ঢাকা টেস্ট ভেসে যেতে পারে বৃষ্টিতে। এরই মধ্যে দুই দিন পার হয়ে গেছে। প্রথম দিন ৫৭ ওভার খেলা মাঠে থাকলেও গতকাল ছিল মাত্র ৬.২ ওভার। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ায় সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কিছুটা বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ফ্লাডলাইটের আলোয় খেলা শুরু করা গেলেও বেশিক্ষণ মাঠে থাকেনি। ৩৮ বল খেলার পরই দু'দলকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। দুপুর ১টা ২১ মিনিটে ত্রিপল দিয়ে পিচ ঢেকে দেওয়ার পর আর খোলা সম্ভব হয়নি। ভারি বৃষ্টি হওয়ায় বিকেল ৩টায় দিনের খেলা স্থগিত করা হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আজ বৃষ্টিভেজা দিন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফিল্ড আম্পায়াররা দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর সাকিব যেন শৈশবে ফিরে গেলেন।

ত্রিপলের ওপর জমা জলে বুক সাঁতারের মতো স্লাইডিং করলেন। মুহূর্তের মধ্যে সাকিবের স্লাইডিং ভিডিও ভাইরাল হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হতে পারে নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে ছুটি পাওয়ার আনন্দে উড়তে চাইলেন বৃষ্টিজলে। এই একটি দৃশ্য ছাড়া গতকাল ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন তেমন কোনো বিনোদন ছিল না। যেটুকু খেলা হলো তাতে ২৭ রান যোগ করল পাকিস্তান। বৃষ্টি উপেক্ষা করে খেলা দেখতে আসা দর্শক এটুকুই উপভোগ করলেন। দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ১৮৮। বাংলাদেশের ঝুলিতে নতুন করে কোনো প্রাপ্তি যোগ হয়নি। দুই দিন পুরোপুরি খেলা না হলেও ঢাকা টেস্ট নিয়ে আশাবাদী ভারপ্রাপ্ত ফিল্ডিং কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। গতকাল খেলা শেষে জুম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমাদের মাইন্ডসেট ইতিবাচক আছে। চট্টগ্রামে আমরা ওভাবে হারার পরও মিরপুরে এসে আমাদের অনুশীলন বলেন, মিটিং বলেন, ছেলেদের শরীরী ভাষা ইতিবাচক ছিল। ছেলেরা ওই হারের প্রতিশোধ নিতেই খেলছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, শুরুটা ভালো হয়নি; কিন্তু তারা সবভাবেই ইতিবাচক আছে।'

এই টেস্টের এক ইনিংসও শেষ করা যায়নি। আজ তৃতীয় দিন খেলা না হলে বাকি থাকবে দুই দিন। শেষের দুই দিনেও ম্যাচের ফল হতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান চালকের আসনে থেকে প্রভাব বিস্তার করতে পারে ম্যাচে। স্বাগতিকদের চেয়ে পেস বোলিং বিভাগে এগিয়ে থাকা সফরকারীদের জন্য ইতিবাচক। আবহাওয়াও পেস বোলারদের অনুকূলে। তাই বৃষ্টিস্নাত ঢাকা টেস্টের চেয়েও নিউজিল্যান্ড সফর নিয়ে মুমিনুলদের ফোকাস বেশি। হোম সিরিজ থেকে নিউজিল্যান্ডে কতটা ইতিবাচক জিনিস নিয়ে যেতে পারলেন, সেটাই দেখার। কোচ বাবুল স্বীকার করলেন, বোলিং বিভাগের পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত হওয়ার মতো কিছু করতে পারেনি। তার মতে, 'কন্ডিশন আমাদের অনুকূলে থাকলেও আমরা ভালো বোলিং করতে পারিনি। হয়তো উইকেট নেওয়ার জন্য বোলিং করতে যাওয়ায় কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। এর পরও বলব, দেশের সেরা পেস বোলারদের নিয়েই নিউজিল্যান্ড সফর করব আমরা।

তাসকিন, শরিফুল যোগ হয়েছে স্কোয়াডে। এবাদত উন্নতি করছে। নিউজিল্যান্ডে যেহেতু পেস বোলিং সহায়ক উইকেট থাকবে, আশা করি ছেলেরা ভালো করবে।' বিসিবির এই কোচ মনে করেন, টেস্টে সুশৃঙ্খল বোলিং করা জরুরি। এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদরা যেটা এখন পর্যন্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, 'বোলিংয়ে আমাদের শক্তির জায়গা স্পিন। তাই স্পিনার বেশি নিয়ে খেলি এবং সাফল্যও বেশি। পেসাররা সেভাবে ভালো করতে পারছে না। পেসারদের ১০-এর মধ্যে পাঁচ মার্কস দেব।' বাবুলের কথা অনুযায়ী টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্য কাঙ্ক্ষিত মানের না। তাই এবাদতদের কাছ থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা না করাই ভালো।

মন্তব্য করুন