গত কিছুদিন ধরেই নিজের ভেতরে ছেলেবেলার ব্যাটিং সত্তাকে নতুন করে অনুভব করছিলেন সাইফউদ্দিন। তিনি যে ব্যাটসম্যান হিসেবে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছেন, স্মৃতির অতলান্তি থেকে সেই সত্তার পুনর্জাগরণে আন্দোলিত হচ্ছিলেন হয়তো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলা চলাকালে তাকে প্রায় বলতে শোনা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও চার-পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে চান। গতকাল জিম্বাবুয়ে থেকে এক ভিডিওবার্তায় ব্যাটিং প্রমোশন চাওয়ার রহস্য আরও স্পষ্ট করলেন। চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলার সময় ৪০ রানে পাঁচ-ছয় উইকেট পড়ে গেলে কীভাবে ত্রাতা হতেন জানালেন তা। সাইফউদ্দিনের জাতীয় দলে খেলার বয়স তিন-চার বছর হয়ে গেলেও এভাবে কখনোই নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পাননি। রোববার উপলক্ষটা পেয়ে গেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৬৯ রানের অপরাজিত এক জুটি করে। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গতকাল জিম্বাবুয়ে থেকে ভিডিওবার্তায় বললেন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের স্মৃতি মাথায় থাকায় সাকিবের জুটিতে সঙ্গ দিয়ে গেছেন।\হরোববার হারারেতে জিম্বাবুয়ের ২৪০ রানের জবাবে ১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ড্রেসিংরুমে একজনও ব্যাটসম্যান অবশিষ্ট ছিল না, যাকে নিয়ে 'দুর্গম গিরি' পথটুকু পাড়ি দিতে পারেন সাকিব। সেই কঠিন পরিস্থিতিই ম্যাচ জেতাতে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেন সাইফউদ্দিন। শেষ ৩ উইকেটে ৬৮ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। সাকিব-সাইফউদ্দিন ৬৪ বলে হার না মানা ৬৯ রান করলে পাঁচ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে সুপার লিগের টেবিলে যোগ করে আরও ১০টি পয়েন্ট। কার্যকর একটি জুটিতে সঙ্গ দেওয়ায় প্রশংসিত হলেন সাইফউদ্দিন। সাকিব নিজেও কৃতিত্ব দিলেন জাতীয় দলের এই অগ্রজকে। গতকাল আবেগী হলেন সাইফউদ্দিনও, 'সত্যি বলতে, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল উনার (সাকিব) সঙ্গে খেলে জুটি গড়ে দলকে জেতাব। কয়েকটি টকশোতে সেটা আমি বলেও ছিলাম। সুযোগটা কাল (রোববার) আসায় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। অনেক সময় লুজ বল পেয়েছি; কিন্তু দলের প্রয়োজনে ডট খেলতে হয়েছে। লফটেড শট খেলিনি। দলের জন্য যেটা দরকার ছিল ওই অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, সাকিব ভাই যথেষ্ট সাপোর্ট দেওয়ায় কাজটা সহজ হয়ে গেছে।'\হসাইফউদ্দিনের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে জাতীয় দলে খেললেও ব্যাটিংটা ভালোই পারেন তিনি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুন্দর একটি ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন দলকে। স্লগ ওভারে ছোট ছোট আরও কিছু কার্যকরী ইনিংস আছে তার। যদিও বর্তমান কোচিং স্টাফের সামনে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুযোগ পাওয়ায় সেটা কাজে লাগালেন ভালোভাবে। সাইফউদ্দিনই বলছেন সে কথা, 'সুযোগ সব সময় আসে না। ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারিনি আন্তর্জাতিক সার্কিটে। আমি অবশ্যই চাইব না সবাই আউট হয়ে যাক, আমার সুযোগ আসুক। গতকাল যেহেতু সুযোগ এসেছে কাজে লাগানোর, কিছু করে দেখানোর। কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছি। আমার ছোট্ট অবদানে দল জিতেছে, এতেই আমি আনন্দিত।' এর পরই তিনি ফিরে গেলেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের দিনগুলোতে, 'সত্যি বলতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আমি ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি। এর থেকেও আরও চাপের মুহূর্তে আমি ব্যাটিং করেছি। যখন ৪০ রান পাঁচ-ছয়টা উইকেট পড়ে যেত, আমি এক প্রান্ত থেকে এক এক করে খেলে ২০০ প্লাস নিয়ে যেতাম দলের রান। সেটা বয়সভিত্তিকে ছিল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিকে এই প্রথম এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়া। ক্রিজে আমি বয়সভিত্তিকের সেই পরিস্থিতির কথা মনে করে খেলেছি।'

বিষয় : না-বলা গল্প

মন্তব্য করুন