান, 'আশা করব, উনি যতদিন পারেন খেলা চালিয়ে যাবেন। উনার নেতৃত্বে খেলা বা উনার সঙ্গে খেলার অন্যরকম মেজাজ আছে। আশা করি বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও অনেক কিছু দিতে পারবেন তিনি।'

জাতীয় দলের আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ। বয়সে মাশরাফির চেয়ে বছর দুই ছোট তিনি। নেতার বিদয়ে আবেগীও, 'মাশরাফি ভাই যতদিন অধিনায়ক ছিলেন, ভাই, বন্ধু বা অধিনায়ক যা-ই বলেন, আমি পুরো সময়টা খুব উপভোগ করেছি। আজ প্রায় ছয় বছর হলো উনি অধিনায়কত্ব করেছেন। নেতৃত্বে অনেক সাফল্যও পেয়েছেন তিনি।' নড়াইল এক্সপ্রেসের সুন্দর ভবিষ্যৎও কামনা করেন মাহমুদুল্লাহ।

বয়সে বেশ ছোট হলেও তামিম ইকবালের সঙ্গে অধিনায়কের সখ্য ছিল বেশ। জীবনের সব বড় কাজেই ক্রিকেট মাঠের এই অগ্রজের পরামর্শ ও আশীর্বাদ ছিল। তিনিও নেতার বিদায়ে আবেগী হলেন, 'বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনি যা করেছেন তা কোনো ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সমর্থক কারও কোনোদিন ভোলা উচিত নয়। আমাদের সবার মনের ভেতর থাকা উচিত। ২০১৫ সালে আমরা একটি জায়গায় ছিলাম, ২০১৯ সালে একটা অবস্থা এসেছি উনার হাত ধরেই। ওয়ানডেতে বিশেষ করে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব আমাদের এখন যেভাবে মূল্যায়ন করে, এটা উনার জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে উনাকে শুভকামনা জানাই।'

তরুণ লিটন কুমার দাস বলছেন মিস করবেন, 'বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেরা অধিনায়ক তিনি। ক্রিকেটারদের যেভাবে সমর্থন করে গেছেন, এটা বলার মতো নয়। বিশেষ করে জুনিয়র ক্রিকেটোরদের। আমার যখন অভিষেক হয়, উনার নেতৃত্বে খেলেছি। আমার জন্য সেটি বড় পাওয়া।' নেতার বিদায়ে বিমর্ষ মুস্তাফিজ, 'জানার পর থেকেই মন খারাপ। কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। আমাকে তিনিই নিয়ে এসেছিলেন দলে।'

মিঠুন যেমন বললেন, 'বড় ভাই হিসেবে তিনি অসাধারণ। তিনি বুদ্ধি দিয়ে হোক, নিজে চেষ্টা করে হোক, সবসময় যে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আমি কিছুক্ষণ আগেই শুনেছি, উনি আর অধিনায়কত্ব করছেন না।' তাইজুল বলছেন, 'বাংলাদেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্যই মাশরাফি ভাইয়ের প্রভাব খুব গুরুত্বপূর্ণ।' আল-আমিন জানান, মাশরাফি কখনও বাইরের জিনিসগুলো সতীর্থদের বুঝতেই দেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন, নড়াইল এক্সপ্রেসের সঙ্গে খেলতে পারাই সৌভাগ্য তার।

মন্তব্য করুন