গেলবার এশিয়া কাপে এলেও শারজায় আসা হয়নি কারও। দুবাই আর আবুধাবিতেই সব ম্যাচ ছিল। গতকালই প্রথম এই মাঠে এসে অনুশীলন করেছেন মাহমুদউল্লাহরা। প্রথম দর্শনেই ভালো লেগেছে কিনা তা অবশ্য বোঝা যায়নি কারও চোখমুখ দেখে। তবে এটা আন্দাজ করা গেছে যে, এই মাঠের বাউন্ডারির আকার দেখে একটা স্বস্তি ছিল প্রায় সবার মধ্যেই। ওমানের মাঠটির মতো এখানকার বাউন্ডারির সীমানা অত বড় নয়। তবে দুপুর ২টায় ম্যাচ শুরুর কারণে এখানকার ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রির গরম একটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে টাইগারদের। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য খুশি সন্ধ্যায় ম্যাচ না হওয়ায়। তার যুক্তি, শিশির নিয়ে অন্তত ভাবতে হবে না তাদের। ডমিঙ্গো এই সুবিধাই কাজে লাগাতে বলেছেন ছেলেদের এবং জানিয়ে দিয়েছেন, ছোট বাউন্ডারির সুবিধাও কাজে লাগাতে হবে। পরামর্শ দিয়েছেন, দলের বাইরের কোনো খবরে কান না দিয়ে সব মনোযোগ দিতে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে।

প্রথম পর্ব থেকে সুপার টুয়েলভে দ্বিতীয় হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। এই পর্বে কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে।

ডমিঙ্গো: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সব সময় সবকিছুতেই উন্নতি করার জায়গা থাকে। আমরা দেখেছি, প্রথম পর্বে আমাদের ব্যাটাররা অনেক সময় ক্লিক করতে পারেনি, শুরু থেকে মাঝের ওভারগুলোতে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেনি তারা। আবার ডেথ ওভারগুলোতেও আশানুরূপ হয়নি। সুতরাং সব জায়গাতেই উন্নতির জায়গা রয়েছে। তবে বোলিংয়ে আমাদের খুশি হওয়ার কিছু ব্যাপার হয়েছে। ফিল্ডিংয়েও আমরা ভালো করেছি।

বিশ্বকাপের মাঝেই অনেক ক্রিকেটারকে ইমোশনাল মনে হচ্ছে। তারা সংবাদ সম্মেলনে আবেগী হয়ে পড়ছেন।

ডমিঙ্গো: দেখুন, আমি এখানে শুধুই ক্রিকেটকে ফোকাস করতে চাই। দলের বাইরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নই। আমার সব ফোকাস আগামীকাল (আজ) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ছেলেদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা। যখন আপনি বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন এবং সবকিছু প্রত্যাশামতো হবে না তখন আপনাকে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে। এটা আসলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের একটা অংশ। মানুষ কী লিখবে না লিখবে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা শুধু আমাদের পারফরম্যান্সের ওপরই ফোকাস করতে পারি। কোন জায়গায় আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, সেটা নিয়ে কাজ করতে পারি। এর বাইরে বেশি কিছু আমরা করতে পারি না।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আপনার দলের এক্স-ফ্যাক্টর কে হতে পারে।

ডমিঙ্গো: গত কয়েক মাস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। যেখানে ওয়ানডে ও টেস্টে আমাদের ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আমাদের হাতে দক্ষ বোলার ও দারুণ কিছু ব্যাটার রয়েছে- যে কারণে আমি বলতেই পারি, আমরা ব্যালেন্সড একটি দল। তা ছাড়া আমাদের হাতে বিশ্বমানের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান রয়েছে। শারজাহর এই কন্ডিশনে আমাদের দল ভালো করবে বলে বিশ্বাস করি আমি। আমার কাছে মনে হয়েছে, ঢাকার উইকেটের সঙ্গে শারজাহর উইকেটের বেশ মিল রয়েছে। তবে সবকিছুই বোঝা যাবে ম্যাচে নামার পর।

সুপার টুয়েলভে সব ম্যাচ দুপুর ২টায় (স্থানীয় সময়) খেলতে হচ্ছে। এটা অস্বস্তির কোনো কারণ হবে কি?

ডমিঙ্গো: আমি তা মনে করি না। বরং আমি খুশিই হয়েছি দুপুর ২টায় ম্যাচ শুরু হওয়ায়। কারণ এখন আমাদের সন্ধ্যার পর শিশির নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তাতে আমাদের স্পিনারদের জন্য ভালোই হবে। আমরা দেখেছি অন্য দলগুলো এই শিশির নিয়েই বেশি ভাবছে। এই ফরম্যাটে যে কেউ যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। সে কারণে আমরা কোন গ্রুপে পড়লাম কিংবা কোন গ্রুপে পড়লে ভালো হতো, সেটা নিয়ে মোটেই ভাবছি না। এখানে সুবিধা বা অসুবিধা বলতে কোনো ব্যাপার নেই। সব গ্রুপই একই সমান শক্তিশালী।

শারজাহর পিচ দেখেছেন কি, এখানে বাংলাদেশিরা কতটা সুবিধা পেতে পারে?

ডমিঙ্গো: এখানে আমি বছর কয়েক আগে একবার দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এসেছিলাম। তখন দেখেছি, লম্বা বোলাররা বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে পারে এই পিচ থেকে। মরনে মরকেলকে দেখেছি শর্ট অব লেন্থের বোলিং করে উইকেট শিকার করতে। বল বেশ স্কিড করে এখানে। স্পিনাররাও উইকেট টু উইকেট বোলিং করতে পারলে ভালো করবে। তবে এখানে নতুন উইকেট বসানোর পর খেয়াল করেছি দিন দিন রান কমছে। আমাদের জন্য এই মাঠের সুবিধা একটিই যে, এখানে বাউন্ডারির দূরত্ব কয়েক জায়গায় বেশ কম। যেহেতু আমাদের হাতে পাওয়ার হিটার কম, সেহেতু ছোট মাঠের এই সুবিধাই আমরা নিতেই পারি।

লঙ্কান লেগস্পিনার হাসারাঙ্গা এই আসরে বেশ সফল। তাকে নিয়ে বাড়তি কোনো স্টাডি করা হয়েছে কি?

ডমিঙ্গো: ওই যে বললাম, গত কয়েক মাস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি আমরা। সেখানেই হাসারাঙ্গাকে আমাদের ব্যাটাররা ভালো খেলেছে। আমরা তার সামর্থ্য জানি, নিজেদেরটাও জানি।

পাওয়ার প্লেতে আমাদের প্রত্যাশামতো রান আসছে না। এটা কতটা ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে?

ডমিঙ্গো: এটা ঠিক যে, পাওয়ার প্লেতে ভালো পারফরম্যান্স কতটা জরুরি। এটা দেখা গেছে, যে দলগুলো পাওয়ার প্লেতে ভালো করছে তারাই ম্যাচ জিতে নিচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুর ছয় ওভার ব্যাটিং ও বোলিং ভালো করাটা অত্যন্ত জরুরি আমাদের জন্য।

শারজাহতেই প্রথম পর্বে শ্রীলঙ্কা কিছু ম্যাচ খেলেছে। এটা তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে কি?

ডমিঙ্গো: আমি সেটা মনে করি না। প্রথম পর্বের কোনো কিছু এই পর্বে এসে কাউন্ট হবে না। দু'দলই কাল নতুন করে শুরু করবে।

মন্তব্য করুন