নয় মিনিটে সুমন রেজার গোলে ফাইনালের স্বপ্ন উঁকি দিতে থাকে। কিন্তু ৮৬ মিনিটে রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। বুধবার মাস্ট উইন ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ দল। মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতে মাঠের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাকিব হোসেন-তপু বর্মণরা। সেই কান্নার রেশ থাকে ড্রেসিংরুমেও। সবার চোখেমুখে ছিল হতাশা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, সান্ত্বনা দেওয়ার মতো অবস্থায় কেউই ছিলেন না। টিম হোটেলে যাওয়ার পর সবাই ছিলেন নীরব। রাতে তো ঘুমাতে পারেননি কেউ। বারবার রেফারির দেওয়া ভুল পেনাল্টির বাঁশিটাই যেন কানে বাজছিল জামাল ভূঁইয়াদের। নির্ঘুম রাত কাটানোর পরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেননি কেউ। গতকাল বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় আনিসুর রহমান জিকোর কথাতেই ফুটে উঠেছে কতটা কষ্টে আছেন তারা, 'এর আগেও খারাপ লাগার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু কালকের (বুধবার) মতো এত খারাপ লাগেনি। কাল আমরা এক গোলে লিড নেওয়ার পর মনে করেছিলাম ফাইনালে যাব। আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনাল খেলব। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত ছিলাম। আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হয়নি, সবাই আমরা অনেক ভেঙে পড়েছি। ড্রয়ের পর ড্রেসিংরুমে সবাই অনেক কান্নাকাটি করেছে। কেউ কারও দিকে তাকাতে পারিনি। আমরা কেউই ঘুমাতে পারিনি।'

ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ৭৯ মিনিটে গোলরক্ষক জিকোর লাল কার্ড। রাকিবের শিশুতোষ ব্যাকপাস ফেরাতে গিয়ে বল হাতে লাগে বসুন্ধরা কিংসের এ গোলরক্ষকের। রেফারির লাল কার্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বৃহস্পতিবার জিকোর কথায় মনে হয়েছে লাল কার্ডটা সঠিকই ছিল, 'আসলে এটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। লাল কার্ড দিয়েছে, সেটা সমস্যা নয়। কিন্তু পেনাল্টি যেটা দিয়েছে সেটা আমাদের পক্ষে ছিল না। এটা বাজে একটা সিদ্ধান্ত।' বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফুটবলাররা। সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন জাতীয় দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, 'আমরা দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী আপনাদের (সমর্থক) কাছে। সব ভক্ত বিশেষ করে মালদ্বীপের প্রবাসী ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারিনি। কতটা খারাপ লাগছে বলে বোঝাতে পারব না। কঠিন সময় সবাই পাশে থাকবেন, এই প্রার্থনা করি।' খেলা শুরুর সময় চোখের নিচে আঘাত পেয়েছিলেন বিপলু আহমেদ। রক্তও ঝরেছিল। ব্যান্ডেজ করে দেশের জন্য খেলেছিলেন। মাঠ থেকে যাওয়ার পর তার চোখের নিচে তিনটি সেলাই করা হয়েছে। অন্য সবার মতো ঘুমহীন রাত কাটানো বিপলুও মেনে নিতে পারছেন না এমন বিদায়। সমর্থন দেওয়ায় সমর্থকদের ধন্যবাদ দেওয়ার সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও, 'বাংলাদেশের সব সমর্থককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি সবাইকে ভালোবাসি। যদি তাদের হাতে পুরো বিশ্ব তুলে দিতে পারতাম... যেভাবে তারা আমাকে ও পুরো দলকে ভালোবাসা দিয়েছে। তবে এই ফলে আমি হতাশ। আমরা ফাইনালে যেতে পারিনি। দুঃখিত সমর্থক। আশা করি আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারব।'

১৬ বছর পর সাফের ফাইনালে উঠতে না পারা বাংলাদেশ দল দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেও পারেনি। আজ বিমানের টিকিট না পাওয়ায় আগের তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর দেশে ফিরবেন জামাল ভূঁইয়ারা।

মন্তব্য করুন