লাতিনে ঝুঁকছে ক্লাবগুলো

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২১

একসময় বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে বিদেশি ফুটবলার মানেই ছিল আফ্রিকান। এই যেমন আশির দশকের মাঝ-মাঝিতে ঢাকার ফুটবল মাতিয়েছিলেন নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এমেকা ইজিউগো। এরপর তো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আফ্রিকানদের লাইন পড়ে যায়। বিশেষ করে ২০০৭ সালে পেশাদার ফুটবল যুগে প্রবেশের পর ঢাকার ফুটবলে শুধুই ছিল নাইজেরিয়া, ঘানা, ক্যামেরুন, গিনি, গাম্বিয়ান ফুটবলারদের দাপট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় ক্লাবগুলোর রুচিবোধ আর খেলোয়াড় কেনার বাজার। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ফুটবলে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ঘরোয়া লিগের মান যেমন বেড়েছে, তেমনি করে আসছে ভালোমানের বিদেশি। বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে যাওয়া আফ্রিকানদের শক্তিনির্ভর ফুটবলে এখন আর আগ্রহ নেই ক্লাবগুলোর। আগে থেকেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার শৈল্পিক ফুটবলে মুগ্ধ সবাই। তাই নান্দনিক ফুটবল দেখার জন্য লাতিনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে ক্লাবগুলো। চলতি মৌসুমে লাতিন আমেরিকার মোট ৭ ফুটবলার খেলছেন ঘরোয়া আসরে। এই বিবর্তন কেন, কীভাবে- এসব নিয়ে বিস্তর লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়



ফুটবলের নান্দনিকের ছোঁয়া এসেছে লাতিন থেকে। চোখ জুড়ানো সুন্দরের পসরা সাজিয়ে বরাবরই হাজির হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল। আর লাতিন ফুটবলকে বিচার করা হয় তার সৌন্দর্য দিয়ে। এখন ইউরোপেও দেখা যায় শৈল্পিক ফুটবল। লাতিন মানেই তো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ দেখা বাংলাদেশিরাও লাতিন ফুটবলের প্রেমে পড়েছে অনেক আগেই। গত কয়েক মৌসুম ধরে লাতিনদের সুন্দর ফুটবল দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশেও। এক সময় আফ্রিকান আধিপত্য থাকা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে লাতিন ফুটবলার। চলতি মৌসুমে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মোট সাত ফুটবলার নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবে। ব্যক্তিগত স্কিল, পাসিং, চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ইতোমধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন জোনাথন, রবসন, রাউল অস্কারের মতো লাতিন ফুটবলাররা।

প্রিমিয়ার লিগের এই আসরে এবার মোট ৫২ বিদেশি ফুটবলার নাম লিখিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবে। এর মধ্যে ব্রাজিলের ৬ এবং আর্জেন্টিনার একজন ফুটবলারও খেলছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। ব্রাজিলের ছয় ফুটবলারের মধ্যে রবসন ও জোনাথন খেলছেন বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে। আবাহনীর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন দুই ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল এবং ফ্রান্সিকো। জিয়ান কার্লো রদ্রিগেজ শেখ রাসেলে এবং আরেক ব্রাজিলিয়ান নিক্সন খেলছেন চট্টগ্রাম আবাহনীতে। একমাত্র আর্জেন্টাইন রাউল অস্কার বেসেরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বসুন্ধরার সঙ্গে। ঘরোয়া লিগে আগের মতো নাইজেরিয়ানদের দাপট নেই। তবে এবারও সবচেয়ে বেশি নয়জন খেলোয়াড় নিবন্ধিত হয়েছে আফ্রিকান এ দেশটিরই। উজবেকিস্তান সাত, ব্রাজিল ও আইভরিকোস্টের ছয় ফুটবলার, কিরগিজস্তান, গাম্বিয়া ও মিসরের তিনজন, তাজিকিস্তান, জাপান ও ঘানার দুই ফুটবলার, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, ক্যামেরুন, বরুকিনা ফাসো, কঙ্গো, গিনি, মালি, আফগানিস্তান, আর্জেন্টিনা ও হাইতির একজন ফুটবলার এবার খেলছেন লিগে। গত কয়েক মৌসুমের পরিসংখ্যান বিশ্নেষণ করলে দেখা যায়, আফ্রিকানদের আধিপত্য কমেছে। ক্লাবগুলো এখন শারীরিক ফুটবলের চেয়ে সুন্দর ফুটবলে বেশি মনোযোগ দেওয়াতেই বেড়েছে দেশের ফুটবলের মান। মূলত ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিগে এশিয়ান কোটা বাধ্যতামূলক করার পর আফ্রিকানদের রাজ্যে ভাটা পড়ে। মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং জাপানি ফুটবলাররা বেশিরভাগ দলের রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আফ্রিকানদের শক্তিনির্ভর ফুটবল এখন দেখা যায় না। আর লাতিন আমেরিকার খেলোয়াড়রা এসে দখল করেছে ফরোয়ার্ড লাইন।

রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের হাত ধরে বিশ্বকাপ ফুটবলারের ছোঁয়া পেয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। সত্তর-আশি দশকের মতো মানসম্পন্ন ফুটবলার এখন নেই; তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় বদলে যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবল। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংসের হাত ধরেই লাতিন স্বাদ পাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীরা। গত মৌসুমে হার্নান বার্কোসের মাধ্যমে যে লাতিন স্বাদ এনেছিল কিংস, সেই ধারাটা এবারও ধরে রেখেছে তারা। এবার তো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারকে দলে নিয়ে ফেডারেশন কাপের শিরোপাও জিতেছে বসুন্ধরা। লাতিনে মুগ্ধ বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসানের বিশ্বাস ভালো মানের বিদেশিতে দেশের ফুটবলের মান আরও বাড়বে, 'ছোটবেলা থেকেই লাতিন ফুটবলের সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ। লাতিনের খেলাটায় আলাদা সৌন্দর্য আছে। সেই চিন্তাভাবনা করেই দেখলাম যে দর্শকদের যদি লাতিনের সুন্দর খেলাটা উপহার দেওয়া যায়, সেটা ভালো হয়।'

লাতিন ফুটবলারদের দলে নিতে ব্যয় করতে হচ্ছে অনেক অর্থ। কয়েকটি ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন লাতিন প্লেয়ারের যে মূল্য তাতে করে দেশের নামকরা দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় কেনা যায়। মূলত করপোরেট ক্লাবগুলোর টাকা আছে বলেই তারা লাতিন আমেরিকা থেকে ফুটবলার আনতে পেরেছে। অথচ কয়েক মৌসুম আগেই দেশের ফুটবলে লাতিন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তাই করা যেত না। মূলত ফুটবলে নতুনত্ব আনতেই লাতিনে ক্লাবগুলো ঝুঁকছে বলে মনে করেন সাবেক ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু, 'লাতিনরা প্রতি মুহূর্তে ইনোভেটিভ। আফ্রিকানরা কোচ যা শেখাল তা মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। আর ওরা তো নিজেরাই উদ্ভাবক। ট্রেনিংয়ের বাইরেও দেখা যায় তারা ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করে। আসলে তারা আর্টিস্টিকের চেয়েও বেশি। যে কারণে তাদের খেলা দেখতে ভালো লাগে।'



আগ্রহ বেড়েছে বাংলাদেশ সম্পর্কে

ক্লাবগুলোর চাওয়ার সঙ্গে টাকার অঙ্ক মিলে যাওয়ায় ঢাকার ফুটবলে আসতে আগ্রহ বাড়ছে লাতিনদের। এজেন্টের মাধ্যমে তারা ঢাকার ফুটবলে নাম লেখাচ্ছেন। এ ছাড়া করোনার কারণে অনেক দেশে খেলা না হওয়ায় ফুটবলাররা ফ্রি ছিলেন। তখন এজেন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ঢাকার ফুটবলে নাম লেখান তারা। গত মৌসুমে আইএসএলে ভারতের চেন্নাইন এফসিতে খেলেছিলেন আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল অগাস্তো। এবার তিনি যোগ দিয়েছেন আকাশি-নীল জার্সিতে। বর্তমানে যে ক'জন লাতিন ফুটবলার বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে খেলেছেন।



