নয়জনের পাঁচজনই ক্যাচ আউট। বেশিরভাগই এলোমেলো শট খেলে ক্যাচ দিয়েছেন। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ হয়েছে খুব কমই। অথচ মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, টেকনিক ও পাওয়ারের মিশেলে খেলে পাওয়ার হিটারদের হারাবেন তারা। টাইগার অধিনায়কের কথা একটুও ফলেনি। মেলে না ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের ধরনের সঙ্গে; বরং আমরা সবাই রাজা ধরনের ব্যাট করে মূল্যবান উইকেট বিসর্জন দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পাল্লা চলে। মাসকটের প্রথম রাউন্ডের পর মাহমুদউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনেও এলে না হয় জিজ্ঞেস করা যেত, সুপার টুয়েলভে ব্যাটিং বিজ্ঞানের কোন অধ্যায়ের পাঠ চলছে। সামর্থ্যের ঘাটতি থাকলে যুক্তি দেওয়ারও কিছু থাকে না। গতকাল তাই সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া গেল নাসুমের সরল স্বীকারোক্তি, 'আমাদের দ্বারা হচ্ছে না।'

মাহমুদউল্লাহ হলেন টানাপোড়েনের সংসারের অভিভাবক। চাল কিনলে নুনের টান পড়ে। সেখানে তেল-মসলা কেনার আনি কোথায়? তার দলের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের হয়েছে সেই হাল। ব্যাটিং ভালো করলে বোলিং হয় না। ফিল্ডিংয়ে হাতের ফাঁক গলে পড়ে ক্যাচ। ম্যাচও ছুটে যায় ভুলে ভুলে। চলমান বিশ্বকাপে খেলা পাঁচ ম্যাচের একটিতেও তিন বিভাগে সমন্বিত পারফরম্যান্স করতে দেখা যায়নি। যে কারণে প্রতিপক্ষ একটু ভালো খেললেই বালুর বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে দল। স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের স্কোরকার্ডে চোখ বোলালে ধরা দেবে একই ছবি। রোববার শারজাহর ম্যাচ শেষে টাইগার দলপতি বলেছিলেন, সব ঠিক করে ঘুরে দাঁড়াবেন পরের ম্যাচে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পেস বোলিং কোচ অটিস গিবসন জোর গলায় বলেছিলেন, সব ম্যাচ জিততে পারেন- এই বিশ্বাস নিয়েই এসেছেন বিশ্বকাপে। গল্পের ঘোড়া যেমন জোরে দৌড়ায়, অটিস আর মাহমুদউল্লাহর কথাও তেমনই শোনাচ্ছে। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটিয়ে ধাঁধায় ফেলার চেষ্টা। তাই সহজ-সরল নাসুম আহমেদে বিশ্বাস রাখা যায়। দলীয় পারফরম্যান্স কেন ভালো হচ্ছে না- ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'প্রতিটি ম্যাচেই চেষ্টা থাকে একটা জয় যেন পেতে পারি। একটা ব্যাটার বা বোলার পারফর্ম করলে জেতার সুযোগ থাকে। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের দ্বারা হচ্ছে না।'

হোটেলের বায়োবাবল থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। অনুশীলন, ম্যাচ খেলা, বিশ্রাম এবং টিম মিটিং নিয়েই সময় কাটে টাইগার স্কোয়াডের। নাসুম জানান, ভালো করতে না পারার কারণ নিয়েও কথা হয় দলের ভেতরে, শুধু সমাধান খুঁজে পায় না- 'এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়। আমরা প্রথম ছয় ওভারে রান তুলতে পারছি না। এ জন্য একটু ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছি। রানও তুলতে পারছি না, উইকেটও চলে যাচ্ছে। সবার মধ্যে ভালো কিছু করার চেষ্টা আছে। হচ্ছে না আসলে।' পাওয়ার প্লেতে লো স্কোর করা নিয়ম হয়ে গেছে। তিন ম্যাচে ৩০ রানের কোটা পেরোতে পারেনি। ওপেনিং জুটিতে রান হচ্ছে না। নাঈম শেখ দুটি হাফ সেঞ্চুরি পেলেও লিটন কুমার দাসের রিজার্ভ বেঞ্চে যাওয়ার সময় চলে এসেছে। পরের ম্যাচে সৌম্য সরকারকে খেলিয়ে ভাগ্য ফেরানোর একটা চেষ্টা করে দেখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। শারজাহ স্টেডিয়ামে পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তেও পারে। নাসুমের প্রত্যাশাও তাই, 'আরও তিনটা ম্যাচ আছে, একটা ম্যাচ ক্লিক করলে বাকি দুটি ম্যাচও ক্লিক করতে পারব। একটা ম্যাচ জিতলে পরের ম্যাচে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। বাংলাদেশে যে ম্যাচগুলো জিতেছিলাম, আত্মবিশ্বাস ভালো ছিল। ওমানে প্রথম ম্যাচ হারলেও পরের দুই ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলে সুপার টুয়েলভে এসেছি। সবার তো চেষ্টা থাকে ভালো কিছু করার, হচ্ছে না- এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।' যে দলের ক্রিকেটাররা খেলায় ফোকাস না করে বাইরের ইস্যু নিয়ে বেশি ভাবে, মাঠে তাদের ভালো খেলা সত্যিই কঠিন।

মন্তব্য করুন