একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলের জন্য বাছাই করে নির্বাচক প্যানেল। ঘরোয়া ক্রিকেট এবং জাতীয় বয়সভিত্তিক দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে নেওয়া হয় জাতীয় দলের ক্যাম্পে। টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়। সংশ্নিষ্ট ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচকরাই ঠিক করেন কে কোন সংস্করণে

খেলার যোগ্য। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, ভবিষ্যৎ জাতীয় দল নির্বাচনেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ক্রিকেটারদের প্রথম পছন্দ টেস্ট হলেও বাংলাদেশে ব্যতিক্রম। এ দেশের ক্রিকেটারদের পছন্দের সংস্করণ টি২০ এবং ওয়ানডে। কারণ, কম পরিশ্রমে বেশি রোজগার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। এ দুই সংস্করণে খেলে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া যায়। রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, সাইফুদ্দিনরা তাই টেস্ট খেলায় আগ্রহ বোধ করেন না। এ ছাড়া বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সম্ভাবনাও থাকে। বিশেষ করে আইপিএল, সিপিএল ও পিএসএলে খেলতে চান অনেকে। সাকিব আল হাসান যেমন শ্রীলঙ্কায় টেস্ট না খেলে কলকাতা নাইটরাইডার্সে যোগ দেবেন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য। মুস্তাফিজেরও ইচ্ছা ছিল শ্রীলঙ্কায় না গিয়ে আইপিএলে খেলার। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ ব্যাপারে মুস্তাফিজকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিলে পরিস্থিতি উল্টে যায়। সোমবার জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের পাপন জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে লেখা থাকবে কে কোন সংস্করণে খেলবেন। ক্রিকেটাররাই সংস্করণ পছন্দ করে নেবেন। বাস্তবতা হলো, এটি সর্বজনীন হওয়ার সুযোগ নেই। সাকিব-তামিমদের মতো সিনিয়ররাই কেবল পেতে পারেন এ সুযোগ। ক্রিকেটারদের পছন্দের সংস্করণ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেন, 'একজন খেলোয়াড় তো কখনও বলতে পারে না সে টেস্ট খেলবে, না ওয়ানডে খেলবে। বাংলাদেশ দলে ১০ বছর খেলার পর ইনজুরি বা বয়সের কারণে টেস্ট ছেড়ে দিতে পারে কেউ। কিন্তু একজন তরুণ ক্রিকেটার তো সেটা করতে পারে না। খেলোয়াড় নির্বাচন করবে তো নির্বাচকরা। কোন সংস্করণের জন্য সে ফিট, সেটা নির্বাচকরা জানে। যেটা করা হবে, চুক্তিতে লিখিত থাকবে কে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে চায়, সেটা। ওই সময় জাতীয় দলের কোনো খেলায় রাখব না তাকে।'

২০২০ সাল থেকে ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি হয় লাল এবং সাদা বলের খেলা অনুযায়ী। টেস্ট ক্রিকেটারদের বেতন বেশি থাকে ওয়ানডে এবং টি২০ খেলা ক্রিকেটারের চেয়ে। চোটমুক্ত থাকতে মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন টেস্ট খেলেননি ২০০৯ সালের পর থেকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেন না তিনি। সাইফুদ্দিনও খেলেন ওয়ানডে এবং টি২০। মুমিনুল হক, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহি খেলেন টেস্ট। তাদের লাল বলের ম্যাচের জন্যই শুধু বিবেচনা করেন নির্বাচকরা। নান্নু বলেন, 'একজন খেলোয়াড় কখনোই বলতে পারে না সে টেস্ট খেলবে না। টেস্ট হলো আসল ক্রিকেট। সব ক্রিকেটার তো একই রকম খেলে না। কেউ লাল বলে ভালো। কেউ সাদা বলে ভালো। কেউ আবার টি২০তে ভালো। ফরম্যাট পছন্দ করে নিলে সে তো দ্রুতই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। কারণ, কেউ তো কোনো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে স্থায়ী নয়। সবাইকে বুঝতে হবে দেশ সবার আগে। দুই বছর জাতীয় দলে না থাকলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিও নেবে না। আর আইপিএল খেলে তো দুই ক্রিকেটার সাকিব ও মুস্তাফিজ। সাকিব তো অনেক আগে থেকেই টেস্ট ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। গত তিন বছরে সে বিদেশে তেমন একটা টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। এ ছাড়া একজন নতুন ক্রিকেটার তো বলতে পারে না 'আমি টেস্ট খেলব না, টি২০ খেলব।' তাকে তো তার পছন্দে জাতীয় দলে ডাকা হবে না। জাতীয় দলের ফরম্যাটে দরকার হবে, সেখানে ডাকা হবে।' এখানেই শেষ নয়, নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে প্রথম শ্রেণির লিগে ৭০ ভাগ ম্যাচ খেলার শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে বলে জানান নান্নু।

মন্তব্য করুন