শহরের প্রাচীন দিঘি ধর্মসাগরের জলাধারের পাশে অপরূপ সৌন্দর্যের স্টেডিয়াম কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম। কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পাশে এই স্টেডিয়ামের বাইরের পরিবেশটা ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মতোই। কিন্তু ভেতরের সবুজ গালিচা দেখলে যে কেউই বলতে বাধ্য হবেন ঢাকার চেয়েও সেরা এই স্টেডিয়াম। মনোমুগ্ধকর এই ভেন্যুতেই নান্দনিক ফুটবল খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। ব্রাদার্স ইউনিয়নের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়নরা। গতকাল কুমিল্লায় নিজেদের হোম ভেন্যুতে রবসন দ্য সিলভার একমাত্র গোলে কিংস জিতেছে ১-০ গোলে।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম যেন দুই ভাগে বিভক্ত! অর্ধেক সাজানো হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের লাল গ্যালারি, আর অর্ধেক হলো মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের সাদা গ্যালারি। অবশ্য কুমিল্লার এই স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দুই দলেরই হোম ভেন্যু। তাই গ্যালারিও ভাগাভাগি করে নিয়েছে বসুন্ধরা ও মোহামেডান। লাল রঙে করা পূর্ব গ্যালারি রাঙিয়ে দেন কিংসের সমর্থকরা। ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে বাস ভরে দর্শক আসতে দেখা গেছে স্টেডিয়ামে। করোনাভাইরাসের মধ্যেও হাজার পাঁচেক দর্শকের উপস্থিতি কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ঢাকার বাইরের ফুটবল মানেই তো দর্শক। আর ম্যাচটি যখন ঘরের মাঠে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ফুটবলারের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার তিন তারকা আছেন। চোখের সামনে তাদের খেলা না দেখে কি পারা যায়? তাই তো স্বাস্থ্যবিধি মানার তোয়াক্কা না করা ফুটবলপ্রেমীরা লাতিন ছন্দটা উপভোগ করতে ছুটে আসেন গ্যালারিতে। ফুটবলের এ মেলায় ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্নেষণ করলে বসুন্ধরা ছিল দুর্দান্ত। রবসন দ্য সিলভা, জোনাথন ফার্নান্দেজ ও রাউল অস্কার বেসেরার সব প্রচেষ্টাই নস্যাৎ করে দেয় ব্রাদার্সের রক্ষণ। তিতুমীর চৌধুরী প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে অস্কার ব্রুজোনের চিন্তাটা আরও বাড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুটি পরিবর্তন আনেন অস্কার। মাহবুবুর রহমান সুফিলের জায়গায় মতিন মিয়া এবং বিপলুর জায়গায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামলে পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। দুই বদলিতেই গোলের খাতা খোলে বসুন্ধরার। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে কিংসকে গোলের আনন্দে মাতান ব্রাজিলিয়ান রবসন। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বাঁ পায়ের গড়ানো ক্রস খুঁজে নেয় অনেকটা অরক্ষিত থাকা রবসনকে। ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন তিনি। জেগে ওঠে কিংসের গ্যালারি। লিগে এটা রবসনের তৃতীয় গোল।

ব্রাজিলিয়ান রবসনের ম্যাচটি হতে পারত আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথনেরও। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া জোরালো শট ব্রাদার্স গোলরক্ষক তিতুমীর ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকালে মাথায় হাত উঠে যায় জোনাথনের। ব্যবধান বাড়ানোর শেষ সুযোগটি নষ্ট হলেও কুমিল্লা থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্টের স্বস্তি নিয়ে ফিরেছেন তপু বর্মণ-বিশ্বনাথ ঘোষরা।

মন্তব্য করুন