যেখানে খেলে বড় হওয়া সেই কন্ডিশনকেও জয় করতে শেখা হয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এক দশক খেলে ফেলার পরও মিরপুরে ব্যাট করতে নামলে ব্যাটারদের কাঁপাকাঁপি দেখলে বিস্ময় জাগে। একদিনের ক্রিকেটে কিছু রান করতে পারলেও টি২০ সংস্করণে এখনও যেন মাজুল তারা। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে গত দুই দিনের প্রথম ম্যাচে হলো লো স্কোর। গতকাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে সিলেট সানরাইজার্স অলআউট হলো ৯৬ রানে। এই রান করতেও কুমিল্লা হারাল ৮ উইকেট। দুই উইকেটের কষ্টের জয়েও তৃপ্ত কুমিল্লা।

মিরপুরের পিচও ব্যাটারদের অনুকূলে ছিল না। স্লো এবং লো উইকেটে বোলাররা প্রভাব বিস্তার করেন শুরু থেকেই। ৭ রানে এনামুল হক বিজয়কে হারানোর পর সিলেটের আর জুটি গড়া হয়নি। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে দলটি। মাত্র তিনজন ব্যাটার পৌঁছাতে পারেন দুই অঙ্কের রানে। তাদের দু'জন আবার বিদেশি- কলিন ইনগ্রাম (১৯) ও রবি বোপারা (১৭)। ১২ রান করা সোহাগ গাজী স্বীকৃত কোনো ব্যাটার নন। বিজয়, মিঠুন, কাপালীরা রানের পেছনে ছোটারও সুযোগ পাননি। মুকিদুল, শহিদুল, নাহিদুল, মুমিনুলদের কাছে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপ। ৯৭ রানের টার্গেট দিয়েও কুমিল্লাকে চাপে ফেলে দেয় সিলেট। গাজী, মোসাদ্দেক, নাজমুল অপুরা ভিক্টোরিয়ান্স শিবিরে কাঁপন ধরান। এ থেকেই বোঝা যায়, মিরপুর স্পিনারদের স্বর্গ। জয়ী দলের ইনিংসেও বড় রান করতে পারেননি কেউ। ম্যাচ শেষে সিলেটের বিজয় দোষারোপ করলেন উইকেটকে, 'উইকেটটি টি২০র মতো মনে হয়নি। ব্যাটসম্যানদের জন্য ব্যাটিং করা কঠিন এখানে। টার্ন ছিল, ভেজা ছিল। যে কারণে ব্যাটসম্যানরা স্বস্তিতে খেলতে পারেনি, এটা সত্যি। দুটি দলই একইভাবে খেলেছে এবং কঠিনই মনে হয়েছে আমার কাছে। ব্যক্তিগতভাবে সবার কাছেই মনে হয়েছে যে, এটা কঠিন উইকেট ছিল।' কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস প্রতিপক্ষকে অলআউট করার পেছনে উইকেটের চেয়েও বোলারদের কৃতিত্ব দেখেন বেশি, 'উইকেট প্রথম হাফে কিছুটা কঠিন ছিল, আমাদের বোলাররা উইকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথেষ্ট ভালো এবং পরিকল্পনামাফিক বোলিং করেছে। কিন্তু লো স্কোরিং ম্যাচে সবসময়ই একটু সমস্যা হয় রান চেজিংয়ের ক্ষেত্রে। একটা উইকেট পড়ে গেলে আরেকজন বোলার এসে চেষ্টা করে কিছু বল ডট দেওয়ার। তখন কিন্তু একটা চাপ এসে যায়। আমরা বিষয়টা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান করে ফেলব।'


সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সানরাইজার্স-কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
টস :কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
সিলেট সানরাইজার্স :১৯.১ ওভারে ৯৬ (বিজয় ৩, ইনগ্রাম ২০, মিঠুন ৫, বোপারা ১৭, মোসাদ্দেক ৩, সোহাগ গাজী ১২, মুক্তার ০, কেসরিক ৯, তাসকিন ২, নাজমুল অপু ০*; মুস্তাফিজ ২/১৫, শহিদুল ২/১৫, নাহিদুল ২/২০, তানভীর ১/১০, মুমিনুল ১/১৪)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স :১৮.৪ ওভারে ৯৭/৮ (ডেলপোর্ট ১৬, ডু প্লেসিস ২, মুমিনুল ১৫, ইমরুল ১০, নাহিদুল ১৬, আরিফুল ৪, জানাত ১৮, মাহিদুল ৯*, শহিদুল ১, তানভীর ৩*; নাজমুল অপু ৩/১৭, মোসাদ্দেক ২/১০, সোহাগ গাজী ২/৩০, তাসকিন ১/১৯)
ফল :কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা :নাহিদুল ইসলাম (কুমিল্লা)।

মন্তব্য করুন