চৌত্রিশে পা দিচ্ছেন আজ। কিন্তু এখনও যেন তিনি টগবগে যুবক লুইস সুয়ারেজ। প্রতি ম্যাচেই অবদান রাখছেন; কখনও গোল করে, আবার কখনও গোল করিয়ে। তাতে চলমান মৌসুমে এরই মধ্যে লিগের সেরা গোলদাতার আসনে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে জায়গা করে নেন লুইস সুয়ারেজ। আর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদও উড়ছে- মূলত দিয়েগো সিমিওনের মুখের হাসিটা ধরে রেখেছেন সুয়ারেজ। ১৪ ম্যাচে ১১ গোল, দুই অ্যাসিস্ট করেছেন এই উরুগুয়ে তারকা। যার মধ্যে অধিকাংশ দিনই করেছেন উইনিং গোল। এই যেমন সর্বশেষ এইবারের বিপক্ষে ত্রাতার ভূমিকায় দেখা মেলে সুয়ারেজকে। অথচ তাকেই কিনা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল বার্সেলোনা। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বাজেভাবে হারার পর অনেকেই ক্লাবের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বার্তোমেউর সমালোচনা করেন তারকা ফুটবলাররা। বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভালোভাবে নেয়নি। সুয়ারেজের বিষয়টি ছিল একেবারে ব্যতিক্রম। তিনি নিজ থেকে চাননি বার্সা ছাড়তে। এমনও বলেছেন, যদি তাকে সাইডবেঞ্চেও বসিয়ে রাখা হয়, তবু বার্সায় থাকতে চান। কিন্তু ক্লাব কিছুতেই এসব কানে নেয়নি। উল্টো তার মনের বিরুদ্ধে অ্যাতলেটিকোর কাছে সুয়ারেজকে বেচে দেয়।

কথায় আছে 'গাছ তোর নাম কী, ফলেই পরিচয়'। সুয়ারেজের বেলায় তেমনটাই মনে হবে। যাকে চিনল না বার্সা, সেই সুয়ারেজই এখন অ্যাতলেটিকোর আক্রমণভাগের প্রধান সেনানী। গত কয়েক মৌসুমে লিগের শিরোপার জন্য দাঁতে দাঁত লাগিয়ে লড়াই করলেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নোঙর করতে পারেনি। এবার হচ্ছে তার উল্টো। সুয়ারেজ যাওয়ার পরই বদলে গেল দৃশ্যপট। একের পর এক জয়ে অ্যাতলেটিকোই লিগের নাম্বার ওয়ান পজিশনে। যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট তফাৎ ৭। আর বার্সার সঙ্গে ১০ পয়েন্ট। সেইসঙ্গে এ দুই দলের চেয়ে এক ম্যাচ কমও খেলেছে ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোর ক্লাবটি। সে ক্ষেত্রে বড় কোনো ভুল না হলে সুয়ারেজের অ্যাতলেটিকোকে ধরা কঠিন হয়ে যাবে রিয়াল-বার্সার। তেমনটা হলে শিরোপাও যাবে লস রোজি ব্লাঙ্কোসদের শোকেসে।

মন্তব্য করুন