মানুষ মানুষের জন্য...

বেতনের অর্ধেক দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে দেশে ক্রীড়াবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন গত কয়েকদিন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আর্থিক অনুদান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড দুই দিন আগেই দেশটির সরকারকে আড়াই কোটি লঙ্কান রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর গতকাল তো জাতীয় দলের ২৭ জন ক্রিকেটার বেতনের অর্ধেকটা দেওয়ার ঘোষণা দিলেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ তহবিলে। এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে মাশরাফি বিন মুর্তজার একটা বড় ভূমিকা আছে। তিনিই প্রথম টি২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ও ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে বিষয়টি নিয়ে ভাবনার খোরাক দেন। গতকাল ফোনে মাহমুদুল্লাহ সেটাই জানালেন, 'দুই দিন আগে মাশরাফি ভাই আমাকে ফোন করে বললেন, ক্রিকেটারদের দিক থেকে কোনো অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা। এরপর আমি তামিমের সঙ্গে কথা বলেছি। ও উদ্যোগ নিয়ে বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এটি বাস্তবায়নের পেছনে বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার সাব্বির ভাইয়ের ভূমিকা আছে।'

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি পাওয়া ১৭ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে সম্প্রতি জাতীয় দলে খেলা আরও ১০ জন মিলে এক মাসের বেতনের অর্ধেকটা দেবেন। পরিমাণে সেটা খুব বেশি না হলেও দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করার মতো উদ্যোগ। ২৭ জনের এক মাসের বেতনের অর্ধেকটা হয় ৩১ লাখ টাকা। সেখান থেকে ট্যাক্স কেটে নেওয়ার পর ২৬ লাখ টাকা যাবে বিশেষ তহবিলে। এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে যার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল সবচেয়ে বেশি, সেই তামিম ইকবাল বলছিলেন, 'মাশরাফি ভাই যোগাযোগ করার পর রিয়াদ ভাই, মুশফিক, মুমিনুলের সঙ্গে কথা বলি। তারা সবাই সাড়া দিলে বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।' জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন টাইগার সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি তিন অধিনায়ককে ধন্যবাদও জানান তার ফেসবুক পেজে।

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, 'জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাধুবাদ জানাই এমন একটা উদ্যোগ নেওয়ায়। দেশের অন্য ক্রিকেটাররাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী খেটে খাওয়া মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। নিজেরা নিরাপদে থেকে যে যেভাবে পারেন মানুষের পাশে দাঁড়ালেই উপকৃত হবে দেশ। আমরা যারা সাবেক ক্রিকেটার আছি তারাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিসিবি থেকেও হয়তো টাকা দেওয়া হবে।'

তবে ক্রিকেট বোর্ড বা ক্রিকেটারদের আর্থিক অনুদানের টাকা কোন তহবিলে দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তহবিল গঠন করা হয়নি। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই টাকা ছাড় করানো হবে।

এদিকে, জাতীয় দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের স্ত্রী সঞ্চিতা দাস উদ্যোগী হয়ে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। সঞ্চিতা নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে চেষ্টা করেছেন তিনি। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য স্বামী লিটন দাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সঞ্চিতা।