'এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দল বাংলাদেশ'- মন্তব্যটি মাত্র দুই সপ্তাহ আগের; বলেছেন ফ্রাঙ্কলিন রোজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার কথাটি বলেছেন নিজ দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতে গিয়ে। কাইরন পোলার্ড, জেসন হোল্ডার, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরানসহ ১০ ক্রিকেটার করোনাভাইরাসকে কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেননি। তাদের না আসাকে ভর্ৎসনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশ নিয়ে ওই মন্তব্যের অবতারণা। তবে ২০০০ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রোজ যেটি বলেননি, সেটি হচ্ছে পোলার্ড বাহিনীর পাইকারি অনুপস্থিতিতে 'সবচেয়ে দুর্বল দল' হয়ে গেছে আসলে উইন্ডিজই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকার প্রথম দুটি ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানের প্রতিনিধি হিসেবে দে দলটি খেলেছে, সেটির খেলা যেন সুকুমার রায়ের বিখ্যাত সেই লাইন ক'টির মতো- 'যে সাপের চোখ নেই, শিং নেই, নোখ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস ফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস।'

নিয়মিত ক্রিকেটাররা সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) দল সাজিয়েছে নতুনদের নিয়ে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশগামী বিমানে ওঠার আগে আরেকজন বাংলাদেশে পা রাখার পর কভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ায় দল আরও অভিজ্ঞতাশূন্য হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৪ জনের এমন স্কোয়াড দাঁড়িয়েছে যে ৯ জনই কখনও ওয়ানডে খেলেননি। তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে অভিষেক করানো হয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে। কোনো দলের প্রথম ম্যাচ ছাড়া আর কখনও একসঙ্গে এত ক্রিকেটারকে অভিষেক করানোর রেকর্ড নেই। এর আগের সর্বোচ্চ ঘটনাটি ছিল ইংল্যান্ডের। ২০১৫ সালে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ নতুনকে ওয়ানডে ক্যাপ পরিয়েছিল ইংলিশরা। ঢাকায় ক্যারিবীয়রা এবার সেটিকে টপকে গেছেন বাধ্য হয়েই। কারণ, ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারই যে ছিল মাত্র পাঁচজন! টেস্ট ফরমেটকেও বিবেচনায় আনলে উইন্ডিজ অবশ্য নিজেদের এখনও ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ দলের সফরের সময় চুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতায় ক্রিস গেইল-চন্দরপলরা খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পরও এমনই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। যথাসময়ে খেলা চালাতে ক্যারিবীয় বোর্ড তখন দল বানিয়েছিল জোড়াতালি দিয়ে। পুরোনো ক্রিকেটারও পর্যাপ্ত না পাওয়ায় ৯ জুলাই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষেক করিয়ে দেওয়া হয়েছিল একসঙ্গে সাতজনকে! সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। সত্তর-আশির দশকের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেকদিন ধরেই আগের মতো দাপুটে ফর্মে নেই। সিরিজ হার বা টানা দুই-তিন ম্যাচে দুইশর কমে অলআউট হয়ে যাওয়াও বিরল নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে যে নখদন্তহীন ক্রিকেট খেলছে জেসন মোহাম্মদের দল (যিনি নিজেই শেষবার খেলেছেন দুই বছর আগে), তাতে 'সবচেয়ে দুর্বল' দলের তকমা সম্ভবত ভুল কিছুও নয়। একটি তথ্যে চোখ বুলালে যা আরও স্পষ্ট হবে। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই পাঁচ ক্যালেন্ডার বর্ষে মোট ২৬ ক্রিকেটারকে ওয়ানডে অভিষেক করিয়েছে উইন্ডিজ, বছরপ্রতি পাঁচজনের মতো করে। কিন্তু ২০২১ সালের প্রথম ম্যাচেই তারা এক দিনের ক্রিকেট ক্যাপ দিয়েছে ছয়জনকে, পরের ম্যাচে আরও একজন মিলিয়ে যা এখন সাত। ১৯৭৮ সালের পর মাত্র দু'বার (১৯৯৯ ও ২০০৯) বছরে সর্বোচ্চ ৯ জনকে অভিষেক করিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। যে 'সর্বোচ্চ' এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার উপক্রম!

মন্তব্য করুন