জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেশিয়ামে ম্যাটের পাশে বিছানো কার্পেটের ওপর বসে আছেন। হাতে বক্সিং গ্লাভস, মাথায় হেডগার্ড পরা। একটু কাছে গিয়ে দেখা গেল, তিনি হলেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলার মাইনু মারমা। ফুটবল মাঠে নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছিলেন, লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে দুই পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করেছিলেন সবাইকে। সেই মাইনু মারমা এবার ফাইটার। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে তায়কোয়ান্দোতে দুটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে জিতেছেন স্বর্ণপদক। তায়কোয়ান্দোর সোনার মেয়ে ফুটবলার মাইনুকে নিয়ে সবার আগ্রহটা বেড়ে যায়।

আগের দিন পুমসে সিনিয়র নারী (২৪-২৯ বছর) দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির হয়ে স্বর্ণ জেতা মাইনু গতকাল মাইনাস ৫৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে দাপটের সঙ্গে খেলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার জান্নাতুল তামান্না তাবাসসুমকে হারিয়ে সোনালি হাসি হাসেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পদকের মঞ্চে সোনালি দুটি পদক গলায় জড়িয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসেন তিনি। সবার আবদার মেটাতে গিয়ে কখনও স্বর্ণের পদকে চুমো দিচ্ছেন আবার কখনও বা পদক গলায় পরে লাফিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ গেমসে প্রথম অংশ নিয়েই দুটি স্বর্ণ জেতা মাইনুর উচ্ছ্বাসটা অন্য সবার চেয়ে একটু বেশিই, 'এই অনুভূতিটা বলে বোঝাতে পারব না। বাংলাদেশ গেমসের মতো বড় আসরে স্বর্ণ জিতেছি, এটা অনেক বড় অর্জন। সাফল্যের ব্যাপারে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল।'

একসঙ্গে ফুটবল ও তায়কোয়ান্দো চালিয়ে যাচ্ছেন রাঙামাটির এ অ্যাথলেট। ২০০৬ সালে তায়কোয়ান্দোতে নাম লেখালেও তারও আগে থেকে ফুটবল খেলেন মাইনু মারমা। তখন থেকে এই পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একটি করে হলেও স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে তায়কোয়ান্দো থেকে মাইনুর স্বর্ণসংখ্যা ১৮টি। যে তায়কোয়ান্দোর মাধ্যমে সোনালি পদক জিতেছেন, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ গেমসে এ ইভেন্টটিই খেলতে পারেননি জাতীয় নারী ফুটবল দলের ক্যাম্প থাকায়। একই অবস্থা হয়েছিল ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসেও। তবে সেই সময় ফুটবলে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ২০১৬ সালেও ফুটবল থেকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। তবে জাতীয় দলের ফুটবলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার কারণেই মূলত এবারের বাংলাদেশ গেমসে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সুযোগের সদ্ব্যবহারও করেছেন।

যে তায়কোয়ান্দো থেকে স্বর্ণ জিতে চলেছেন, নিজেকে এই খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতে চান না মারমা। ২৭ বছর বয়সী মাইনু মারমা নিজেকে ফুটবলার হিসেবেই পরিচয় দিতে ভালোবাসেন, 'ফুটবলার হিসেবেই আমি বেশি প্রচার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছি। তায়কোয়ান্দোর আগেই ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম।' বর্তমানে মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হয়ে খেলছেন মাইনু। সর্বশেষ ২০১৭ সালে জাতীয় দলে খেলা মাইনু সেনাবাহিনীর কারাতেকা মিন্টু মারমাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আছে একটি মেয়ে। সংসার, তায়কোয়ান্দো এবং ফুটবল- তিনটি একসঙ্গে চালানো কঠিন হলেও মাইনুর কাছে চালিয়ে যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। ফুটবল থেকে হয়তো এসএ গেমসে খেলাটা কঠিন। তবে মাইনু স্বপ্টম্ন দেখছেন তায়কোয়ান্দোর মাধ্যমে সাউথ এশিয়ান গেমসে প্রতিনিধিত্ব করার।

মন্তব্য করুন