বাঁহাতের আঙুলের চোটের কারণে লম্বা সময় খেলায় না থাকলেও বিপিএলে হাসছে তামিমের ব্যাট। টানা দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার এ ওপেনার। রান পেলেও স্ট্রাইকরেটে স্ট্রাইক করতে পারেননি তিনি। পাওয়ার প্লেতে পাওয়ার শট খেলতে পেরেছেন খুবই কম। এর চেয়েও বড় কথা, তামিমের ভালো খেলা দুটি ম্যাচই হেরেছে তার দল ঢাকা। দলের পরাজয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দৃষ্টি কাড়তে পারছে না। খুলনার পর চট্টগ্রামের কাছেও হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল ঢাকা। ফরচুন বরিশালের কাছে হারলেও চট্টগ্রাম দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেছে ৩০ রানে।

মিরপুরের উইকেট স্লো এবং লো হলেও সন্ধ্যার ম্যাচে রান হচ্ছে নিয়মিত। উদ্বোধনী দিনে ঢাকার ১৮৩ রানের জবাবে খুলনা ১৮৬ রান করে ছয় বল হাতে রেখে। গতকালও চট্টগ্রাম প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে আট উইকেটে করে ১৬১ রান। ১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা অলআউট হয় ১৩১ রানে। টি২০ ম্যাচে অলআউট হওয়া কঠিন ব্যাপার। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের দ্বিতীয় দিন দুই ম্যাচেই অলআউটের সাক্ষী হলো মিরপুর। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে সিলেট সানরাইজার্স অলআউট হয় আগে ব্যাট করে। আর ঢাকাকে গুটিয়ে দেয় চট্টগ্রাম। ১৬১ রানে যেতে সমন্বিত ব্যাটিং করে চট্টগ্রাম। কোনো হাফ সেঞ্চুরি না থাকলেও উইল জ্যাকস, সাব্বির রহমান, বেনি হাওয়েল বল ডট করেছেন কম। যে কারণে এই তিন ব্যাটারের স্ট্রাইকরেট দেড়শর ওপরে। উইল জ্যাকস ২৪ বলে করেন ৪১ রান। তিনটি চার ও দুটি ছয়ের মার দিয়ে সাজান ইনিংসটি। প্রথম ম্যাচে রান পাওয়া চট্টগ্রামের আরেক বিদেশি বেনি হাওয়েল ১৯ বলে করেন ৩৭ রান। সাব্বির রহমান অনেক দিন পর টি২০ মেজাজে ব্যাট করেন। দুটি করে চার-ছক্কায় ১৭ বলে করেন ২৯ রান। মেহেদী মিরাজ রান পেলেও স্ট্রাইকরেট ১০০।

তামিম থিতু হয়ে যাওয়ার পরও লেজেগোবরে করে ফেলেন ঢাকার ব্যাটাররা। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম নিয়মিত বিরতিতে জুটি ভেঙে ধস নামান ঢাকার ইনিংসে। তামিম একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা মিছিল করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। প্রথম ম্যাচে ৪১ বলে ৫০ করা তামিম গতকাল ৪২ বলে পঞ্চাশ আর ৪৫ বলে ৫২ রান করেন। বাকিদের স্কোর উল্লেখ না করলেও চলে। নাসুম চার ওভার শেষ করেন ৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে। শরিফুল চার উইকেট পান ৩৪ রানে। এক কথায় জমাট বোলিং করেছে চট্টগ্রাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা
টস :মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স :২০ ওভারে ১৬১/৮ (লুইস ২, উইল জ্যাক ৪১, আফিফ ১২, সাব্বির ২৯, মিরাজ ২৫, বেনি হাওয়েল ৩৭, নাসুম ৮*; রুবেল ৩/২৬, আরাফাত সানি ১/২৩, মাহমুদউল্লাহ ১/১২, শুভাগত ১/১৫)

মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা :১৯.৫ ওভারে ১৩১ (তামিম ৫২, শাহজাদ ৯, জহুরুল ১০, নাঈম ৪, মাহমুদউল্লাহ ৫, রাসেল ১২, শুভাগত ১৩, উদানা ১৬, এবাদত ১*; শরিফুল ৪/৩৪, নাসুম ৩/৯, মুকিদুল ১/২২, নাইম ১/৭)
ফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৩০ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা :নাসুম আহমেদ (চট্টগ্রাম)।

মন্তব্য করুন