দুবাইয়ের ২২ গজে কি আজ আগুন ঝরবে! অবস্থাদৃষ্টে কিন্তু তেমনই মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এমনিতেই ভিন্ন মাত্রা পায়। আর বিশ্বকাপ মঞ্চের কারণে সে লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্রিকেটবিশ্বে। দুই দেশের ক্রিকেটপাগল জনগণ তো বটেই, এই উত্তাপে পুড়ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের, অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লিরাও। দুই দেশের বৈরিতার পাশপাশি এই লড়াই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার আরও কারণ হলো, সময়ের সেরা মেগাস্টাররা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন। কোহলি-রোহিত-বুমরাহদের জবাব দিতে পারবেন বাবর-শোয়েব-হাসানরা! কাগজে-কলমে অবশ্য ভারত ফেভারিট। কিন্তু এটা হলো স্নায়ুর লড়াই। এখানে যে দল স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে তারাই জিতবে।

সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে খেলার আয়োজন এখন নেই বললেই চলে। দ্বিপক্ষীয় সফর থেকে তারা বিরত রয়েছে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে। কেবল আইসিসি ইভেন্ট কিংবা বিভিন্ন আন্তঃমহাদেশীয় টুর্নামেন্টে তাদের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। এ কারণেই ভারত-পাকিস্তান লড়াই দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকেন। এই দু'দলের লড়াইয়ের জন্য আইসিসি থেকে শুরু করে সম্প্রচারকারী সংস্থাসহ সব পক্ষই অপেক্ষায় থাকেন। কথিত আছে, এই এক ম্যাচ থেকেই নাকি একটি বিশ্বকাপের পুরো খরচ উঠে যায়। আর দুই বোর্ডের কথা তো বলাই বাহুল্য। এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতকে হারানোর জন্য ক্রিকেটারদের বড় বোনাসের টোপ দিয়েছে। এই একটি ম্যাচ জিততে পারলে তাদের ক্রিকেট ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত পেয়ে যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন পিসিবির নয়া চেয়ারম্যান রমিজ রাজা।

এমন বৈরিতা থাকলেও বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাসটা বড্ড একপেশে। ওয়ানডে ও টি২০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে এই দুই দেশ এখন পর্যন্ত ১২ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে প্রতিবারই বিজয়ীর হাসি হেসেছে ভারতীয়রা। এর মধ্যে ২০০৭ সালে শুরু হওয়া টি২০ বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে সবক'টি ম্যাচ জিতেছে ভারত। ঘটনাক্রমে টি২০ বিশ্বকাপে ভারতীয়দের সব জয় এসেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্ব্বে। এবার বিরাট কোহলির নেতৃত্বে নামছে ভারত। পাকিস্তান নামছে বাবর আজমের নেতৃত্বে। এরই মধ্যে অতীত ইতিহাস বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সুনীল গাভাস্কার, সৌরভ গাঙ্গুলী, ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতারদের মতো দুই দেশের কিংবদন্তিরা অবশ্য এই লড়াইয়ে কাউকে ফেভারিট ভাবতে নারাজ। এই ফরম্যাটে দলগুলোর মধ্যে শক্তির পার্থক্য এমনিতেই কমে যায়। তার ওপর কোনো একজন খেলোয়াড়ের অসাধারণ একটি ইনিংস কিংবা দুর্দান্ত একটি স্পেল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

হতে পারে ছন্দে না থাকা বিরাট কোহলি এই ম্যাচেই জ্বলে উঠবেন, কিংবা শাহিন আফ্রিদি প্রথম ওভার বোলিং করতে এসেই কেএল রাহুলকে আউট করে ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। কিংবা মোহাম্মদ রিজওয়ানের একটি ইনিংস, বা মোহাম্মদ শামির দুর্দান্ত স্পেল হয়ে উঠতে পারে নির্ধারক। যদিও দুই দলের ক্রিকেটাররাই ম্যাচটিকে আর দশটি ম্যাচের মতো দেখছেন বলেই জানাচ্ছেন। আসলেই কি তাই? তারা নিজেরাও জানেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জেতাতে পারলেই দেশের মানুষের মুখে মুখে ঘুরবে তার বীরত্বের কাহিনি। বিষয়টি ভারতের বর্তমান প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। ১৯৮৬ সালে এই মধ্যপ্রাচ্যের শারজাহতেই চেতন শর্মার শেষ বলে ছয় মেরে পাকিস্তানকে জয় এনে দিয়েছিলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। ৩৫ বছর আগের সেই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী হয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন