তাদের বলা যায় এশিয়ার ওয়েস্ট ইন্ডিজও। পাওয়ার হিটিংয়ে এতটা ভয়ংকর এই আফগানিস্তান; যে কোনো দলের বোলিং দুমড়েমুচড়ে যাবে নিশ্চিত! টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা ম্যাচেই তেমন ঝলক দেখাল আফগানরা। যেমন টাইমিং, তেমন বাউন্ডারি- ১৩ চার, ১১ ছক্কা। আর ছক্কাও একেকটা গ্যালারিতে। ১০৩, ১০১, ১০০, ৯৮ ও ৯৭ মিটার। রীতিমতো চোখে শর্ষে ফুল দেখেন স্কটিশ বোলাররা। মূলত পাঁচ ব্যাটারকে ঘিরে তাদের এই পাওয়ার হাউস। যাদের মধ্যে মোহাম্মদ নবি আগে থেকেই এই অঙ্গনের বিগ হিটার। মোহাম্মদ শাহজাদও দীর্ঘদিন খেলছেন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট। তাদের দু'জনের সঙ্গে আরও তিনজন- হজরতুল্লাহ জাজাই, রহমতুল্লাহ গুরবাজ ও নজিবুল্লাহ জাদরান। এই তিন ব্যাটার উইকেটে থাকলে ঝড় ওঠা অনেকটাই অনুমেয়। অনেকটা উইন্ডিজ লাইনআপের সঙ্গে মিলে যায়। এই বিশ্বকাপে তাদের প্রথম থেকে তাকালে যেমন লুইস, সিমন্স, গেইল, পুরান, ব্রাভো, রাসেলের মতো হার্ডহিটার চোখে পড়বে। আফগানদের এই পাঁচজন কোনো অংশে কম যাওয়ার নয়।\হস্কটল্যান্ডের সঙ্গে ১৩০ রানের জয়ে আফগানিস্তানের এই 'ফাইভ গান' খ্যাত ব্যাটাররাই চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়েছেন শারজাহতে। যদিও চলমান টি২০ বিশ্বকাপে আরব আমিরাতের বাকি দুই ভেন্যুর তুলনায় শারজাহ কিছুটা ছোট। তবে এই ছোট মঞ্চকে যেন নিজেদের ট্রায়ালের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন আফগান ব্যাটাররা। সামনে আরও বড় প্রতিপক্ষ। খেলতে হবে ভারত, পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে। তবে আফগান পাওয়ার হাউস ঠিকঠাক আলো ছড়ালে তারাও কুলিয়ে উঠতে হাবুডুবু খাওয়ার কথা। কেননা বোলিং আক্রমণ নিয়ে তাদের 'নো টেনশন'। যে দলে আছে রশিদ খানের মতো বিশ্বসেরা, আছে মুজিব উর রহমানের মতো কমপ্লিট প্যাক স্পিনার। তারা যে কোনো দলের সঙ্গে অন্তত টি২০ ফরম্যাটে টক্কর দিতেই পারে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও সেটা প্রমাণিত। শুরুতে স্কটিশরা ভালোই হাত খুলে খেলেছিল। কারণটা তখনও এই দুই স্পিনার বোলিংয়ে আসেননি। অখ্যাত পেসারদের পেয়ে ১৯০ রানের টার্গেটের রাস্তাটা বোধহয় কাছেই মনে হয় স্কটিশদের। কিন্তু এসেই সব এলোমেলো করে দেন মুজিব। নিজের তিন অস্ত্র- অফব্রেক, গুগলি আর ক্যারম ডেলিভারিতে এক এক করে তুলে নেন পাঁচ ব্যাটারকে। আর লেগিতে রশিদ নেন আরও চার ব্যাটার। দু'জন মিলে ৯ উইকেট- বাকি থাকল কী।

আফগানিস্তানের কনসালট্যান্ট কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের কাছে টি২০-তে সফলতার মূল পাথেয় নাকি বাউন্ডারি হিটিং। যে মন্ত্রে ২০১২ ও ২০১৬ সালের ট্রফিটা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শোকেসে। এই বিশ্বকাপের আগে সে কথাটাই শিষ্যদের আরেকবার মনে করিয়ে দেন তিনি, 'টি২০ ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে বাউন্ডারি হিটিংটা খুব জরুরি। আমি মনে করি, এই সময়ে এটাই সাফল্যের বড় চাবিকাঠি।'\হআফগানিস্তানের স্কোয়াডে নিঃসন্দেহে পাওয়ার হিটিং করার মতো ব্যাটার অনেকে। যদি সামনের ম্যাচগুলোতে আরও বড় চমক দেখাতে পারে তারা, তাহলে এবারের টি২০ বিশ্বকাপে তাদের সাফল্যের ট্রেন অনেক দূরে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। যদিও এই বিশ্বকাপ তাদের কাছে অনেকটা ভিন্ন। অন্তত দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়। কেননা তালেবানি জামানায় ঢোকার পর সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিল এই আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। তাদের ওপর থেকে ধীরে ধীরে সরে সেই দুশ্চিন্তার ছায়া। তবু দেশটির মানুষ ভয়ের মধ্যে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। যেমন ইঙ্গিত দেন দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি, 'আফগানদের জন্য ক্রিকেটই এখন একমাত্র সুখের অবলম্বন। যদি আমরা একটা ম্যাচ জিতি তাহলে অনেক হাসিমুখ দেখতে পারব।'

মন্তব্য করুন