'আইপিএলে অনেক কিছু শেখার আছে'

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

৪ নভেম্বর থেকে আরব আমিরাতের শারজায় শুরু হবে নারী আইপিএলের তৃতীয় আসর। ভেলোসিটির হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো খেলবেন পেসার জাহানারা আলম। তার সঙ্গী হচ্ছেন সালমা খাতুন। ট্রেইলব্লেজার্সে খেলবেন তিনি। ২১ অক্টোবর আরব আমিরাতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন দুজনেই। নিউ নরমাল সময়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে সমকালের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন জাহানারা

সমকাল: গতবারের দলে খেলবেন এবারও। খুব খুশি নিশ্চয়ই?

জাহানারা: আবার আইপিএলে সুযোগ পাওয়ায় আমি খুশি। গতবারের দলে সুযোগ দেওয়ায় আইপিএল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। যেখানে চেনা-পরিচিত ক্রিকেটারদের পাব। সুস্থ থাকলে ভালো খেলার লক্ষ্য থাকবে।

সমকাল: নারীদের আইপিএলে ক্রিকেটের মান কেমন?

জাহানারা: এ ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো অন্য উচ্চতায় রয়েছে। যেমন আমরা চারটি টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছি। বিশ্বকাপ বড় আসর, নানারকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আইপিএলেও তাই। প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলায়। স্কিল ও ফিটনেস লেভেল অত্যন্ত উঁচু মানের। গতবার খেলার পর আমার উপলব্ধি, ভারতের নারী ক্রিকেটের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে। ওই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আমাদের কয়েক ধাপ এগোতে হবে। আমি আইপিএল থেকে ফিরে নিজের উন্নতির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশ্বের সব জায়গা থেকে ক্রিকেটার আসে আইপিএলে। ক্রিকেটের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে। ওগুলো শিখে নিজেদের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারলে দেশের নারী ক্রিকেট এগোবে। গতবার আমি একা খেলেছি, এবার দু'জন খেলব। এবার দু'জনের অভিজ্ঞতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব।

সমকাল: আইপিএলে নারী ক্রিকেটের পরিসর বাড়লে বাংলাদেশের মেয়েদের সুযোগ কীভাবে বাড়বে মনে করেন?

জাহানারা: আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের চার থেকে পাঁচজন মেয়ে আইপিএলে খেলার যোগ্যতা রাখে। আমার বিশ্বাস, যখন দলের সংখ্যা বাড়বে তখন বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বাড়বে।

সমকাল: প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার রোমাঞ্চ কাজ করছে?

জাহানারা: আইপিএল দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটে ফেরার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে রয়েছি। অনেকে বলছে ম্যাচ প্র্যাকটিস ছাড়া খেলতে যাচ্ছি। ম্যাচ না খেললেও আমার প্রস্তুতি ভালো। বর্তমান বাস্তবতায় এর চেয়ে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভবও নয়। বিসিবি থেকে সব ধরনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কুকাবুরা বল দিয়েছে, ফ্লাডলাইটে অনুশীলন করছি। বিসিবি একাডেমিতে রেখেছে বায়োসিকিউর বাবলে। আমি খুব খুশি। ছেলেদের ক্রিকেট মাঠে গড়িয়েছে। এটা ক্রিকেটের শুভসূচনা। আস্তে আস্তে মেয়েদের ক্রিকেটও মাঠে ফিরবে। হয়তো বা তিন মাস পরে হবে। আগামী বছর খুবই ব্যস্ত সূচি আমাদের। জানুয়ারি থেকে আমরা যে ক্রিকেটে ফিরব, ওই ফেরাটা যেন ভালো হয়। সবাই যেন ফিট থাকে ম্যাচ খেলার জন্য।

সমকাল: বায়ো-বাবলের নতুন অভিজ্ঞতা হবে আইপিএলে...

জাহানারা: বিসিবির বায়ো-বাবলে রয়েছি। এরই মধ্যে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। ওখানে গিয়ে সুস্থ থাকলে ম্যাচ খেলতে পারব। চেষ্টা করব ভালো খেলতে। সুস্থভাবে দেশে ফিরতে।

সমকাল: নিউ নরমাল সময়ে পেস বোলারদের তো অনেক কিছু করতে মানা?

জাহানারা: আমি বল শাইন করতে স্যালাইভা খুব একটা ব্যবহার করি না। পেস বোলারদের বল শাইন করতে প্রচুর স্যালাইভা ও ঘাম ব্যবহার করতে হয়। প্যান্টে বল ঘষতে হয়। আমার এই অভ্যাস কম। যেটুকু বদ অভ্যাস আছে, সেটুকুও সতর্কভাবে পরিহার করতে পারব। এত বছরের ক্রিকেটে হাতেগোনা কয়েকবার বলে স্যালাইভা ব্যবহার করেছি। এখন সেটা একেবারেই করব না।