করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় তুরস্ককে লাল তালিকাভুক্ত করেছে ইংল্যান্ড। শুক্রবার রাতে এ তালিকা প্রকাশের পরই ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ভেন্যুতে ফাইনাল সরে যেতে পারে বলেও জানা গেছে। ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি- ফাইনালের দুই ক্লাবই যেহেতু ইংল্যান্ডের, তাই ম্যাচটি ইংল্যান্ডে আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এমন কিছু হলে সেটা ইস্তাম্বুলের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়ই হবে। গত বছরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ভেন্যু ছিল তুরস্কের এই শহর। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফরম্যাট বদলে পুরো টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল লিসবনে। এবারও ওই করোনার কারণেই ইস্তাম্বুল থেকে ফাইনাল সরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইংল্যান্ডের বর্তমান করোনাবিধি অনুযায়ী ইস্তাম্বুল থেকে ফেরার পর উভয় ক্লাবের খেলোয়াড়দের ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর এমনটা হলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ৭ ফুটবলারের ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ইউরোতে অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। দুই ক্লাবের ফুটবলারদের বেলায় কোয়ারেন্টাইন ছাড় দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে এফএ (ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)। তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলেই বিকল্প ভেন্যু ছাড়া উপায় থাকবে না। ব্রিটিশ সরকার এরই মধ্যে তাদের দেশে ফাইনাল আয়োজনের ব্যাপারে সবুজ সংকেতও দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু উয়েফা তাদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব টুর্নামেন্টের ফাইনালটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইস্তাম্বুল থেকে সরাতে চাইছে না। ব্রিটিশ সরকারের ভ্রমণ-সংক্রান্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ১৭ মে থেকে। এর তিন সপ্তাহ পর সবকিছু মূল্যায়ন করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর ফাইনাল হলো ২৯ মে। তুরস্ক লাল তালিকাভুক্ত হওয়ায় দুই ক্লাবের ফ্যানরাও মাঠে বসে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। অথচ উয়েফা পরিকল্পনা করেছিল, ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আতাতুর্ক স্টেডিয়ামে ১২ হাজার দর্শকের সামনে ফাইনালটি আয়োজনের। তাদের এ পরিকল্পনাও বাতিলের পথে এখন।

মন্তব্য করুন