'বদনাম' আছে তাই আফ্রিকানে অনীহা

একসময় ঢাকার ফুটবল মানেই ছিল আফ্রিকানদের আধিপত্য। আফ্রিকান থেকে একজন আসার পর ক্লাব কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে নিজ দেশ থেকে আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসত তারা। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এভাবে বাড়তে থাকে আফ্রিকানদের দাপট। বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে অনেকে ঘরও বেঁধেছেন। তাই হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত নাইজেরিয়া, ঘানা, ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, গিনির ফুটবলারদের। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিদেশি ফুটবলারের ৮০ শতাংশই ছিল আফ্রিকান। তার আগের মৌসুমে ছিল ৭৫ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিগে এশিয়ান কোটা বাধ্যতামূলক করার পর মূলত আফ্রিকানদের আধিপত্য কমে যায়। খেলার মানে এগিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবলারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় ক্লাবগুলোর। গত কয়েক মৌসুম তো বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে দেখা যাচ্ছে লাতিন স্বাদ। করপোরেট ক্লাবগুলো আসার পর থেকে আফ্রিকানদের প্রতি আগ্রহ না হয়ে ভালো মানের বিদেশিতে নজর দেয়। কম টাকা এবং খুব সহজভাবে পাওয়া যায় বলে এখনও অনেক ক্লাবই আফ্রিকানে ভরসা রাখছে। তবে বেশিরভাগই শারীরিক শক্তির ফুটবলের চেয়ে সুন্দর ফুটবলের দিকে ঝুঁকছে। তাই প্রতিনিয়ত অনীহা বাড়ছে আফ্রিকানদের প্রতি।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ভালো মানের বিদেশি আনতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে করপোরেট দল বসুন্ধরা ক্লাব। আফ্রিকানে না ঝুঁকে কেন লাতিনে ঝুঁকছেন- এ প্রসঙ্গে ক্লাবটির সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, 'আফ্রিকানদের ব্যাপারে আমাদের সবসময় একটা অনীহা ছিল। আসলে আফ্রিকান অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় আছে কিন্তু ওদের শরীর-নির্ভর খেলার চেয়ে আমরা চেয়েছি সুন্দর খেলা। আর কিছু আফ্রিকান আছে, যারা কিনা বাংলাদেশে আসার পরে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে যায়। আমরা গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখেছি। বিভিন্ন আফ্রিকান বাংলাদেশে এসে তাদের দেশে ফিরে যায় না। তারা মাদক থেকে শুরু করে জাল পাসপোর্ট, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এই কারণে আফ্রিকান খেলোয়াড় আনার ব্যাপারে আমাদের একটা নেতিবাচক ভূমিকা ছিল।' সাবেক ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপুর মতে, আফ্রিকানদের স্কিল অতটা ভালো নয়। সেই জন্যই নাকি এখন ক্লাবগুলো তাদের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে, 'আফ্রিকানদের এতদিন সস্তায় পাইছে, আর তাদেরকে চাইলেই পাওয়া যেত। দু'জন এখানে আসত, আরও দু'জনের কথা বললে ক্লাবগুলো নিয়ে আসত। আর আফ্রিকানরা শারীরিক ফুটবল খেলে বেশি। পায়ের কাজ কিংবা মাথার কাজে অত বেশি ভালো না তারা।'



আশি-নব্বইয়ে মাঠ মাতানো বিদেশিরা

আশি কিংবা নব্বই দশকের মতো ফুটবলের সেই জৌলুস এখন আর নেই। সেই সময় ঢাকার ফুটবল মাতিয়েছিলেন অনেক তারকা বিদেশি ফুটবলার। যাদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিশ্বকাপ খেলারও। ইরানের নাসের হেজাজি, ইরাকের সামির শাকিরি এবং করিম মোহাম্মদ আলভি, নাইজেরিয়ার এমেকা ইজিউগো, রাশিয়ান সের্গেই ঝুকভসহ আরও অনেক বিদেশি ফুটবলারের দুর্দান্ত স্কিল দেখেছিল সবাই। এসব তারকা খেলেছিলেন দেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। তাদের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়ে গোলের পর গোল করেছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম। তার সময়েই বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক নামিদামি তারকা খেলেছিলেন। সময়ের সঙ্গে দেশের ফুটবল রং হারায়। অতীতের স্মৃতি হাতড়ে আফসোস আর আক্ষেপ করতে দেখা যায় অনেককেই। না চাইলেও চলে আসে সেই সময়ের ফুটবলের সঙ্গে তুলনা। আসলামদের সময় যে মানের বিদেশি খেলেছিলেন, সেই মানের বিদেশি এরপর খুব কমই দেখা গেছে। তবে করপোরেট দলগুলো আসার পর প্রতি মৌসুমেই আসছে ভালোমানের বিদেশি। বিশেষ করে লাতিন স্বাদ এখন পাচ্ছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। অতীত এবং বর্তমানের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে স্মৃতিবিজড়িত হয়ে ওঠেন সাবেক ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু এবং আসলাম। লাতিন ফুটবলাররা আসায় বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের মান বাড়ছে বলেও মনে করেন তারা।

গোলাম সারোয়ার টিপুর সময়ে করাচি, শ্রীলঙ্কা থেকে প্রচুর ফুটবলার খেলেছিলেন ঢাকার মাঠে। নিজেদের সময়ের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমাদের সময়ে আফ্রিকান খেলোয়াড় ছিল না। লাতিন খেলোয়াড় চিন্তাই করা যেত না। ১৯৬১ থেকে শুরু করে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ঢাকায় তো বেশিরভাগই খেলেছিলেন করাচির ফুটবলাররা। তার পরে শ্রীলঙ্কান প্লেয়াররা এসেছিলেন। আর লাহোরের, পেশোয়ার, করাচির শত শত খেলোয়াড় ঢাকায় খেলেছিলেন।' আরেক সাবেক ফুটবলার আসলাম তার সময় আর এখনকার সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, 'ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের বিশ্বকাপ খেলা ওই মানের প্লেয়াররা তো আমাদের দেশে আসবে না। অনেক টাকার ব্যাপার। সেদিক থেকে আমাদের সময়ে যে মানের প্লেয়ার এসেছে, এখন তো আর এই ধরনের প্লেয়ার আসছে না। আপনি দেখেন ইরানের, রাশিয়ার যেসব প্লেয়াররা বিশ্বকাপ খেলেছিল, একসময় তারা ঢাকায় এসেছিল। কিন্তু এখন ওই ধরনের খেলোয়াড় আসছে না। ইরাক থেকে সামির সাকিরি এরা কিন্তু বিশ্বকাপ খেলে এসেছে। আমাদের সময়ে কোনো লাতিন ফুটবলারও খেলেনি। তখন আফ্রিকা থেকে মোহামেডানে এসেছিলেন এমেকা। ইউরোপিয়ান ফুটবলাররা ছিল বেশি। ইরান থেকে ওদের জাতীয় দলের ফুটবলার সদ্য বিশ্বকাপ খেলে এসেছিল। তাদের টপকে কিন্তু আমি লোকাল খেলোয়াড় হিসেবে টপ স্কোরার হয়েছিলাম।'



ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাফুফে

তার সময়ে তিনি ছিলেন সবার সেরা। এখনও বাংলাদেশের ফুটবলের কথা উঠলে সবার আগে চলে আসবে কাজী সালাউদ্দিনের নাম। কিংবদন্তি এ ফুটবলার যখন খেলেছিলেন তখন করাচি, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, ইরান থেকে ফুটবলাররা এসেছিল। কালের বিবর্তনে আফ্রিকানরাও নাম লেখাতে থাকে ঢাকার ফুটবলে। গত কয়েক মৌসুমে বাংলাদেশের ফুটবলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা আসছে। এটা দেশের ফুটবলের জন্য ভীষণ ইতিবাচক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, 'ভালো মানের বিদেশি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ভীষণ ইতিবাচক। আপনি যখন ভালো প্লেয়ারের সঙ্গে খেলবেন আপনি তো শিখবেন। আপনাকে আমি একটা উদাহরণ দিই- ইংল্যান্ডে খুব ভালো ফুটবল খেলা হয়। ইংল্যান্ডের ১০ বছর বয়সী বাচ্চারা ফুটবল খেললে কোন লিগ খেলে, ইংলিশ লিগ খেলে। বাংলাদেশের বাচ্চারা কোন লিগ খেলে, বাংলাদেশ লিগে। কারণ, ইংল্যান্ডে অনুশীলন করে কোয়ালিটি প্লেয়ারের সঙ্গে। আমি যদি কোয়ালিটি প্লেয়ারের সঙ্গে অনুশীলন করি কিংবা খেলি তাহলে আমার মানও বাড়বে। আর আমি যদি কোয়ালিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে না খেলি, তাহলে আমার মান তো বাড়বে না।'

কিন্তু বিদেশি আসায় দেশি ফরোয়ার্ডরা গোল পাচ্ছেন না। যে কারণে জাতীয় দলে স্কোরিংয়ের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এমনটা মানতে নারাজ সালাউদ্দিন, 'অনেক ক্লাবই বিদেশি স্ট্রাইকার নিয়ে আসছে যে কারণে আমাদের ফরোয়ার্ডরা গোল পায় না; এটা একটা ভুল ধারণা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবাহনী-মোহামেডান দুইটা টপ ক্লাব ছিল। স্পেনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা হয় রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার মধ্যে। স্পেন বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই দুইটা ক্লাবের ফরোয়ার্ড হওয়ার কথা স্পেনেরই। তাহলে বার্সেলোনার স্ট্রাইকার হলো মেসি আর সুয়ারেজ (বর্তমানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে); দুইটাই বিদেশি। আর রিয়ালের স্ট্রাইকার ছিল রোনালদো এবং বর্তমানে আছেন বেনজেমা। এই দুইটাও তো বিদেশি ফরোয়ার্ড। তাহলে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কীভাবে হলো?'



কোচরাও চান তাদের

অনেকের মতে, লাতিনরা সুন্দর ফুটবল খেলে বলেই তাদের প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে দেশি ক্লাবগুলোর। কিন্তু সবার চেয়ে ভিন্ন ধারণা চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ একেএম মারুফুল হকের। 'একটা টিমের কোচ যখন তাত্ত্বিক জ্ঞানসম্পন্ন কোচ হন, তখন তারা কিন্তু টেকনিক্যালি সাউন্ড প্লেয়ার খোঁজেন। আফ্রিকান প্লেয়াররা কিন্তু টেকটিক্যাল, টেকনিক্যালি সাউন্ড না। তাদের ফুটবল একাডেমিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। খেলতে খেলতে চলে আসে। যেসব আফ্রিকানের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে, তারা কিন্তু বাংলাদেশে আসবে না, ইউরোপে চলে যাবে। ফুটবল একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, স্ট্রিট ফুটবল কিংবা পার্ক ফুটবল খেলত, ওই সব আফ্রিকানরাই বাংলাদেশে আসত। সবাই অবশ্য না।

সুন্দর ফুটবল নয়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের দুর্বলতার কারণেই তারা লাতিনে ঝুঁকছেন বলে মনে করেন শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু, 'ব্রাজিলিয়ানরা কিন্তু সুন্দর খেলা এখন আর খেলে না। লাতিন ফুটবল এখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাও খেলে না। ছন্দময় ফুটবল এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। মেইন হচ্ছে যে, আমাদের সব সময় ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার নামের প্রতি একটা দুর্বলতা থাকে, তাদের আনার পেছনেও এটা একটা কারণ হতে পারে। আর 'আমরা যেহেতু এশিয়ান প্লেয়ার নিতে পারছি, নন এশিয়ান প্লেয়ারদের মধ্যে স্ট্রাইকার হিসেবে আমরা লাতিনদের কথা চিন্তা করছি।'



