ম্যাচ শেষে রাকিব হোসেনের কান্নার দৃশ্যটা হয়ে থাকল বাংলাদেশ ফুটবলের প্রতিচ্ছবি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ মিডফিল্ডারের ফেরাটা সুখকর হয়নি তার শিশুতোষ একটি ভুলের কারণে। মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসিয়ে ব্যাকপাস করেন রাকিব। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর সঙ্গে দূরত্বের হিসাবটা হয়তো খেয়ালই করেননি তিনি। তারপরও তার ওই ব্যাকপাসেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বাংলাদেশকে। কারণ, রাকিবের ব্যাকপাস ফেরাতে গিয়ে বক্সের বাইরে চলে আসতে হয় জিকোকে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে লাগে তার হাতে। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান বাংলাদেশ গোলরক্ষককে। যেটা চাইলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখাতে পারতেন। কারণ, বল প্রথমে জিকোর পায়ে লেগেছিল, তারপর হাতে লাগলেও সেটা ছিল অনিচ্ছাকৃত। ৭৯ মিনিটে জিকোর লাল কার্ডে সর্বনাশের শুরু। আর শেষটা হয়েছে ৮৮ মিনিটে রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে। মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে গতকাল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে মাস্ট উইন ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। আট মিনিটের মধ্যে লাল কার্ড এবং পেনাল্টিতেই এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশ। রেফারির দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সাফ থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ কোচ অস্কার ব্রুজোন ষড়যন্ত্র দেখছেন। গতকাল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রেফারির প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন স্প্যানিশ এ কোচ, 'রেফারি আমার খেলোয়াড়ের প্রতি অবিচার করেছেন। তিনি আনফেয়ার ছিলেন। আমি ভারত ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে বলে আসছিলাম। আজ (বুধবার) তো সবাই দেখেছে কী হয়েছে।'

অথচ ম্যাচের ৯ মিনিটে সুমন রেজার গোলে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলানোর পথে দারুণভাবেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু লাল কার্ড ও পেনাল্টিতেই ভেঙে যায় ২০০৫ সালের পর সাফের ফাইনালে ওঠার আশা। বাংলাদেশের বিপক্ষে রেফারির এ দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ব্রুজোনের, 'জিকো বক্সের বাইরে প্রথমে পা দিয়ে বল স্পর্শ করেছে। এরপর বল তার হাতে লেগেছে, সেটাও ইচ্ছাকৃত নয়। লাল কার্ড দেওয়ার মতো ছিল না। পেনাল্টির কথা আর কী বলব। এটা সম্পূর্ণ অর্থে ভুল সিদ্ধান্ত। এর চেয়ে বেশি বললে আমি এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হবো।' গত আগস্টে এই মালদ্বীপে এএফসি কাপে ভারতের মোহন বাগানের বিরুদ্ধে বসুন্ধরা কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরাকে রেফারির লাল কার্ড দেখানো ছিল বিতর্কিত। দুই মাসের মধ্যে আরেকটি তিক্ত অভিজ্ঞতা। এটাকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন ব্রুজোন, 'এটাকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য চক্রান্ত ছাড়া আর কী হতে পারে। বাংলাদেশের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস যেন উন্নত পর্যায়ে যেতে না পারে, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত। জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও এমন হলো।'

মন্তব্য করুন