বিশ্বমঞ্চে ফেভারিটদের হারানোর অভিজ্ঞতা আছে দু'দলেরই। বহু রূপকথার কাব্য লেখা আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আজ একে অন্যের প্রতিপক্ষ। টি২০ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে ওঠার অন্যতম দাবিদার ক্রিকেটের 'মিনোজ'খ্যাত এ দুটি দল। এ ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে দুই দলের পরের রাউন্ডে ওঠার ভাগ্য। আবুধাবি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এ ম্যাচটি দুই চেনা প্রতিপক্ষের লড়াই হিসেবে দেখছেন বোদ্ধারা। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণের লড়াইয়ে আইরিশদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ডাচরা এবার মরুর দেশে রূপকথা লিখতে চায়।

দুই গ্রুপ থেকে চারটি দল সুপার টুয়েলভে উঠবে। এর মধ্যে গ্রুপ 'এ'কে ধরা হচ্ছে কঠিন। কারণ এই গ্রুপে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে ফেভারিট ধরা হলে বড় কোনো অঘটন না ঘটলে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস থেকে যে কোনো এক দল পরের রাউন্ডে উঠবে। যে কারণে আজকের ম্যাচটি উভয় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শক্তির বিচারে সমানে সমান হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে কিন্তু এগিয়ে নেদারল্যান্ডস। ১২ বারের সাক্ষাতে ডাচদের সাত জয়ের বিপরীতে আয়ারল্যান্ড জিতেছে চার ম্যাচে। বাকি একটি পরিত্যক্ত হয়েছে। বিশ্বকাপের মহারণের আগে দু'দলের মধ্যকার সর্বশেষ লড়াইয়ে হেসেছে নেদারল্যান্ডস। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে ২১ রানে হারিয়েছিল ডাচরা। আর ২০১৪ সালের ২১ মার্চ সিলেটে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জয়টি তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গিয়েছে। পরের রাউন্ডে উঠতে হলে আয়ারল্যান্ডের ১৯০ রানের টার্গেট ১৪ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে হতো। ১৩.৫ ওভার খেলে সেই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করেছিল পিটার বোরেনের দল।

গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে দু'দলের বেশ কয়েকজনের দিকে দৃষ্টি থাকবে সবার। সাম্প্রতিক সময়ে টি২০তে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিংই হচ্ছেন দলটির ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা। আছেন অভিজ্ঞ কেভিন ও'ব্রায়েন। চলতি মাসের শুরুতে ওমানের বিপক্ষে ৬২ বলে ১২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন কেভিন; যা এই ফরম্যাটে কোনো আইরিশ ক্রিকেটারের প্রথম সেঞ্চুরি। টি২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হৃদয়ভাঙা নেদারল্যান্ডসও পরের রাউন্ডে ওঠার অন্যতম দাবিদার। ২০০৯ সালে লর্ডসে এবং ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ডাচরা। এবারও দলটি বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে। অধিনায়ক পিটার সিলারের দল ছাপিয়ে যেতে চায় অতীতের রেকর্ডকে।

মন্তব্য করুন