দর্শকের জন্য গ্যালারির ঝাড়পোছ ছাড়া খেলার সব প্রস্তুতিই নেওয়া ছিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। কিন্তু যে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছিল খেলোয়াড়দের বল দখলের লড়াইয়ের জন্য, সেই মাঠ চলে গেল বিক্ষুুব্ধ দর্শকের দখলে। যে মধ্যমাঠ থেকে ফুটবল নিয়ে কাড়াকাড়ি আর কারিকুরির আওয়াজ ওঠার কথা, সেখান থেকে উঠল প্রতিবাদী স্লোগান; আর গোলপোস্টে যে জাল লাগানো হয়েছিল ম্যাচের সময় গোল-নিশ্চিতকরণে, সেটির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেউ কেউ তুললেন সেলফি। আর সমর্থকদের এমন সব নজিরবিহীন সব কা কীর্তিতে শেষ পর্যন্ত খেলাটাই হলো না। স্থগিত হয়ে গেল প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-লিভারপুলের খেলা; দুই দলের কাছেই যা চলতি লিগ বিচারে তো বটেই, সবসময়কার জন্যই হাইভোল্টেজ লড়াই।

ম্যানইউ সমর্থকদের গ গোলে আপাতত প হয়ে যাওয়া ম্যাচটি নির্ধারিত ছিল স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে। কিন্তু খেলা শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ড প্রাঙ্গণ এবং খেলোয়াড়দের টিম হোটেলের সামনে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে দুইশরও বেশি সমর্থক। পরে যা বাড়তে বাড়তে দুই হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। একপর্যায়ে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়া দর্শকদের সহজে সরিয়ে দেওয়া গেলেও বড় ঝামেলা বাধে বাইরে। বিক্ষোভ থামাতে আসা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও বিভিন্ন জিনিস ছোড়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সমর্থকদের হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাও দিতে হয়েছে। ট্র্যাফোর্ডের চিফ কনস্টেবল রাস জ্যাকসন জানান, সমর্থকদের নিবৃত্ত করতে পাশের অঞ্চল থেকে বাড়তি পুলিশ আনতে হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ম্যানইউ-লিভারপুল ম্যাচ স্থগিতের কথা জানায় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। পরিবর্তিত সূচি পরে জানানো হবে বলে বিবৃতি দেওয়া হয়। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটিকে 'বিপজ্জনক' আখ্যা দেয় লিগ কর্তৃপক্ষ। ম্যানইউর মালিকপক্ষ গ্লেজার পরিবারের বিরুদ্ধে সমর্থকদের বিরোধিতা আজকের নয়; ২০০৫ সালে মার্কিন পরিবারটি ইংলিশ ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার সময় থেকেই। ম্যানইউ সমর্থকরা তখন থেকে অভিযোগ করে আসছেন, ক্লাবের ব্র্যান্ডকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করাই গ্লেজার পরিবারের মূল লক্ষ্য, তারা শুধু টাকা চেনে। মাঝে কয়েক বছর এই সংক্রান্ত প্রতিবাদ বন্ধ থাকলেও গত মাসে সুপার লিগ ইস্যুতে তা নতুন করে জেগে ওঠে এবং দিন দিন তীব্র হয়ে ওঠে। ম্যানইউসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ১২টি ক্লাব নিজেদের আয় বাড়ানোর কথা বলে সুপার লিগের ঘোষণা দেয় গত ১৮ এপ্রিল। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে যা থেকে দুই দিনের মধ্যেই সরে আসে ম্যানইউ। তবে সমর্থকরা এখনও 'গ্লেজার আউট' প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন