দেড় বছর ধরে টেস্ট জেতে না শ্রীলঙ্কা। এই পরিসংখ্যানটা মাথায় রেখেই নাকি বাংলাদেশের বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে খেলতে নামবে লঙ্কানরা। আর এই তথ্য দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার কোচ মিকি আর্থার স্বয়ং। লজ্জার এই পরিসংখ্যান সামনে এনেই হয়তো দলকে তাতিয়ে তুলতে চাইছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্ট হেরেছে তারা, ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। সবশেষ ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট ড্র করে এসেছে। এ ছয়টি টেস্টেই লঙ্কানদের সুযোগ ছিল। কিন্তু ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু ভুলের কারণে প্রতিটি টেস্টেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাদের। এর মধ্যে ব্যাটিং ধস, ক্যাচ মিস, চোট, ডিআরএসের সঠিক ব্যবহার করতে না পারায় বেশ ভুগেছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজে যেন এমন ভুল আর না হয় সে বিষয়ে দলকে খুব ভালো মতো অবহিত করা হয়েছে বলে জানান মিকি আর্থার, 'আমরা যখন সুযোগটি গ্রহণ করি এবং বিরোধীরা অনিবার্যভাবে বিরতি না দেওয়া লম্বা সময় ধরে চাপ প্রয়োগ করে তখন সে সুযোগটি গ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ সময় আমরা আলোচনা করেছি। আপনি যদি উইন্ডিজ সিরিজকে ধরেন, তাহলে দেখবেন, আমরা এমন অবস্থানে ছিলাম যেখানে আমরা আধিপত্য বিস্তার করতে পারতাম। কিন্তু তারা (উইন্ডিজ) প্রতিবারই ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।'

বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২০ টেস্ট খেলে ১৬টিতে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের জয় কেবল একটি, ২০১৭ সালে কলম্বোতে। এ ছাড়া শেষ আট টেস্টের তিনটি ড্র হয়েছে। পাল্লেকেলের উইকেটে গতকালও ঘাস দেখা গেছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, আজ টেস্ট শুরুর পূর্বেই এই ঘাস কেটে ফেলবেন কিউরেটর। তবে একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে লঙ্কান শিবির থেকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টে সম্ভবত পুরোনো ঐতিহ্য ভেঙে পেস উইকেট বানাতে যাচ্ছে লঙ্কানরা। কৌশল পরিবর্তনের কারণ হলো, লঙ্কান স্পিন বিভাগ এখন বেশ অনভিজ্ঞ। আর ইদানীংকালে পেস বিভাগটা বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে। পেস উইকেট বানানোর ইঙ্গিতটা আর্থারই দিয়েছেন, 'আমরা আমাদের পেসারদের নিশ্চিতভাবেই কিছুটা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের হাতে সব ধরনের বৈচিত্র্যই রয়েছে। স্পিনারদের সহযোগে ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ আমাদের রয়েছে।' শ্রীলঙ্কা একাদশে ঢুকবেন পেসার লাহিরু কুমারা ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ।

মন্তব্য করুন