ভালোবাসার বাঁধন যেখানে আলগা সেখানে আবেগের ঢেউ খেলে না। ক্রিকেটের সঙ্গে ওমানিদের সম্পর্ক অনেকটাই তাই। সে কারণেই হয়তো বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনকে এতটা হালকাভাবে নিয়েছে দেশটি। উদ্বোধনী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার মতো কোনো কিছুই করেনি তারা। অনেকটা প্রেমহীন কর্তার দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার মতো বিশ্বকাপ ও আয়োজকের সম্পর্ক। যে দেশটি টানা দ্বিতীয় টি২০ বিশ্বকাপে খেলছে তাদের দলের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতেও ওমানিদের মধ্যে সাড়া নেই। গ্যালারির বেশিরভাগ আসন পড়ে রইল ফাঁকা। আঙুলের কড় গুনে বলে দেওয়া যেত নিজেদের দলের খেলা দেখতে এসেছিলেন কতজন ওমানি। তাও ভিআইপি জোনে দর্শক তারা। হয়তো ওমান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে মাঠে আসা অভিজাতদের। প্রেসবক্সে ওমানি সাংবাদিক নেই। চার-পাঁচজন প্রবাসী সাংবাদিক ম্যাচ কাভার করলেন। সাউন্ড সিস্টেম থেকে গলা ফাটালেও তাল মেলানোর মতো লোকের বড্ড অভাব গ্যালারিতে। অথচ সেই একই গ্যালারি দর্শকে পূর্ণ হলো বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে। ক্রিকেট ও দেশের প্রতি প্রেম মাঠে টেনে এনেছে প্রবাসীদের।

ওমান ক্রিকেট দলকে ভারত-পাকিস্তানের প্রবাসী দলও বলা যায়। কোনো সন্দেহ নেই যতীন্দ্র সিং, সন্দ্বীপ গড, মোহাম্মদ নাঈম, জিহান মাসুদরা ওমানের ভূমিপুত্র নন। যে দেশের জাতীয় দল গড়া হয় বিদেশিদের দিয়ে সে দেশে ক্রিকেট অনুরাগী রাতারাতি গড়ে ওঠার কথাও নয়। ক্রিকেটের বিশ্বকাপ স্থানীয়দের কাছে পাড়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে বেশি কিছু নয়। বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচ আয়োজনের জন্য ৮৯ দিনে পাথরের বুকে যে এত সুন্দর একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে তা রাষ্ট্রের সাপোর্টে না। ওমান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পঙ্কজ খিমজির নিজের উদ্যোগ ও ভালোবাসার উপহার এই স্টেডিয়াম নির্মাণ। খুমজিরা ওমানের হিন্দু শেখ। অর্থকড়ির অভাব নেই। ইচ্ছা করলে এমন চার-পাঁচটি স্টেডিয়াম বানানো তার জন্য কোনো বিষয় নয়। ওমানের এই একটি মানুষকেই মনে হবে ক্রিকেট অনুরাগী।

বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ক্রিকেটবিশ্বে ঢোকার ঐতিহাসিক মুহূর্ত, উদ্বোধনী দিনে ওমানের জয় পাওয়া নাড়া দেয়নি ওমানিদের। অথচ এই আয়োজন বাংলাদেশে হলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হতো ঢাকা। দলের জয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় পরিণত হতো আনন্দ নগরীতে। বিশ্বকাপ উদ্বোধনীকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশাল আয়োজন করা হতো বিসিবির পক্ষ থেকে। কারণ ক্রিকেট খেলাটিকে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। বাঙালি ক্রিকেট খায়, ক্রিকেট পান করে, ক্রিকেট প্রেয়সী। আর ওমানের কাছে ক্রিকেট হলো ভাড়াটে খেলোয়াড়ের খেলা। দেশটির ক্রিকেটারদের পেশা ক্রিকেট নয়। জীবন-জীবিকা নির্বাহে কেউ চাকরি করেন, কেউবা ব্যবসা পেশায় নিয়োজিত। এমন একটি দেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা না থাকাটাই স্বাভাবিক।

মন্তব্য করুন