ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে খেলতে গেলেই কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে বার্সেলোনা। লিগে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে আগের তিন ম্যাচে জিততে না পারা কাতালানরা রোববারও হোঁচট খেতে বসেছিল। তবে এবার বার্সার ত্রাতা লিওনেল মেসি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভ্যালেন্সিার মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। ১২ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে বার্সেলোনা। লিগ শিরোপার রেসে ভালোভাবেই টিকে আছে বার্সেলোনা। ৩৪ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে সমান ৭৪ পয়েন্ট হলেও হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, তিনে বার্সেলোনা।

আগের ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে গ্রানাডার কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে স্প্যানিশ লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ওঠা হয়নি বার্সেলোনার। ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় এদিন ডাগআউটে ছিলেন না বার্সা কোচ কোম্যান। ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে অধিকাংশ সময় বল ছিল বার্সেলোনার দখলে। তার পরও গোল করতে পারছিল না তারা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনাকে হতাশায় ডুবিয়ে ভ্যালেন্সিয়াকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল। পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরে সাত মিনিটের মধ্যে। ঘটনাবহুল এক গোল করেন মেসি। মেসির ক্রস বক্সের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে ঠেকান ভ্যালেন্সিয়ার তনি লাতো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। মেসির দুর্বল স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক ইয়াসপের সিলেসেন। আলগা বল পেয়ে পেদ্রির নেওয়া শট গোললাইনে প্রতিহত হয়। এর পরও বল ক্লিয়ার হয়নি। ফাঁকায় বল পেয়ে গোল করেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। ১৩ মিনিটে আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের গোলে এগিয়েও যায় বার্সেলোনা। আর ৬৯ মিনিটে মেসির করা গোলটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ফ্রি কিকের মাধ্যমে চোখ ধাঁধানো অনেক গোল করা মেসি এদিনও দেখিয়েছেন তার বাঁ পায়ের জাদু। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া বাঁ পায়ের শট বল কাছের পোস্টে লেগে চলে যায় জালে। ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকা বার্সেলোনা শিবির ছিল উচ্ছ্বসিত। কিন্তু ৮৩ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার কার্লোস সোলার একটি গোল পরিশোধ করলে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায় মেসিদের কপালে। তবে বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।

মন্তব্য করুন