'টিম বাংলাদেশ' শব্দটার মধ্যে যেমন একতার আবাহন আছে, তেমনি আছে আবেগের টান। যার টানে দলবদ্ধ হয়ে ভালো কিছু করার তাড়না অনুভব করা যায়। সে কারণেই হয়তো ২০১৯ বিশ্বকাপের ঠিক আগে 'টিম বাংলাদেশ'-এর আওয়াজ উঠেছিল দেশজুড়ে। বাংলাদেশ স্কোয়াডের খেলোয়াড়রাই যার প্রচারে নেমেছিলেন। তাই তো 'টিম বাংলাদেশ' লেখা মাশরাফিদের দলগত ছবিটি ভিউ কার্ড হয়ে তখন ফেসবুকের পর্দায় ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপের পর কী করে যেন উধাও হয়ে গেল 'টিম'। ক্রিকেটাররাও দলগত চেতনার জায়গা থেকে ক্রমে দূরে সরে যেতে লাগলেন। কেউ একটি হাফ সেঞ্চুরি করছেন, কেউবা চার-পাঁচটি উইকেট নিচ্ছেন। এতে ব্যক্তির প্রোফাইল ভারি হলেও দল উপকৃত হচ্ছে কমই। যেমন টেস্টে হারছে, টি২০তেও। ওয়ানডেতে পাওয়া জয়গুলো থেকে কেন যেন আগের মতো তৃপ্তিও মিলছে না। বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন তাই ফিরে যেতে চান প্রেরণার 'টিম বাংলাদেশ' স্লোগানে। এই মিশন নিয়েই টেস্ট দলের সঙ্গে টিম লিডার হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করবেন তিনি। কিন্তু যে দলের ঘাড়ে চেপে রয়েছে 'বড়-ছোট' ভেদাভেদের 'ভূত', তা তাড়াতে ওঝা হতে পারবেন তো মাহমুদ?

এই প্রশ্ন দুটির উত্তর খুঁজতেই গতকাল লঙ্কা সফরে টাইগার টিম লিডারের দায়িত্ব পাওয়া খালেদ মাহমুদের মুখোমুখি হওয়া। তিনি জিজ্ঞাসার উত্তরও দিলেন গুছিয়ে, 'আমি ওখানে যাচ্ছি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে। আমি তো কোচিং করাব না। সেখানে আমার কাজ হবে খেলোয়াড়দের এক সুতায় গাঁথা। আগে 'টিম বাংলাদেশ' বলা হতো। এখন কেউ টিম বাংলাদেশ বলে না। আমার মনে হয়, কেউ আর 'টিম বাংলাদেশ' বিশ্বাসও করে না। আমরা চাই, সবাই মিলে টিম বাংলাদেশ হয়ে খেলুক। এখানে কোনো একক খেলোয়াড় নেই। একটি দল খেলবে এবং সবাই দলের জন্য পারফর্ম করবে। যেটা করলে দলের ভালো হবে এবং ফল পাবে, সেটাই করা হবে। সবাই যোগ্য হয়েই জাতীয় দলে খেলে। যে ছেলেটি ১১ জনে সুযোগ পাবে, তার দায়িত্ব তামিম, মুশফিকের দায়িত্বের সমান। টিম বাংলাদেশের জন্য সবাইকে সমান দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আমি সবার মাথায় ঢোকাতে চাই, 'তুমি আর তরুণ নও। অনেক দিন বাংলাদেশ দলে খেলেছ, তোমাকে ওটাই করতে হবে, যেটা দলের জন্য প্রয়োজন।'

পঞ্চপাণ্ডবের উন্নাসিকতার সামনে 'কৌরব'রা নতমস্তক। তাই তো 'কৌরব'দের কেউ ভালো পারফরম্যান্স করার পরও পুরস্কারের মঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে সিনিয়রদের প্রশংসা করতে থাকেন, 'অমুক ভাই বলেছেন। অমুক ভাই প্রেরণা দিয়েছেন।' তারা ভুলেই যান, তিনিও বাংলাদেশ লেখা জার্সি পরে খেলেন। লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। সে কারণেই সুজন বলছেন, 'সিনিয়র জুনিয়র বলে কোনো কথা নেই। সবাইকে অবদান রাখতে হবে। হ্যাঁ, তামিমের অভিজ্ঞতা আর লিটনের অভিজ্ঞতা অবশ্যই এক নয়। এরপরও বলব, সফল হতে যেটা দরকার, সেটা করার সামর্থ্য লিটনেরও আছে। সে অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, ছেলেরা ভালো করবে। নিউজিল্যান্ড অন্য পরিবেশ ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা তো পরিচিত।' তবুও প্রশ্ন থাকে, পারবেন তো মাহমুদ?

মন্তব্য করুন