বিশ্বকাপে বায়োসিকিউর বাবলের আওতায় টিম হোটেল চলে যাওয়ায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি কর্মকর্তাদের দেখা সাক্ষাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা যায়। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ওমানে থাকার পরও তাই সোমবার প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মিটিং করেন জুমে। কোচ এবং দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে যে কথা হয়, সেগুলো মিডিয়াতেও বলেছেন বোর্ড সভাপতি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে স্কটল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হেরে যাওয়ায় খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের একপ্রকার সমালোচনাই করেছেন তিনি। খেলোয়াড় এবং কোচের মধ্যে যে অন্তদ্র্বন্দ্ব চলছে, সে বিষয়টি উঠে এসেছে পাপনের কথায়। অন্দর মহলের রেষারেষি বোর্ড সভাপতি ফাঁস করে দেওয়ায় দলের ভেতরে চাপা অস্বস্তি কাজ করছে। ফোনে একজন ক্রিকেটারকে কুশল জিজ্ঞেস করা হলে তার উত্তর ছিল- 'ভালো নেই।' পরে আর কিছু জিজ্ঞেস করতে হয়নি। এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বলে যান। তিনি জানান, স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ায় দলের ভেতরে হতাশা কাজ করছে।

টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে মাসকটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের কাছে ৬ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে না পারা, বোলারদের রান বেশি দেওয়া, নিয়মিত ওপেনার নাঈম ইসলামের জায়গায় সৌম্য সরকারকে ওপেনিংয়ে রাখায় সমালোচনা করেন বিসিবি সভাপতি পাপন। হারের পেছনে পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতার অভাব দেখতে পেয়েছেন তিনি। যদিও কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সৌম্য সরকারকে প্রথম ম্যাচে খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মাহমুদউল্লাহর পিঠে ব্যথা থাকায় সৌম্যর বোলিংটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। যদিও ম্যাচ হারের পর এসব ব্যাখ্যার কোনো মানে থাকে না। আইসিসি সহযোগী দেশের কাছে হেরে যাওয়ায় সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। সেটা সাপোর্টার বা বিশ্নেষকদের দিক থেকে হলে সমস্যা নেই। ক্রিকেটারদের আপত্তি, বিসিবি কর্মকর্তাদের নেতিবাচক কথা নিয়ে। দলের ভেতর থেকে নাম গোপন রাখার শর্তে একজন বলেন, 'বোর্ড তার খেলোয়াড়দের প্রোটেক্ট করবে। আমাদের ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। দলের ভেতরের কথাও ফাঁস করে দেওয়া হলো। তারা যা বলেন, সেগুলো তো প্রত্যেক খেলোয়াড় জেনে যায়। গত দু'দিন যত সমালোচনা হয়েছে, সব কথা আমরা জানি। জিনিসগুলো যে খেলোয়াড়দের মনের ওপর প্রভাব ফেলে, কর্মকর্তারা বোঝার চেষ্টা করেন না। উনাদের বোঝা উচিত স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছি, মানে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যাইনি।' কেবল এবারই যে বিসিবি বস এমন করলেন, তা কিন্তু নয়। প্রায়ই কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজের মাঝে মিডিয়াকে ডেকে এনে অবলীলায় দলের ভেতরের খবর বলে দেন তিনি, যা নিয়ে খেলোয়াড়রা অনেক দিন ধরেই মনোকষ্টে ভুগছেন।

বায়োবাবলের কড়া নিয়মে খেলোয়াড়রা হোটেলবন্দি জীবন কাটালেও বাইরে থেকে খবর পৌঁছানোর লোকের অভাব নেই। সোমবার যেমন মিডিয়াকে বলা বিসিবি সভাপতির সব কথা পৌঁছে দিয়েছেন কেউ। বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কে কবে, কখন, কোথায় দল নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন, সে বার্তাও আছে তাদের কাছে। খেলোয়াড়রা যেমন বাইরের ঘটনা জেনে যান, বোর্ড কর্তাদের কাছেও ক্রিকেটারদের দলাদলি এবং ব্যক্তিগত রেষারেষির খবর পৌঁছে যায়। ক্রিকেটারদের অস্বস্তির বিষয় নিয়ে একজন পরিচালকের মতামত জানতে চাওয়া হলে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে নাম গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, 'তারা যেটা করেন, দলের জন্য সেটা তো ভালো না। তারা ভুল করলে কিছু বলা যাবে না, এটা তো হতে পারে না। বাংলাদেশ দল কোনো ব্যক্তির সম্পদ নয়। তারা দলের জন্য জান বাজি রেখে খেলুক, ম্যাচ জেতাক, কোনো কথা হবে না।'

মন্তব্য করুন