সন্তানসম্ভবা থাকায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে খেলতে পারেননি নারী শাটলার এলিনা সুলতানা। আট বছর আগের ওই আসরে স্বর্ণ জিতেছিলেন আরেক নারী শাটলার শাপলা আক্তার। সর্বশেষ দশটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সবক'টিতেই এই দু'জনের কেউ না কেউ সোনার পদক জিতেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে এবার দু'জনই সন্তানসম্ভবা থাকায় খেলতে পারেননি। তাদের অবর্তমানে নারী এককে উঠে এসেছে নতুন রানী। ব্যাডমিন্টনে নতুনের পদধ্বনি। গতকাল শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নারী এককের ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃষ্টি খাতুনকে ২-১ সেটে হারিয়ে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের ঊর্মি আক্তার। তবে নারী দ্বৈতে সেনাবাহিনীর বৃষ্টি খাতুন ও ফাতেমা বেগম জুটির কাছে স্বর্ণ হারিয়ে ছিলেন আনসারের ঊর্মি আক্তার ও রেশমা আক্তার। ছেলেদের এককে মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্বর্ণ জিতেছেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার গৌরব সিংহ।

পাঁচ বছর আগে সিনিয়র ব্যাডমিন্টন শুরু ঊর্মির। এরপর থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত খেললেও শাপলা এবং এলিনার দাপটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। তবে সর্বশেষ র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে এলিনা-শাপলার অনুপস্থিতিতে সেরা হয়েছিলেন তিনি। এবার বাংলাদেশ গেমসের মতো বড় আসরে সোনা জয়ের তৃপ্তি খুলনার এ শাটলারের, 'আমি দ্বৈতে সোনা হারানোর পর জেদ চেপেছিল, সিঙ্গেলে আমি জিতবই। কিন্তু প্রথম সেট হারার পর আমার মনবল ভেঙে যায়। তখন আমার কোচ রাজু ভাই সাহস জুগিয়েছেন। আমি আস্তে আস্তে খেলায় ফিরে পরের দুই সেট জিতে স্বর্ণ নিজের করে নিই।' শাপলা-এলিনা না থাকাতে তার এই চ্যাম্পিয়নশিপ সহজ হয়েছে বলে জানান এই নারী শাটলার। তবে তারা থাকলে টুর্নামেন্টটি আরও জমত বলে মনে করেন ঊর্মি, 'উনারা অনেক অভিজ্ঞ। তাদের সঙ্গে খেললে অনেক কিছু শেখা যায়। নিজেদের উন্নতিটাও বোঝা যায়।' ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ফেডারেশনের সহযোগিতা চেয়েছেন ঊর্মি।

ঊর্মির মতো অবশ্য বড় কোনো প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হয়নি গৌরব সিংহকে। তবে সিলেটের এ শাটলার চমক দেখিয়েছেন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে সালমান খানকে হারিয়ে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ গেমসে অংশ নিয়েই পদক জেতা গৌরব স্বপ্ন দেখেন একদিন এসএ গেমসে পদক জিতবেন। তবে এ জন্য তিনি ফেডারেশনের সহযোগিতা চান। তার বিশ্বাস, ফেডারেশন যদি বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রমের ব্যবস্থা করে, তাহলে এসএ গেমসে পদক জেতা সম্ভব, 'নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমি গত এসএ গেমসে অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি। আমি দেখেছি শ্রীলঙ্কা-নেপালের সঙ্গে ১৫-১৬ পয়েন্ট পর্যন্ত আমরা সমান তালে লড়াই করি। এর পরই আর পেরে উঠি না। এই জায়গায় উন্নতির জন্য বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন দরকার।'

মন্তব্য করুন