তাপমাত্রা ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ পুরো দেশের মানুষ। তীব্র গরমের মধ্যেই গতকাল অনুশীলন শুরু করেছে জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপ বাছাইকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার অনুশীলনের প্রথম দিনে শিষ্যদের ফিটনেসের ওপরই জোর দিয়েছেন কোচ জেমি ডে। ইয়োইয়ো টেস্টের ফলে তৃপ্ত ব্রিটিশ এ কোচ। কোচের তৃপ্তির মাঝে বড় দুশ্চিন্তা হলো করোনাভাইরাস। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক হলেও উদাসীন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের ফল পাওয়ার আগেই অনুশীলনে নেমে পড়েছে জামাল ভূঁইয়ার দল। ৩ জুন আফগানিস্তান, ৭ জুন ভারত এবং ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজের দলটি।

ঈদের আগে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বের কয়েক রাউন্ড শেষ হয়েছে। খেলার মধ্যে থাকায় ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তা ছিল না জেমি ডের। তবে ঈদের ছুটির কারণে কিছুটা শঙ্কা ছিল বাংলাদেশ কোচের মনে। তাই শিষ্যদের পরখ করে নিতে করান ইয়োইয়ো টেস্ট। ফিটনেস পরীক্ষায় সবাই উতরে গেছেন বলে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেমি ডে, 'নিজেদের ব্যাপারে ছেলেরা সবসময় সচেতন। হ্যাঁ, একটি বিরতির পর নিজেদের ফিরে পেতে কয়েকটি সেশন প্রয়োজন হয়। ছেলেদের যে পর্যায়ে পাওয়া দরকার ছিল, সেই পর্যায়ে পেয়েছি। আমাদের হাতে তিন সপ্তাহ সময় আছে, এর মধ্যে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে খেলার আগে ফিটনেসের দিক থেকে ওরা সেরা অবস্থায় আছে। ছেলেরা কী অবস্থায় আছে জানতে আজ (সোমবার) সকালে ইয়োইয়ো টেস্ট করানো হয়েছে। কয়েক দিনের বিরতি ছিল, আগের অবস্থায় ফিরতে একটু সময় লাগবে। আগামী পাঁচ দিন এটা নিয়েই কাজ করব। এরপর স্কোয়াড ২৫ জনে নামিয়ে আনা হবে। প্রথম ম্যাচের আগে কাজ করার জন্য তার পরও ১২ দিনের মতো সময় থাকবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য জাতীয় দলে নির্বাচিত হতে হলে অবশ্যই খেলোয়াড়দের ফিটনেস একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন। আমি মনে করি, ছেলেরা সেই পর্যায়ে আছে। যদি কেউ না থাকে, তাহলে আমরা পরের সপ্তাহে আবার ইয়োইয়ো টেস্ট করাব। তবে এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে, সবাই ভালো অবস্থায় আছে।'

প্রাথমিক দলের ৩৩ সদস্যের মধ্যে এদিন চোটের কারণে উপস্থিত ছিলেন না বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। আপাতত নতুন খেলোয়াড় না ডাকার পক্ষেই জেমি। ক্যাম্পে থাকা ৩২ জনের ওপরই আস্থা ব্রিটিশ এ কোচের, 'নতুন কোনো খেলোয়াড় ডাকার ভাবনা নেই। চোটের জন্য বিশ্বনাথ ঘোষ ক্যাম্পে নেই। তার চোটের জন্য কাভার হিসেবে কাউকে ডাকা হয়নি। চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্তের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। তবে কাতারে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট খেলোয়াড় আমাদের ক্যাম্পে আছে।' বাংলাদেশের মতো কাতারেও প্রচণ্ড গরম। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন জেমি। তবে এখন ভয়টা করোনা নিয়ে। এর আগে নেপাল টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছিলেন ডিফেন্ডার রহমত মিয়া। তাকে ছাড়াই নেপালে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে সেটা হবে দলের জন্য বড় সমস্যা।

মন্তব্য করুন