খাবারের ঝালটাই যা একটু সমস্যা

ঢাকার যানজটসহ আরও নানান সমস্যায় মাত্র এক ম্যাচ খেলেই ইতালিয়ান ক্লাবে যোগ দিয়েছেন হার্নান বার্কোস। বার্কোস চলে গেলেও এই মৌসুমে বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মিলে মোট সাত ফুটবলার এসেছেন। লাতিন আমেরিকার বলে তাদের লাইফস্টাইলটা ভিন্ন। অনেকে পরিবার নিয়ে ঢাকাতে ক্লাবের দেওয়া ভাড়া বাসায় থাকছেন। নিজেদের মতো করে চলছেন। কয়েকজন আবার থাকছেন নিজস্ব ক্লাবে। তবে তাদের বড় সমস্যা হচ্ছে খাবারে। লাতিন প্লেয়াররা ঝাল কম পছন্দ করেন। শুরুতে বাংলাদেশের খাবার খেতে সমস্যা হয়েছিল তাদের। আস্তে আস্তে এখন মানিয়ে নিয়েছেন রাউল-রবসনরা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় জন্ম বলে তারা বিনোদনপাগল। কিন্তু করোনার কারণে দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কনসার্ট হচ্ছে না। তাই নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে গান-বাজনায় মগ্ন থাকেন তারা।



প্রথা ভেঙেছে করপোরেট দলগুলো

২০১৮-১৯ মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে আবির্ভাব হয় বসুন্ধরা কিংসের। ক্লাব ফুটবলে ভালোমানের বিদেশি আনার রূপকার করপোরেট এ ক্লাবটি। তাদের মতো আরেক করপোরেট দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবও তাদের পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। শারীরিক শক্তি নির্ভর খেলোয়াড়ের বদলে সুন্দর ফুটবলের প্রতি আগ্রহেই মানসম্পন্ন বিদেশি এনেছে সাইফ। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দাপট দেখানো ঢাকা আবাহনীও এবার এনেছে দুই ব্রাজিলিয়ান।

ভালোমানের বিদেশিতে মান বাড়ছে দেশের ফুটবলের। এটার জন্য করপোরেট দলগুলোর মুখ্য ভূমিকা দেখছেন বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান, 'বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এটা একটা ইতিবাচক দিক। নিঃসন্দেহে ভালোমানের বিদেশি আনার পেছনে করপোরেট দলগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি অন্য দলগুলোও চেষ্টা করছে ভালোমানের বিদেশি আনার জন্য।' ইমরুলের মতো বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও মনে করছেন করপোরেট দলগুলোর কারণেই ফুটবলের মান বাড়ছে, 'ফুটবলের পুরোটাই করপোরেট। আপনি ফুটবল দুনিয়ার চিত্র দেখেন। সেখানে ক্লাবগুলোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। আপনি দেখেন ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে ইত্তিহাদ লেখা, লিভারপুলের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লেখা থাকে। তাই করপোরেট প্রতিষ্ঠান যতদিন পর্যন্ত না আসবে, ততদিন কিন্তু ফুটবলে উন্নতি আসবে না। এটা খুব ভালো একটা দিক যে, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ফুটবলে আসছে। আপনি দেখেন আবাহনী চালায় কিন্তু করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা কিংস চালায় বসুন্ধরা গ্রুপ। যত সফলতা সবগুলো কিন্তু করপোরেট ক্লাবগুলোর কারণেই।' করপোরেট আসায় ভালোমানের বিদেশির দিকে নজর দিয়েছেন বলে বিশ্বাস শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচ সাইফুল বারী টিটুর।



প্রিমিয়ার লিগে খেলা উল্লেখযোগ্য বিদেশি ফুটবলার

= ২০২০-২০২১ (৫২ জন)

লাতিন :লোপেজ রদ্রিগুয়েজ, ফ্রান্সিসকো রদ্রিগুয়েজ, রাফায়েল অগুস্তো, জোনাথন ফার্নান্দেজ, রবসন দ্য সিলভা, নিক্সন গুয়েলার্ম, রাউল অস্কার বেসেরা।

