শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ক্রাইস্টচার্চ বোটানিক গার্ডেনের পাশেই হোটেলটি। প্রায় পাঁচ একর জায়গা নিয়ে হোটেল 'শ্যাটো অন পার্ক' নিজেই যেন এক সুন্দরী বাগান। জানালা দিয়ে অচেনা সবুজ গাছ দেখা যায়, ফুলের বাগান দেখা যায়; কিন্তু প্রকৃতির এই সৌন্দর্য যে কাছে গিয়ে কিছুতেই স্পর্শ করা যায় না। যায় না মানে, যাওয়াই যে মানা। তারা সবাই তো এখন কোয়ারেন্টাইনের ব্রত পালন করছেন ক্রাইস্টচার্চে। ঘরবন্দি এই জীবন কেমন কাটছে নিউজিল্যান্ড যাওয়া বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। কীভাবে সময় কাটছে তাদের? চার দেয়ালের রুমের সঙ্গে একচিলতে বারান্দা- সেটাই যেন স্বর্গ এখন তাদের। 'মাঝেমধ্যে লবিতে যাচ্ছি। এর বাইরে তো কিছুই করার নেই। সময় গুনছি, কবে এই কোয়ারেন্টাইন শেষে বাইরে যেতে পারব।' হোয়াটসঅ্যাপে বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে পাওয়া গেল অনেকক্ষণ। জানালেন, এরই মধ্যে এক দফা কভিড টেস্ট হয়েছে তাদের। গতকাল অ্যান্টিবডি টেস্টও করানো হয়েছে। ছয় দিনে মোট তিন দফা কভিড টেস্ট করা হবে। সব ক'টিতে পাস করলে তবেই বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র।

নিউজিল্যান্ড সরকার আগত বিদেশিদের ব্যাপারে কঠোর কোয়ারেন্টাইন নীতি নিয়েছে। সিসিটিভির ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে রুমের দরজা খোলাও সেই নিয়মে বারণ। হোটেলের ডাইনিং, সুইমিংপুল, জিমে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এমনকি লবিতেও নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়ার নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে এই হোটেলের। এর আগে পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা ক্রাইস্টচার্চে কোয়ারেন্টাইন পালন করার সময় কিছু অভিযোগ উঠেছিল। কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটার সিসি ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে লবিতে একসঙ্গে বেরোনোর অভিযোগ নিয়ে পিসিবির কাছে কড়া চিঠি পাঠিয়েছিল নিউজিল্যান্ড বোর্ড। সেসব জেনেই নিজেদের কঠোর সংযমে রেখেছেন তামিম-মুশফিকরা। হাতের স্মার্টফোনই তাদের কাছে এখন উন্মুক্ত দুনিয়া। পরিবারের সঙ্গে ভিডিওকল থেকে শুরু করে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এখন ওই স্মার্টফোন। দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার এই নতুন জীবনে নিজের হাতে রুম পরিস্কার করা, জামা-কাপড় ধোয়া, বাথরুম পরিস্কার করার মতো সবকিছুই করতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের।

আর খাবার? দরজার সামনে রেখে যাওয়া খাবারের প্যাকেট কি হোটেলের বেঁধে দেওয়া মেন্যু? 'নাহ, ঠিক তেমন নয়। রুমে থাকা খাবারের মেন্যু থেকে যে যেটা খেতে চায়, সেটা দরজার সামনে কাগজে লিখে রেখে দিতে হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময়ে দরজার সামনে খাবার রেখে যাওয়া হয়। দিনে তিনবার এভাবেই খাবার রেখে যায় ওরা। মুখে মাস্ক লাগিয়ে দরজা খুলে ওই খাবার নিয়ে আসতে হয়। তখনই হয়তো মুখোমুখি রুমের কারও সঙ্গে দেখা হয়। অন্য সময়ে কেউ কিছু খেতে চাইলে অনলাইনে অর্ডার দিতে হয়। ডেলিভারি বয় এসে ওভাবেই দরজার সামনে খাবার রেখে যায়।'

নিউজিল্যান্ডে পা রাখার সাত দিনের মাথায় সবার কভিড রিপোর্ট নেগেটিভ হলেই কেবল জিমে যাওয়ার সুযোগ মিলবে ক্রিকেটারদের। ক্রাইস্টচার্চ থেকে কুইন্সটাউন গিয়ে আট দিনের মাথায় ছোট ছোট গ্রুপে অনুশীলনের সুযোগও আসবে তারপর। ১২তম দিনে এসে আরও একবার কভিড টেস্ট। সেটায় পাস করলে তবেই সবাই মিলে ৯ মার্চ একসঙ্গে মাঠে যেতে পারবেন। ২০, ২৩ ও ২৬ মার্চ তিনটি ওয়ানডে খেলবেন তামিমরা। ২৮, ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল খেলবেন সিরিজের তিনটি টি২০ ম্যাচ। লম্বা এই সফরে মাঠের লড়াইয়ের আগে ক্রাইস্টচার্চের এই কোয়ারেন্টাইন চ্যালেঞ্জ বেশ দারুণভাবেই মোকাবিলা করছেন টাইগাররা। অপেক্ষা করছেন, শুধু কবে খোলা আকাশের নিচে গিয়ে প্রাণভরে শ্বাস নেবেন তারা।

মন্তব্য করুন