ম্যাচের শুরুতে রক্ষণের দেয়াল গড়েন রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির খেলোয়াড়রা। ২৬ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে। এক মিনিট পর আত্মঘাতী গোলে লিড নেয় আবাহনী। ভেঙে যায় রহমতগঞ্জের সব প্রতিরোধ। ম্যাচের বাকি গল্পটি হয়ে ওঠে শুধুই আকাশি-নীল জার্সিধারীদের। বেলফোর্টের অসাধারণ হ্যাটট্রিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গোল উৎসব করেছে মারিও লেমোসের দল। প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে গতকাল রহমতগঞ্জকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে দ্বিতীয় পর্বে তুলে নিয়েছে টানা দ্বিতীয় জয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে এটা নিয়ে মোট তিনটি ছয় গোলের ম্যাচ দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা। গত ৩০ এপ্রিল উত্তর বারিধারার বিপক্ষে ৬-০ গোলে জিতেছিল বসুন্ধরা কিংস। তার আগে ২৬ জানুয়ারি একই ব্যবধানে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে আবাহনী। এক ম্যাচ কম খেলা শেখ জামালের সমান পয়েন্ট হলেও গোলগড়ে পিছিয়ে থাকায় তারা তিন নম্বরে। দিনের আরেক ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

মৌসুমের শুরুতে ছন্দপতন হওয়া আবাহনী লিগের মাঝপথে এসে ছন্দ ফিরে পেয়েছে। আগের ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করা ধানমন্ডি পাড়ার ক্লাবটির সামনে শুক্রবার পাত্তাই পায়নি রহমতগঞ্জ। আবাহনীর একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলা রহমতগঞ্জ পিছিয়ে পড়ে ২৭ মিনিটে। রায়হানের বাড়ানো বলে রহমতগঞ্জের তাজিকিস্তানের ডিফেন্ডার খোরশেদ বেকনাজারোভের বুকে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায় রহমতগঞ্জের জালে। মিনিট দশেক পর দুই বিদেশির রসায়নে ব্যবধান বাড়ায় আবাহনী। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েলের বাড়ানো বলে একদম ফাঁকা জায়গায় ছিলেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট কারভেন্স। বল জালে জড়াতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তিনি। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ফের রাফায়েল ও বেলফোর্ট রসায়ন। রাফায়েলের আলতো ক্রস থেকে ঠান্ডা মাথায় হেডে বল জালে জড়ান সেই বেলফোর্ট। ৬২ মিনিটে মামানু মিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে হ্যাটট্রিক করেন এই হাইতিয়ান। এবারের লিগে এটি পঞ্চম হ্যাটট্রিক। তিনি লিগের পঞ্চম হ্যাটট্রিকম্যান। এর আগে শেখ জামালের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ওমর জোবে, শেখ রাসেলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড অবি মনেকে এবং বসুন্ধরা কিংসের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাউল অস্কার বেসেরা ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন দ্য সিলভার হ্যাটট্রিক রয়েছে। ম্যাচে বাকি সময়ের ইতিহাস আকাশি-হলুদ শিবিরের দুই ডিফেন্ডারের। মিনিট তিনেক পর সেই বেলফোর্টের সহায়তায় গোলের দেখা পান আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়া। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে রহমতগঞ্জের কফিনে শেষ পেরেকটটি ঠুকে দেন আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানি।

মন্তব্য করুন