বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে গতকাল পঞ্চম দিন সকালে। অথচ টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জানালেন, টসের সময়ই নাকি ম্যাচের ভাগ্য ৫০ শতাংশ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল! প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেও হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে এই সিরিজ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুও দেখছেন তিনি। গতকাল পাল্লেকেলেতে ২০৯ রানে হারের পর বাংলাদেশ অধিনায়কের পুরস্কার বিতরণী ও ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অংশ সমকাল পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

-বাঁহাতি স্পিন মোকাবিলায় কী ঘাটতি ছিল?

মুমিনুল: আপনি যখন ব্যাটিং ভালো করবেন না তখন বাঁহাতি স্পিনই হোক আর ডানহাতি স্পিন হোক, ১১ উইকেট পেতেই পারে। ব্যাটিং গ্রুপ হয়ে আমরা সেভাবে ব্যাটিং করতে পারিনি। ব্যতিক্রম শুধু তামিম ভাই। উনি প্রথম ইনিংসে সুন্দর একটা শুরু এনে দিয়েছেন, এরপর আমরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারিনি। আমি যদি একটা জুটি গড়তে পারতাম কিংবা আমরা যদি চার সেশন ব্যাটিং করতে পারতাম (চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত)। প্রথম টেস্টে আমরা ছয় সেশন ব্যাটিং করেছিলাম। এই টেস্টে পাঁচ সেশন ব্যাটিং করতে পারলেও অন্যরকম হতো। সেটা করতে পারিনি, দায় অবশ্যই আমাদের।

- এই টেস্টে হারের কারণ কী বলে মনে করছেন?

মুমিনুল: আমার মতে, এই টেস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল টস। প্রথম দুই দিন উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। ম্যাচের প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল টসের সময়। আসলে প্রথম ইনিংসে ২৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরই আমরা এই টেস্ট হেরে গিয়েছিলাম।

- উইকেট পড়তে ভুল হয়েছিল?

মুমিনুল: হতে পারে। শুরুতে দেখতে আগের টেস্টের উইকেটের মতোই লেগেছিল। একজন বাড়তি স্পিনার খেলানোর কথা যদি বলেন, আমরা যদি আগে ব্যাটিং করতাম তাহলে চিত্রটা ভিন্ন হতো। ওরা হয়তো আমাদের জায়গায় থাকত আজ। আমরা ওদের জায়গায় থাকতাম। আর এসব উইকেটে খুব বেশি স্পিনার লাগে না, যেটা আমার কাছে মনে হয়। আমাদের তো দু'জন খুব ভালো মানের স্পিনারই আছে। আরেকটা স্পিনার লাগত না।

- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ কেমন গেল?

মুমিনুল: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা যত ম্যাচ খেলেছি, মনে হয় না আমাদের কোনো উন্নতি হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এক বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছি। সেখানে ১০ দিনের মধ্যে কেবল দুটি দিন প্রাধান্য বিস্তার করতে পারিনি, সেই দুই দিনে ম্যাচ হেরেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আমরা কিছুটা ভালো খেলেছি। দ্বিতীয় টেস্টে বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটিং বাজে হয়েছে। কেবল এই টেস্টের আগের টেস্টে একটু উন্নতি হয়েছে। পয়েন্টের হিসাবে আমরা ২০ পয়েন্ট হয়তো পেলাম; কিন্তু আমার মনে হয় কিছুটা প্রাপ্তি আছে।

- ক'দিন আগে কাইল মেয়ার্স ডাবল সেঞ্চুরি করল, এখানে জয়াবিক্রমা ১১ উইকেট নিয়েছে। নতুনদের বিপক্ষে কেন ভুগতে হয়, প্রস্তুতি থাকে না?

মুমিনুল: যত ভালো ব্যাটসম্যানই আসুক যদি তাকে ঠিক জায়গায় বল করতে না পারেন কিংবা যত ভালো বোলারই আসুক যদি বলের মান অনুযায়ী খেলতে না পারেন তাহলে দিন শেষে সে-ই সফল হবে। ভিডিও অ্যানালিস্ট তো অবশ্যই সব ব্যাপারে সহায়তা করে। যারা নতুন আসে তাদের একটা বাড়তি সুবিধা থাকে। সেটা আমারও ছিল। নতুন যারা আসে তাদের ব্যাপারে জানার ঘাটতি থাকে। আমার মনে হয়, নতুন যেই আসুক তার জন্য ভালো বল, ভালো বলই, খারাপ বল খারাপই।

- এই সিরিজে প্রাপ্তি...

মুমিনুল: অবশ্যই প্রাপ্তির কিছু না কিছু আছে। সিরিজ হেরেছি এর মানে এই না যে, সব কিছু হেরে গিয়েছি। একটু সমালোচনা হবে, অনেকেই অনেক কথা বলবে। এর ভেতরেও অনেক ইতিবাচক দিক আছে। শেষ কয়েকটা টেস্টে না পারলেও এ সিরিজের প্রথম টেস্টে দলগতভাবে খেলতে পেরেছি, যেটা আমার চাওয়া ছিল। তামিম ভাইয়ের দুটি নব্বই ও একটা ৭০ আছে। শান্তর একটা ১৬৩ আছে, মুশফিক ভাই ও লিটনের হাফ সেঞ্চুরি আছে। তাইজুলের ৫ উইকেট আছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাসকিনের পারফরম্যান্স। সে অনেক উন্নতি করেছে।

মন্তব্য করুন