দিয়েগো সিমিওনের সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট রাউন্ডে ঘরের মাঠে এটাই তো অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের প্রথম হার। সে দিক থেকে অলিভিয়ের জিরুদ নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতেই পারেন। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের মাঝ বরাবর থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির ওভারহেডে মুহূর্তেই ভেঙে খান খান আর্জেন্টাইন কোচের গড়া রক্ষণ দেয়াল। নাগাল পাননি এখনকার সময়ের অন্যতম সেরা গোলকিপার ওবলাকও। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই নির্ধারণ হয় জয়-পরাজয়। শেষ ষোলোর দুই লেগের প্রথমটিতে এক গোলের জয় চেলসির জন্য অতটা স্বস্তির না হলেও কিছুটা তৃপ্তি তো মিলছেই।

১৭ মার্চ ফিরতি লেগে চেলসির মাঠে অতিথি হয়ে যাবে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। প্রথম লেগে ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানো থেকে হাসিমুখে ফিরতে পেরে এখন পরের রাউন্ডে যাওয়ার ছকই আঁকছেন চেলসি কোচ থমাস টুখেল। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এই জার্মান কোচ বলেন, 'তারা আটজন নিয়ে রক্ষণ সামলানোর কৌশলটা ভালোভাবেই করার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাদের চাপে রেখেছি। সেই সঙ্গে সহজ কোনো সুযোগ দিইনি। কাউন্টার আক্রমণেরও সুযোগ পায়নি তারা। সবমিলে আমি বলব, এটা খুবই গোছানো পারফরম্যান্স ছিল।' নিজের শেষ চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ছয় গোল করেছেন জিরুদ। আগের চেয়ে এদিনকার ওভারহেড গোলই তার কাছে প্রিয় হওয়ার কথা। যেমনটা নিজ মুখেই বললেন তিনি, 'জানি না এই গোল নিয়ে কেমন ভাবনা। তবে এটা ঠিক, আমি কেবল চেষ্টা করেছি ওভারহেড কিকটা ঠিকঠাক নিতে। তবে পেছনে ফিরে যখন দেখলাম বলটা তাদের জালে জড়িয়েছে, তখন খুবই ভালো লাগল। আমরা জানি ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় অ্যাওয়ে গোলের গুরুত্বটা। সেদিক থেকে দলকে জেতাতে পেরে আমি আনন্দিত।'

এদিকে ঘরের মাঠে এক গোল খেয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ আটকে গেল বলে মনে করছেন না অ্যাতলেটিকোর গোলকিপার ওবলাক। দ্বিতীয় রাউন্ডে চেলসির মাঠ থেকে জয় নিয়েই ফিরতে চান লা লিগার অন্যতম ফেভারিটরা, 'ড্রেসিংরুমে আমি কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করিনি। আসলে এই হারে বড় কোনো ছেদও পড়বে না দলে। আমরা দ্বিতীয় লেগে ভালো করতে চাই। তাদের মাঠ থেকে জয় নিয়েই ফিরতে চাই।' অবশ্য সুযোগ কম তৈরি করেনি অ্যাতলেটিকো, কিন্তু কোনোটাই কাজে লাগেনি। পুরো সময়ে ছয়বার চেলসির গোলমুখে আক্রমণে যায় তারা। কিন্তু একবারও লক্ষ্যে বল পাঠাতে পারেনি সুয়ারেজরা।

মন্তব্য করুন