২০১৪ সালে শিরোপাজয়ী শ্রীলঙ্কার জন্য প্রথম রাউন্ডে খেলাটা আসলে কিছুটা বিব্রতকর। আসলে এটা তো বাছাইপর্ব। অবশ্য ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা শ্রীলঙ্কার জন্য এটা সুযোগও। তাদের নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বাছাইপর্বে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর সঙ্গে খেলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পারবে। সে লক্ষ্যেই আজ তারা প্রথমবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসা নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে। আবুধাবির বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে খেলা।

টি২০ বিশ্বকাপে অভিষেক হলেও বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো খেলতে এসেছে নামিবিয়া। ২০০৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ১৮ বছর আগে নামিবিয়া যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলে তখন বর্তমান অধিনায়ক গের্হাড এরাসমাসের বয়স মাত্র ৭ বছর। ২০০৩ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচের সবক'টিতে হারলেও এরাসমাসের নেতৃত্বে নামিবিয়ার সোনালি প্রজন্ম এবার ছাপ রেখে যেতে চায়। এই একঝাঁক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার ডেভিড উইসা। নামিবিয়ার এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, তারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে। তারা জানে তাদের হারানোর কিছু নেই। শ্রীলঙ্কার মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলাটাই যে তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আর অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারলে তো কথাই নেই! এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল।

অবশ্য শ্রীলঙ্কার সেই প্রতাপ আর নেই। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর একে একে কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশান, রঙ্গনা হেরাথ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকেরা, থিসারা পেরেরা অবসর নেন। এই সাতজনই ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। একটা প্রজন্ম বিদায় নেওয়ার পর যে কোনো দেশের খেলায় একটা ধাক্কা লাগে। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটও গত ক'বছর ধরে সে ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মাঝে আবার ইংল্যান্ডে বায়ো-বাবল ভেঙে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিন নিয়মিত সদস্য কুশল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকওয়েলা ও দানুশকা গুনাতিলকা। তবে দলের এই কঠিন সময়ে ক'জন নতুন প্রতিভাও বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে চারিথ আশালঙ্কা, আভিশকা ফার্নান্দো, কামিন্দু মেন্ডিস এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারেন। তাদের সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দুই অভিজ্ঞ দিনেশ চান্দিমাল ও কুশল পেরেরাকে। তাই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও আজকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাই ফেভারিট। তাদের প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে তারা। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপের মুখে পাওয়া জয় লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন