ক্লান্তি যেন স্পর্শ করতে পারে না সাকিব আল হাসানকে। আইপিএল ফাইনাল খেলে দুবাই থেকে শুক্রবার মাঝরাতে রওনা করে সড়ক পথে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে ভোরে মাসকট পৌঁছান তিনি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে দলের সঙ্গে অনুশীলনে করেছেন। এরপর গতকাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর দুটি উইকেট দখলের মধ্য দিয়ে কয়েকটি রেকর্ডেরও মালিক হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একটি রেকর্ড তো যে কোনো বোলারের জন্য ভীষণ আরাধ্য। লাসিথ মালিঙ্গাকে টপকে সাকিব এখন আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

সাকিব এই রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই। কিন্তু পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তিনি কোনো উইকেট পাননি। বিষয়টি হয়তো শাপেবরই হয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে মালিঙ্গাকে টপকে গেলেন তিনি। গতকাল পাওয়ার প্লের পরের ওভারে বোলিংয়ে আসেন ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনার। রেকর্ডটি করেন নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হেনে। তার করা একাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে লংঅনের ওপর দিয়ে ছয় মারতে চেয়েছিলেন স্কটিশদের ব্যাটিং লাইনের মূল ভরসা রিচি ব্যারিংটন। সীমানার ওপরে আফিফ দারুণ দক্ষতায় ক্যাচ ধরেন। দুই বল পরই লংঅফ সীমানার ওপর মাইকেল লিস্কের ক্যাচ ধরেন লিটন দাস। সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডের মালিক হয়ে যান সাকিব। টি২০ ক্রিকেটে এখন তার উইকেট সংখ্যা ১০৮। ১০৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মালিঙ্গা।

এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ডের মালিক হয়েছেন সাকিব। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রান ও ৬০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় বাঁহাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট নিলেন তিনি। ৭০৫ উইকেট নিয়ে তার ওপরে আছেন কেবল নিউজিল্যান্ডের সাবেক স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টরি। আর সব মিলিয়ে ২৩তম ক্রিকেটার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছালেন সাকিব। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের আরও একটি এলিট ক্লাবে গতকাল যোগ দিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে ৫ হাজার রান, ৩০০ উইকেট ও ৫০টি ক্যাচ ধরা চতুর্থ ক্রিকেটার হলেন সাকিব। এ তালিকার বাকি তিনজন হলেন কিয়েরন পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভো ও আন্দ্রে রাসেল। কেন সাকিব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, এসব পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।

মন্তব্য করুন