খরচ কমাতে ২১ দিনের লম্বা বিরতি তামিমদের

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেখতে দেখতে ক্রিকেটাররা এক মাস পার করে দিলেন বায়োসিকিউর বাবলে। মাঝে দুটি ছোট্ট বিরতিও দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটারদের একঘেয়েমি কাটাতে। এই বিরতিও বায়োসিকিউর বাবল পরিকল্পনার অংশ। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনাল শেষ হলে আবার বায়ো-বাবল থেকে ছুটি দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের। এবার একটু লম্বা বিরতি দেওয়ার পরিকল্পনা। এইচপি ক্রিকেটারদের একাডেমির ক্যাম্পে রাখা হলেও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে যার বাড়ি ফিরে যাবেন ২১ দিনের জন্য। বাসা থেকেই প্র্যাকটিস করবেন তারা। টি২০ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আবার বায়ো-বাবলে হোটেলে উঠবেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এই লম্বা বিরতির পেছনে রয়েছে আর্থিক কারণ। বিসিবি সিইও জানান, খরচে ভারসাম্য রাখতে বিরতি দিয়ে ক্যাম্প করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউনরমাল সময়ে বায়ো-বাবল ছাড়া কোনো ক্যাম্প বা টুর্নামেন্ট করা সম্ভব নয়। ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার স্বার্থে সেটা করছে বিসিবি। এই প্রক্রিয়া কত দিন চালিয়ে যেতে হবে, কেউ জানে না। টানা ক্যাম্প, টুর্নামেন্ট বা সিরিজ করতে হলে বিসিবি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। বার্ষিক খরচ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। বিশাল ব্যয় নির্বাহে হাত দিতে হবে সঞ্চিত টাকায়। কারণ, ক্রিকেট থেকে গত ছয় মাসে কোনো আয় করেনি বোর্ড। টিভি স্বত্ব ও টাইটেল স্পন্সর না থাকায় নিকট ভবিষ্যতে আয় করার সুযোগও নেই। ফলে হিসাব করে খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ত্রিদলীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের জন্যই বিশাল খরচ হচ্ছে বোর্ডের। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ম্যাচ অফিশিয়াল মিলে ৬৫ জনকে হোটেলে রাখতে হয়েছে। বিসিবি একাডেমি ভবনেও রাখা হয়েছে এইচপি ক্রিকেটারদের একটি বড় অংশ। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কভিড টেস্ট করতে হচ্ছে নিয়মিত। জাতীয় দল, এইচপি ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের বিভিন্ন সময় কভিড টেস্ট করাতে বেশ খরচ গেছে বোর্ডের। ১৫ নভেম্বর থেকে পাঁচ বা ছয় দলের টি২০ টুর্নামেন্ট হলে বিশাল বাজেট নিয়ে নামতে হবে বিসিবিকে। সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'বায়ো-বাবলে বিশাল খরচ। টানা ক্যাম্প করতে হলে ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। তাই বিরতি দিয়েই এগোতে হবে আমাদের। কারণ, ক্যাম্প এবং সিরিজ চলমান প্রক্রিয়া।' ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেও লম্বা বিরতি প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার, 'দেশে হোটেলে থাকা খুব কঠিন। ঢাকায় পরিবার আছে, কিন্তু দেখা হচ্ছে না। এভাবে টানা ক্যাম্প হওয়া সম্ভব নয়। বিরতি লাগবেই।' বিরতি হলে দু'দিক থেকেই লাভ।