হাইব্রিড প্রেস কনফারেন্স করার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। এর রূপরেখা সম্পর্কে জানা ছিল না। শনিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর দারুণ এক অভিজ্ঞতা হলো। স্বাভাবিক সময়ের মতোই হলো মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলন। পার্থক্যটা ডায়াস থেকে সাংবাদিকদের আসন রাখা হয়েছে ১০ মিটার দূরে। করোনাকালীন নিয়ম মেনে সবার মুখেই ছিল মাস্ক। বাকি সবই স্বাভাবিক। কতদিন পর এমন একটি সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ হলো। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ সংবাদ সম্মেলনটি ছিল কনফারেন্স রুমে। এরপর পৃথিবীর অসুখ হলো। করোনাভাইরাস মহামারি খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দিল। সংযোজন হলো জুম প্রেস কনফারেন্সের। এতদিন সে নিয়মেই চলছিল। টি২০ বিশ্বকাপ সেই একঘেয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে সাময়িক মুক্তি দিল। দেশেও বড় হলরুমে সামাজিক দূরত্ব রেখে মুখোমুখি সংবাদ সম্মেলন করা যেতে পারে।

নিউ নরমাল সময়ে বিশ্বকাপ কাভার করতে এসে প্রতিনিয়তই নানা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। মাঠে অনুশীলন দেখার সুযোগ রেখেছে আইসিসি। সেখানেও খেলোয়াড়দের থেকে ১০ মিটার দূরত্বে দাঁড়াতে হয়। ওমানের মাসকটের ভেন্যুতে আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার মেরি গুদবেয়ার পেশাদার গাইডের মতো সাংবাদিকদের সব বোঝালেন- কী করা যাবে, কী করা যাবে না। মাঠের পেরিমিটার বোর্ডের কাছে যেতে বারণ নেই। আগের বিশ্বকাপগুলোতে শুধু ম্যাচ ডের টিকিট নিতে হতো। এই বিশ্বকাপে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের জন্যও পাস লাগছে। আইসিসির অ্যাক্রিডিটেশন বিভাগ থেকে আগের রাতে মেইল পাঠায়, সেখানে লিখে দিতে হয় আগ্রহের কথা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের পাস দেয় আইসিসি। শনিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের আগে 'অ্যাপ্রুভ' মেইল দেখিয়ে নিতে হলো পাস। প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশ দলের অনুশীলন খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হলো। বিশ্বকাপের পুরোটা সময়ই নিউ নরমাল নিয়মে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মানার নিয়ম থাকায় প্রেসবক্সের আসন সংখ্যা অর্ধেক করা হয়েছে। আল আমেরাত স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ৩০ জন সাংবাদিক ম্যাচ কাভার করার সুযোগ রেখেছে। ম্যাচ টিকিট পাওয়া সৌভাগ্যবানদের একজন আমি।

ওমানে কভিড সংক্রমণ তেমন একটা না থাকলেও নিয়ম ভাঙার সুযোগ নেই। মাঠকর্মী, বিশ্বকাপ আয়োজন সংশ্নিষ্ট সবাই সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে দেখা ভালো লাগার মতো দৃশ্য। স্টেডিয়ামের বাইরে নিয়মটা বেশ কড়াকড়ি। মাস্ক ছাড়া রাস্তায় চলাচল নিষিদ্ধ। ভুল করেও মাস্কবিহীন বাড়ি বা হোটেলের বাইরে গেলে জেল-জরিমানা করা হতে পারে। ভাড়ায় চলা ট্যাক্সি একজন করে যাত্রী নিতে পারে। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে নিষেধ নেই। নিয়মের কড়াকড়ি থাকলেও বিশ্বকাপ কাভার করতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। বরং বিশ্বকাপের মাঠে প্রবেশ করতে পারা, সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়া দারুণ রোমাঞ্চকর। মাসকটে বেড়াতে বারণ নেই। সমুদ্রসৈকতে বেড়ানো, পাহাড়ে চড়া যায়। সৈকতে লোক সমাগম দেখা গেলেও পাহাড় আরোহণকারী একজনেরও দেখা মেলেনি। আমাদের হোটেল পাহাড়ের পাদদেশে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখাচোখি হয় পাহাড়ের সঙ্গে।

মন্তব্য করুন