শুক্রবার জেমি ডেকে অব্যাহতি দিয়ে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে অস্কার ব্রুজোনের নাম ঘোষণা করে বাফুফে। বাংলাদেশের কোচ হলেও এটা নিয়ে সবাইকে ধোঁয়াশায় রাখেন স্প্যানিশ এ কোচ। দায়িত্ব নেবেন কি নেবেন না, এটা নিয়ে ছিলেন সন্দিহান। ক্লাব বসুন্ধরা কিংস এবং বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে কয়েকবারই বৈঠক করেন ব্রুজোন। শেষ পর্যন্ত মালদ্বীপে ১-১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জামাল ভূঁইয়াদের কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। পাঁচ দিন পর গতকাল ফেডারেশন ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কোচ হিসেবে ব্রুজোনকে পরিচয় করিয়ে দেয় বাফুফে ন্যাশনাল টিমস কমিটি। সেখানে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা ছাড়াও সাফ নিয়ে কথা বলেন ব্রুজোন। মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের দায়িত্ব পেয়ে দলকে আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সাফল্যের জন্য সব চেষ্টাই করবেন বলে জানান ব্রুজোন। বুধবার তার সংবাদ সম্মেলনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। 

ক্লাব আর জাতীয় দলের পার্থক্য

যখন আমি কিংসের দায়িত্বে ছিলাম, তখন আপনাদের অনেকবার বলেছি আমি একজন উইনার। আমি জয়ের জন্য খেলি। বাস্তবতা হচ্ছে, সাফের দলগুলোর মধ্যে আমরা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় দল। এটাও সত্য যে, আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। আমি এখানে ফাইনাল খেলার জন্য এসেছি এবং এই চাওয়াটা আপনাদের কাছে লুকাচ্ছি না। ক্লাব ও জাতীয় দল ভিন্ন ব্যাপার। আমি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের কোচিং করাতে যাচ্ছি। এই সুযোগ আগে কখনও পাইনি। প্রথমবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়াব একটা পুরো দেশের প্রতিনিধি হয়ে। আমি একজন লড়াকু সৈনিক। সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব। কোনো সন্দেহ নেই, এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই জানে, বাংলাদেশের সবাই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে কী ভাবে। তাই অনেক হিসাব কষে, ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে এখানে এসেছি।

সাফের প্রতিপক্ষ

সাফের প্রতিপক্ষ নিয়ে শুরুতেই বলব, বাস্তবতাকে লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের পর শুধু শ্রীলঙ্কা আছে। বাকি তিনটি দলই ওপরে। আমার কাছে বাস্তবতা ভিন্ন। যদি আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিততে পারি এবং আমার মনে হয় নেপাল ও মালদ্বীপ আমাদের চেয়ে ভালো দল নয়, তারা আমাদের হারাতে পারে, ড্র করতে পারে, আবার আমরা তাদের হারাতেও পারি। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে মালদ্বীপ ও নেপালই আমাদের মূল প্রতিপক্ষ। ভারতের ব্যাপারে যদি বলি, সেখানে অনেক বছর কাজ করেছি। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে হয়তো বা ওরা অনেক এগিয়ে। টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল পর্যালোচনা যদি করা হয়, তারা আমাদের মানের। তাদের দলে এমন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর কোনো খেলোয়াড় নেই, যারা একাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী কিছু খেলোয়াড় তাদের আছে।

ফুটবলারদের প্রতি আস্থা

আমরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে যাচ্ছি, বিষয়টা ওভাবে বলব না। তবে হ্যাঁ, খেলোয়াড়দের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমার চিন্তা, পরিকল্পনা ছেলেদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ৫০ ভাগ সুযোগ আছে। ভিন্ন কিছুর স্বাদ তারা পেতে পারে। চিন্তার কিছু নেই। এখন ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। টেকনিক্যাল টেকটিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করব। ৪-৩-৩ ও ৪-৪-২ এই ফরমেশন নিয়ে কাজ করব। খুব অল্প সময়ের মধ্যে যার যার পজিশনে মানিয়ে নিতে হবে। কত গোল হজম করব, এটা ভেবে যেন মাঠে না নামি। প্রতিপক্ষ যদি হাই ব্লক করে খেলতে চায়, আমরাও হাই ব্লক করব। আমরা আত্মঘাতী হতে চাই না। এক সপ্তাহের মধ্যে ফুটবলকে আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা, আমি জাদুকর নই, আমি যোদ্ধা।

জেমির প্রশংসা

কোচের প্রশংসা দিয়েই শুরু করছি। গত দুই বছর তিনি আমাদের সংস্পর্শে ছিলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, দারুণ কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক সফরগুলোতে তিনি যে ফল করেছিলেন, সেটা হয়তো বাফুফের চাওয়া অনুযায়ী ছিল না, কিন্তু আমি নিশ্চিত তিনি সেরা চেষ্টাই করেছিলেন। একজন সহকর্মীর স্থলাভিষিক্ত হওয়া দুঃখের। কিন্তু পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। এই দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছি।

মন্তব্য করুন