হোক না প্রতিপক্ষ নতুন কিংবা পাপুয়া নিউগিনি, তাই বলে একটা উইকেটও খোয়া যাবে না! কী সাবলীল ব্যাটিং, ছন্দ, তাল-লয়- কোনটার অভাব ছিল। সব অলংকার দিয়েই রোববার নিজেদের জয়টা সাজিয়েছে ওমান। টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম চান্স পাওয়া পাপুয়া নিউগিনিকে যেন গোনায়ই ধরল না তারা, উড়িয়ে দিল ১০ উইকেটে; তাও আবার ৩৮ বল হাতে রেখে।

এমন উড়ন্ত জয়ে রেকর্ড না হয়ে পারে। ওমানও ঢুকল চার-ছক্কার বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকে। টি২০ বিশ্বকাপে উইকেটের দিক থেকে সবচেয়ে বড় জয়ের হিসেবে এটি যৌথভাবে প্রথম। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথম ১০ উইকেটের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। কেপটাউনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই জয় ছিল লম্বা সময় উইকেটের দিক থেকে বড়। এরপর ২০১২ বিশ্বকাপে হাম্বানটোটায় জিম্বাবুয়েকে ১০ উইকেটে চূর্ণ করে সাউথ আফ্রিকা। এ ছাড়া টি২০'র ওভারল হিসাবে ওমানের এটা দ্বিতীয় ১০ উইকেটের জয়। তার আগে ২০২০ সালে মালদ্বীপকে একই ভেন্যুতে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল।

মাসকটের আল আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৯ রান করে পাপুয়া নিউগিনি। জবাবে ১৩.৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে ওমান। যে জয়ে 'বি' গ্রুপে থাকা ওমান দুই পয়েন্ট তুলে নিল অনায়েসে। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি, যাদের পছন্দের খেলা রাগবি। যে তালিকায় ক্রিকেটকে খুঁজতে হলে নামতে হবে অনেক নিচে। তবে এবার প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় নতুনভাবে ভাবছে দেশটির খেলাপাগল মানুষ। তাদের সেই ভাবনার আঙিনায় যাত্রাতেই হতাশা লেপ্টে দিল ওমান।

মুদ্রা লড়াইয়ে বোধহয় বিধাতা ওমানের ভাগ্যটা লিখে রাখে। আগে বল হাতে নিয়ে একটুও ভুল করেনি তারা। পাপুয়া নিউগিনির দুই ওপেনারকে শূন্যতেই বিদায় করে। এরপর দলনেতা আসাদ ভালা সেই ধাক্কা সামলে ওঠার ভালোই চেষ্টা চালান। ব্যক্তিগত ফিফটি উদযাপনের পর অবশ্য বেশিদূর যাওয়া হয়নি তারও। কলিমুল্লাহর বলে যতীন্দ্রর সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তাকে সঙ্গ দিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়ে যাওয়া চার্লেস আমিনি রান আউটে কাটা পড়েন ব্যক্তিগত ৩৭ রানের মাথায়। ১১ জনের মধ্যে এই দু'জনের পারফরম্যান্সই উল্লেখ করার মতো।

জবাব দিতে নেমেই আসল হুঙ্কার দিল ওমান। দুই ওপেনার আকিব ও যতীন্দ্ররই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাপুয়া নিউগিনি :১২৯/৯ (আসাদ ৫৬, চার্লেস ৩৭, বাউ ১৩; মাকসুদ ৪/২০, বিলাল ২/১৬)
ওমান :১৩.৪ ওভারে ১৩১/০ (আকিব ৫০*, যতীন্দ্রর ৭৩*; আসাদ ০/১১)
ফল :ওমান ১০ উইকেটে জয়ী।

মন্তব্য করুন