লড়াইটা মুশফিকুর রহিমের একার নয়। তার লড়াইকে আরও একজন নিজের করে নিয়েছেন। ভালোভাবে ফেরার লড়াইটা তাই হয়ে গেছে মুশফিক ও তার গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিমের। বিকেএসপির এই ক্রিকেট উপদেষ্টা কোচ নিউজিল্যান্ড সিরিজে শিষ্যকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। চুলচেরা বিশ্নেষণ করে মুশফিকের শট খেলায় ফাইনটিউন করার প্রয়োজন বোধ করেন ফাহিম। নিজের ইচ্ছের কথা জানাতেই শিষ্যও রাজি হয়ে যান গুরুর সঙ্গে একান্ত অনুশীলন করতে। বিকেএসপিতে গিয়ে তিনটি সেশনের দুটি শেষ করে ফেলেছেন। আজ তার শেষ সেশন। মূলত মুশফিকের শট ভান্ডারে নতুন কিছু যোগ করা এবং পারোঙ্গম শটগুলোতে ধারাবাহিকতা আনার জন্যই সেশনগুলো করা বলে জানান ফাহিম।

বিকেএসপি মুশফিকের ক্রিকেটের পাঠশালাও। শৈশবে যেখানে ফাহিমের মতো কোচের কাছ থেকেই ক্রিকেটের শিক্ষা নিয়েছিলেন। গতকাল দু'জনে মিলে কী ধরনের কাজ করছেন, সে সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হলে ফাহিম বলেন, 'সামনে টি২০ বিশ্বকাপ ব্যাটিং নিয়ে কিছু কাজ হচ্ছে। পাওয়ার জেনারেট করা, দু-একটি শট বাড়ানো যায় কিনা, আগে যে শটগুলো ছিল, সেখানে সংযোজন করা যায় কিনা। সেসব নিয়ে টুকটাক কাজ হচ্ছে।' মুশফিককে হঠাৎ করে তাকে কেন এই বিশেষ ট্রেনিং দেওয়ার প্রয়োজন হলো, সে ব্যাপারে বিকেএসপির এই কোচ বলেন, 'টি২০-তে সমস্যা হলো ডটবল দেওয়া যাবে না। বড় স্কোর চেজ করার সময় কোনো কোনো ওভারে ৮ বা ১০ রান নেওয়ার প্রয়োজন হয়। ব্যাটসম্যানের হাতে অনেক শট থাকলে বোলাররা আটকাতে পারে না। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও যাতে ডমিনেট করে খেলতে পারে, সে জন্য কিছু শট যোগ করা। ওকে দেখার পর আমার মনে হয়েছে কিছু কাজ করা দরকার, সেটা ওকে জানাতে বলল ঠিক আছে- আমরা একসঙ্গে একটু কাজ করি।'

দেড় দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরও মুশফিকের একাগ্রতা ও নিবেদন দেখে মুগ্ধ ফাহিম। 'এখন ওর ক্যারিয়ারের যে জায়গাটায় আছে, এখানে আসার পরও ওর মধ্যে ভালো খেলার তীব্রতা, তাড়না সবার জন্য দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত। এতদিন বায়ো-বাবলে ছিল, সামনে আবার খেলা, সে কিন্তু বিশ্রামে থাকতে পারত। অথচ ও প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে যাবে ম্যাচ খেলতে। ওর মাথায় সারাক্ষণ কাজ করছে- ভালো পারফর্ম করতে হবে। এতদিনের পরিশ্রম দিয়ে এই জায়গায় এসেছে। এত বড় একটা প্ল্যাটফর্মে ভালো কিছু করার যে তাগিদ, সেটা বিশ্বক্রিকেটের জন্যই উদাহরণ।'

মন্তব্য করুন