অন্যান্য :অ্যাশরোরভ, দিলশোধ, খুরশেদ বেকনাজরভ, বখতিয়ার, আখমেদভ, সাইঘানি, আকবারালি, ওটাবেক, সিরোজুদ্দিন, শুকর আলী, কোচনেভ, ফোজিলভ, খাশানবোয়েভ, নাগাতা, ইউসুকে কাতো, ক্রিশ্চিয়ান,খালেদ, মোনেকে, নুরাত, ওকোলি, কেনেথ, ম্যাথিউ, চিজোবা, ওসাগি মানডে, স্যামসন, অ্যারিওচুকো।



=২০১৯-২০২০ (১৩০ জন)

লাতিন :হার্নান বার্কোস, নিক্সন গুয়েলমে, পেদ্রো হেনড্রিক, আলবার্ট, দেলমন্তে, ম্যালিসন।

অন্যান্য :কলিনড্রেস, কিংসলে, সানডে, ওমর জোবে, এমেরি বায়েসিংয়ে, চার্লস দিদিয়ের, ম্যাথু চিনেদু, বালো ফামুসা, সলোমন কিং ক্যানফর্ম, ওবি মোনেকে, মমদো বাহ, কিংসলে চিগোজি, সুলেমান দিয়াবাতে, রাফায়েল ওদোইন, পল এমিলি, ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে, স্ট্যানলি, কার্ভেন্স বেলফোর্ট।



=২০১৮-২০১৯ (৭০ জন)

লাতিন :আলেসান্দ্রো সেলিন, লুসিয়ানো, লিওনার্দো লিমা, এভারটন, অ্যালেক্স, ভিনিসিয়াস, কর্ডোভা, পেদ্রো হেনরিক।

অন্যান্য :রাফায়েল, সানডে, সিও জুনাপিও, বাঙ্গুরা, বালো ফামুসা, পল এমিলি, সলোমন কিং ক্যানফর্ম, দিয়াবাতে, ম্যাথু চিনেদু, মমদো বাহ, জেমস মগা, ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে, এনকুচা, স্যামসন, কিংসলে ওশিয়োখা, মাগালান, বেলফোর্ট, জ্যাক ড্যানিয়েলস, ড্যানিয়েল কলিনড্রেস।



= ২০১৭ (৩৯ জন)

লাতিন :আন্দ্রেস কর্ডোভা, হ্যাম্বার ভ্যালেন্সিয়া।

অন্যান্য :সলোমন, রাফায়েল, কিংসলে, সিও জুনাপিও, সানডে, বুকোলা, এলিটা, এমেকা, ম্যাথু চিনেদু, মাগালান, অ্যালিসন মমদো বাহ, ইসমাইল বাঙ্গুরা, ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে, স্যামসন ইলিয়াসু।



= ২০১৫-২০১৬ (৪৮ জন)

ঈসা, টাইসন, অ্যাকন, ইউকো, ডার্বোয়ে, ডার্লিংটন, ওয়েডসন, নাগি, কসোকো, কলিন্স, পল এমিলি, ইকাঙ্গা, লন্ড্রি, বাঙ্গুরা, সিও জুনাপিও, দাউদা সিসে, বেনজামিন, সামাদ ইউসুফ, সানডে, কামারা, সেইন্ট প্রিক্স, ওয়ালসন, কিংসলে, মুরো, ফেলিক্স, মুসা, ইলিয়াসো, কিংসলে, বায়েবেক।



=২০১৪-২০১৫ (৩৯ জন)

ডার্বোয়ে, ওয়েডসন, শরিফ, সেইন্ট প্রিক্স, ডার্লিংটন, সামাদ, একসোরবা, গ্যাবর, মরিসন, হেনরি, জাগনে, ফ্রেংকি, দিয়াকাতে, কামারা, বাঙ্গুরা, বেনজামিন, সিলা, অগাস্টিন, অ্যাকন, কেনফ্যাক, জানকাসা, সিমন, ঈসা, পিটার, ফেলিক্স, হেনরি, কন্তে, সলোমন, আমাদি, লামিন।



