মেতে ওঠার অপেক্ষায় মোতেরা

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্পোর্টস ডেস্ক

মোতেরা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ যে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়, সেটিতে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-ইংল্যান্ড। আট বছর পর একই ভেন্যুতে আবারও হাজির উভয় দল। কিন্তু 'চেনা' মোতেরা এখন দু'দলের কাছেই 'অচেনা'। আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামটি সংস্কারের মাধ্যমে এতটাই বদলে গেছে যে, পিচ, গ্যালারি, ড্রেসিংরুম চিনে নিতে হচ্ছে প্রথম দেখা ভেন্যুর মতো করে। আসন সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে দর্শক ধারণক্ষমতায় ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হয়ে গেছে এটি। রেকর্ডে নাম লেখানোর দিনটিতে শুরু হচ্ছে ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার চার টেস্ট সিরিজের তৃতীয়টি। যার অন্যতম মাহাত্ম্য গোলাপি বলের দিবারাত্রির খেলা। এই ম্যাচে ভারতকে হাতছানি দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। আর চেন্নাইয়ে ঘুরে দাঁড়ানো ইংল্যান্ডের লক্ষ্য অ্যাওয়ে দিবারাত্রির খেলায় প্রথম জয়। সব মিলিয়ে মোতেরা এখন মেতে ওঠার অপেক্ষায়।

প্রথম দর্শনে মুগ্ধ তারা


কেউ মুগ্ধ, কেউ গর্বিত, কেউ অভিভূত- এভাবেই মোতেরা স্টেডিয়ামের প্রথম দর্শন নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারত ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের মতে, দর্শক-উল্লাস বিবেচনায় আইকনিক এমসিজিকে ছাড়িয়ে যাবে মোতেরা। ধারাভাষ্য দিতে আসা সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনের মতে এটি 'থিয়েটার অব ড্রিম'; ইংল্যান্ডে এই নামে ডাকা হয় ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডকে। মাঝমাঠের কোনো ঘটনায় দর্শক যখন চিৎকার করে উঠবে, সেটি 'ইলেকট্রিক' হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান অধিনায়ক জো রুট। আর জোফরা আর্চার তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দেখা 'সেরা স্টেডিয়ামে'র তকমা দিয়ে দিয়েছেন মোতেরাকে। কেবল বিদেশিরা নন, ভারতের খেলোয়াড়রাও মোতেরা সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়ামের বিশালত্ব দেখে অভিভূত। জিম, সুইমিংপুলসহ নানান সুবিধাদির কথা উল্লেখ করে টুইট করেছেন চেতেশ্বর পুজারা, 'এই মাঠ ভারতের বলে আমি গর্বিত' লিখে ক্যাপশন দিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। এ ছাড়া মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট করেছেন ঋষভ পান্ত।

বাংলাদেশের পর ইংল্যান্ড


আইসিসির অনুমোদনের পর এখন পর্যন্ত দিবারাত্রির গোলাপি বলের টেস্ট হয়েছে ১৫টি। তবে ভারত খেলেছে মাত্র দুটি। প্রথমটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে, দ্বিতীয়টি সর্বশেষ ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে। অর্থাৎ, গোলাপি বলের টেস্টে বাংলাদেশের পর ইংল্যান্ডকেই দ্বিতীয় দল হিসেবে ঘরের মাটিতে পাচ্ছে ভারত। আগের হোম ম্যাচটিতে বিরাট কোহলির দল ইনিংস ৪৬ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে, পরেরটিতে হেরে গেছে অসিদের কাছে।



বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম

দর্শক ধারণক্ষমতায় এতদিন ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজি। একসঙ্গে ৯০ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারেন মাঠটিতে। তবে মোতেরায় চার-ছক্কা বা উইকেটের সঙ্গে উল্লাসে মেতে উঠতে পারবেন এরচেয়েও বেশি দর্শক, মোট এক লাখ ১০ হাজার জন। অবশ্য মহামারির কারণে এখনই পুরো গ্যালারি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে অর্ধেক অর্থাৎ ৫৫ হাজার দর্শকের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছে। ৬৩ একর আয়তনের স্টেডিয়ামটিতে মূল মাঠের মাঝখানে পিচ আছে ১১টি। দুটি অনুশীলন মাঠে আছে আরও ৯টি; সব মিলিয়ে মোট ২০টি পিচ। আছে চারটি ড্রেসিংরুম, যেখানে জিমনেশিয়ামসহ অন্যান্য সুবিধাদিও রয়েছে। ক্লাব

হাউসে আছে থ্রিডি মিনি থিয়েটার সমৃদ্ধ ৫০টি ডিলাক্স রুম। আছে পাঁচটি স্যুট এবং ২৫ আসনবিশিষ্ট ৭৬টি করপোরেট বক্স। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একই সময়ে তিন হাজার কার ও ১০ হাজার মোটরসাইকেলের পার্কিং ব্যবস্থাও রয়েছে।