থিয়েমের নির্ঘুম ২৪ ঘণ্টা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্পোর্টস ডেস্ক

'জানতাম, পারব', 'জানতাম, সুযোগ আসবেই'- জয়ীদের মুখে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়, বিশেষ করে অনেক সংগ্রাম আর পরিশ্রম যারা করে থাকেন; কিন্তু ডমিনিক থিয়েম বললেন ভিন্ন কথা। চতুর্থ প্রচেষ্টায় প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জেতা এই অস্ট্রিয়ান টেনিস তারকা জানালেন, প্রতিটি ফাইনালের পরই তার সংশয় ছিল আবার সুযোগ আসবে কিনা। এমনকি রোববার ইউএস ওপেন ফাইনালে আলেক্সান্ডার জভেরেভের সঙ্গে যখন তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও ছিলেন সন্দিহান। তবে সংশয় ছিল বলেই সম্ভবত জয়ের পর আনন্দও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। উদযাপনে-ব্যস্ততায় নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়।

চার ঘণ্টার লড়াই শেষে জভেরেভকে হারিয়ে থিয়েম ইউএস ওপেন জয়ের উদযাপন করেন নিউইয়র্ক সময় রাত ৮টা ১৯ মিনিটে। তবে বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার ছাড়তে ছাড়তে হয়ে যায় মধ্যরাত। তবে মাঝরাতে লং আইল্যান্ডসের হোটেলে ফিরেও অবশ্য ঘুমাননি। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসেছেন, নিজেও উপস্থিত সঙ্গীদের নিয়ে পার্টি করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ফাইনালের পরদিন মিডিয়া ডে। সকাল সাড়ে ৭টায়ই ফ্ল্যাশিং মিডোয় পৌঁছেছেন। এরপর প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে একের পর এক সাক্ষাৎকার, ফোনে আলাপন। দুপুরে যখন টেনিস সেন্টার অঙ্গন ছাড়ছেন, ততক্ষণে পুরো একদিনেরও বেশি সময় তিনি নির্ঘুম। ২৭ বছর বয়সী ইউএস ওপেনের নতুন রাজা বলছিলেন, 'হোটেল রুমে কিছুটা উদযাপন করা হয়েছে। তবে সবাই অনেক ক্লান্তও ছিল। কারণ ম্যাচটায় খুব পরিশ্রম গেছে। আমার মনে হয়, এটা অন্য সব বছরের মতো হতো তাহলে ভিয়েনাতেও বড় পার্টি হতো।' ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন আর ২০২০ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে থিয়েমকে। অথচ ফেদেরার-নাদাল-জকোভিচের পর টেনিসে 'পরবর্তী প্রজন্ম' যাদের ধরা হয়, তিনি তাদের মধ্যে প্রথম সারির একজন। সম্ভাবনার সেই আশাবাদকে বাস্তবায়ন করে জানালেন নিজের ভেতর খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী তিনি ছিলেন না, 'প্রতিটি ফাইনালের পরই সংশয় হতো আবার কি খেলতে পারব? নিজের সর্বোচ্চটা যদি না দেওয়া যায় তাহলে কিন্তু যে কারও কাছেই হারতে হবে। এমনকি ফাইনাল চলার সময়ও আমার সন্দেহ ছিল পারব কিনা। আর সন্দেহ ছিল বলেই কিন্তু এখন বড় নিঃশ্বাস নিতে পারছি।'