ষ ২০১৩-২০১৪ (৭৪ জন)

ফ্রান্সিসকো, রিকার্ডো, রুক্স, প্যাসকেল, রজার, ইভান, অ্যান্তোনি, ঈসা, কিংসলে, অ্যাকন, অগাস্টিন, হেনরি, রেইমন্ড, গ্যাব্রিয়েল, চিনেদু, গিয়ারি, কন্তে, রাফায়েল, ওলাদিকপিকো, মেন্ডি, ডার্বোয়ে, জোবে, সামাদ, থমাস, মরিসন, সুজা, ক্যাস্ট্রো, প্যাট্রিক, ইব্রাহিম, সুয়ারেস, মুস্তফা, ইকেচুকো, সনি নর্দে, ওয়েডসন, আব্দুল্লাহি।


 = ২০১২-২০১৩ (৬৪ জন)

থিয়গো, ডার্লিংটন, বেনজামিন, বায়েবেক, চিগোজি, ইব্রাহিম, মরিসন, ইকাঙ্গা, বাঙ্গুরা, হেনরি, কার্লো, ওয়েলিংটন, সামাদ, ফ্রাংক, থমাস, সনি নর্দে, তারিক, প্যাট্রিক, আব্বাস, মাইকেল, ফ্রাংকিস, কন্তে, ইদ্রিস, মরিস, স্যামসন, কিংসলে, গার্সিয়া, জানকাসা, দুম্বা, ইকেচুকো, কন্তে, চিনেদু, সানডে, মানডে, অ্যান্তোনি, কামারা, মুস্তফা।



= ২০১০ (৪৬ জন)

সামাদ, ইব্রাহিম, ফ্রাংক, ইউসুফ, চার্লস, মুরো, ওমারি, আব্বাস, এমেকা, আল-হাসান, আমানি, ইসমাইল, জোভান, আলেক্সান্ডার, মুগো, সার্জিও, দ্রাগন, পিটার, বানেই, কিংসলে, মোসেস, লুসিয়ানো, মগা, এমানুয়েল, রিচার্ড, দানিলো, বেনটিল, এভারটন, বাঙ্গুরা, মুস্তফা, বেনজামিন, ইদ্রিস, ফেলিক্স, মিলার, মার্কসন, জেরি ও ব্লামো।



=২০০৯ (৩৫ জন)

সামাদ, ইব্রাহিম, ফেলিক্স, এমেকা, এনামুয়েল, বুকোলা, এমেকা, জনসন, ভিক্টর, দুম্বা, ফেলিক্স, জেমস, ইনুশাহ, হাফান, মুরো, আমাদু, বেনটিল, হেনরি, পেলে দোয়ে, মুলবা, গ্রে, পিটার, ফ্রাংকিস, সুলেমান, রাফায়েল, মাজেমু, মোসেস, ইদি, মুতেবি, মুস্তফা, বেনজামিন, ব্লামো, কন্তে ও ভিক্টর।



= ২০০৮ (২৯ জন)

এমেকা, সামাদ, আউদু, পল, বুকোলা, খালেদ, ডেভিস, বৌদ্রিফ, ইগির, ফ্রেডেরিক, ইকেচুকো, এলিজাহ, হেনরি, ওনিয়া, আমাদু, ফ্রাংকিস, ইদ্রিস, বাকারে, ডমিনিক, লাকি, কালু, মুস্তফা, জেরি, গিচানা, রাফায়েল, কামারা, সান্তোস, লিম্বু ও গুরুং।



= ২০০৭ (৪৩ জন)

সানচেজ, কার্লোস, হেক্টর, আউদু, ওবি মিকেল, কাবুয়ে, থমাস, বেনিন, ইব্রাহিম, জেমস, ইনানি, এলিজাহ, স্যামুয়েল, সান্তোস, শ্রেষ্ঠা, কামারা, অ্যান্থনি, মুমোলো, ইদ্রিস, আমাদু, ওপারা, মুলবাহ, ফ্রাংকিস, ওদাফে, ইকেচুকো, এমেকা, ইকোগো।

তথ্যসূত্র :বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন