অনেকটা শখের বশেই অফস্পিন করেন জো রুট। এই শখের স্পিনার টেস্টে আবার হাত ঘোরান কালেভদ্রে। তার এই নিরীহ স্পিন গতকাল মোতেয়ার মরণবাণ হয়ে উঠেছিল। রুটের বলেই যদি এই দশা হয়, তাহলে একবার ভাবুন তো অশ্বিন-অক্ষর-লিচদের খেলতে ব্যাটসম্যানদের কী অবস্থা হয়েছিল! চোখে রাজ্যের অবিশ্বাস নিয়ে অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না ব্যাটসম্যানদের। স্পিনের এমন দাপটে পাঁচ দিনের ম্যাচ বলতে গেলে দেড় দিনেই শেষ হয়েছে, যা কিনা দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে কম বলে শেষ হওয়া ম্যাচ। যেখানে ১০ উইকেটে জিতে সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে গেছে ভারত।

আপাতদৃষ্টিতে স্পিনারদের দাপট মনে হলেও, দাপট আসলে দেখিয়েছে মোতেরার উইকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন রেখেছেন, এটা কি উইকেট নাকি মাইনফিল্ড! প্রথম দিনের শুরু থেকেই উইকেটে ধুলা উড়ছে। স্পিনারদের হাত থেকে বেরোনো প্রতিটি ডেলিভারি উইকেটে পড়ে অগ্নিগোলকে পরিণত হয়েছিল। আচমকা বল এভাবে লাফাচ্ছিল যে, মনে হচ্ছিল সাপের মতো ছোবল দিয়ে ফণা তুলেছে। মাঝেমধ্যে বল গড়িয়ে যাওয়ার অবস্থাও হয়েছে। আর টার্নের কথা তো বলাই বাহুল্য। বল এতটাই ঘুরছে যে, মাঝেমধ্যে উইকেটকিপারও নাগাল পাননি, বল চলে গেছে স্লিপ ফিল্ডারের হাতে! ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছিল আহমেদাবাদের এই উইকেট।

সংস্কারের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে এটাই ছিল প্রথম ম্যাচ। 'ব্র্যান্ড নিউ' উইকেটের আচরণ একটু রহস্যজনক হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তাই বলে এতটা! উইকেটের এমন রুদ্রমূর্তির সহায়তায় একটি রেকর্ড গড়ে গতকাল দারুণভাবে ইংল্যান্ডকে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন অধিনায়ক জো রুট। মাত্র এক স্পিনার নিয়ে নামায় অনেকটা বাধ্য হয়েই বল হাতে নিয়েছিলেন পার্টটাইমার রুট। আর তিনিই কিনা বোলার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেন। ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। মাত্র ৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের প্রথম ইনিংস ১৪৫ রানে গুটিয়ে দেন। ৪ উইকেট নেন জ্যাক লিচ। এরপর তারা আবার 'লোকাল বয়' অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণি তোপে পড়েন। প্রথম বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের (প্রথম ইনিংসে শেষ বলে উইকেট পেয়েছিলেন) সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দ্বিতীয় বলে বেয়ারেস্টোর বিপক্ষে তার এলবির আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে হ্যাটট্রিকের আনন্দও করে ফেলেছিলেন অক্ষর। কিন্তু রিভিউতে বেঁচে যান বেয়ারেস্টো। পরের বলে ঠিকই তাকে বোল্ড করে দেন অক্ষর। শূন্য রানে দুই উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড যে চাপে পড়ে সেখান থেকে আর বের হতে পারেনি। ৮১ রানে গুটিয়ে গিয়ে তারা যেন এক প্রকার পালিয়ে বাঁচে। এবারও ৫ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টেই দশ উইকেটের স্বাদ নেন অক্ষর। আর ৪ উইকেট নিয়ে তৃতীয় ভারতীয় স্পিনার হিসেবে চারশ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান রবিচন্দ্র অশ্বিন। এরপর সহজেই ৪৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যান দুই ভারতীয় ওপেনার।

এ হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে ছিটকে গেল ইংল্যান্ড। আর এ জয়ে আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসের ফাইনালের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ভারত। চতুর্থ টেস্ট ড্র করতে পারলেই তাদের ফাইনাল নিশ্চিত। আর শেষ টেস্টে যদি ইংল্যান্ড জিতে যায়, তাহলে কপাল খুলে যাবে অস্ট্রেলিয়ার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড :১১২ ও ৮১ (স্টোকস ২৫, রুট ১৯, পোপ ১২, লিচ ৯, ফোকস ৮; অক্ষর ৫/৩২, অশ্বিন ৪/৪৮)

ভারত :১৪৫ (রোহিত ৬৬, কোহলি ২৭, অশ্বিন ১৭, ইশান্থ ১০; রুট ৫/৮, লিচ ৪/৫৪) ও ৪৯/০ (রোহিত ২৫*, শুভমন ১৫*)

ফল :ভারত ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা :অক্ষর প্যাটেল

মন্তব্য করুন