ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার হলেও জাতীয় দলে ডাকা হয় না তাকে। ২০১৫ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ায় জাতীয় টি২০ দলে ডাক পড়ে তার। এক ম্যাচ খেলিয়ে বাদ দেওয়া হয় চিরতরে। জাতীয় দল নির্বাচকদের 'গুডবুকে' আর ঢোকা হয়নি তার। উপেক্ষিত হলেও জাতীয় দলে ফেরার আশা ছাড়েননি রনি তালুকদার। ঢাকা লিগ, বিপিএলে নিয়মিত ভালো খেলার চেষ্টা করেন। এবার লক্ষ্য ঠিক করেছেন বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে কড়া নাড়বেন জাতীয় দল নির্বাচকদের দরজায়। খুলনা টাইগার্সের ওপেনার রনি তালুকদার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে মিনিস্টার ঢাকার বিপক্ষে ৬১ রানের ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সমকালের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রনি

সমকাল: বিপিএলের শুরুটা দারুণ হলো। পরিকল্পনা ছিল কি?

রনি: আমাদের সিম্পল প্ল্যান ছিল। ঢাকার ব্যাটিংয়ের সময় বোলারদের খুব কষ্ট হচ্ছিল। মাঠে শিশির ছিল, বোলাররা বল গ্রিপ করতে পারছিল না। আমি তখন মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম যে, আমরা যদি ঢাকাকে ১৮০ রানের মধ্যে রাখতে পারি সেটা চেজ করা সম্ভব। মুশফিক ভাই বললেন, হ্যাঁ এটা সম্ভব, ব্যাটে বল আসছিল। আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই সিম্পল প্ল্যান নিয়েই গেছি। বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। আরও ভালো লাগত যদি আমি খেলাটা শেষ করে আসতে পারতাম। শেষ করতে পারলে নিজের কাছে ভালো লাগে, বড় খেলোয়াড় হওয়ার এটা একটা শর্ত। ভালো খেলোয়াড় হতে হলে ম্যাচগুলো শেষ করতে জানতে হয়।

সমকাল: ম্যাচসেরা ইনিংস খেলে শুরু করলেন, এটা কি পুরো টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাস দেবে?

রনি: হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। প্রথম ম্যাচে রান করতে পেরেছি সেটা পরের ম্যাচ কাজে দেবে। কারণ আমি চাই এই পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। ভালো খেলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তালিকায় এক থেকে তিনের ভেতরে থাকতে চাই। আমার নিজস্ব একটা পরিকল্পনা আছে। আমি যদি রান করি আমার দলেরও হেল্প হবে।

সমকাল: জাতীয় দলকেন্দ্রিক পরিকল্পনাও নিশ্চয়ই থাকে?

রনি: সেটা তো অবশ্যই। প্রতিটি খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছে থাকে। একবার সুযোগ পেয়ে একটি ম্যাচ খেলেছি। আশা তো থাকেই। ক্রিকেট খেলিই তো জাতীয় দলে ঢোকার জন্য। আমি যেন আবার জাতীয় দলে খেলতে পারি। আমার কাজ পারফর্ম করা, বাকিটা নির্বাচকদের কাজ। এখন লক্ষ্যই থাকে, যেখানেই খেলি যেন পারফর্ম করতে পারি।

সমকাল: ঢাকা লিগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন, বিপিএলে সে অভিজ্ঞতা হয়নি। এবার কি তেমন কিছুর স্বপ্ন দেখেন?

রনি: প্রতিবারই পরিকল্পনা থাকে। কারণ আমার জন্য রান করার সুযোগটা বেশি। ওপেনার হিসেবে আমার হাতে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ থাকে। এবারও ইচ্ছে আছে। সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, তা নিয়ে ভাবছি। আমি একটা প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি, বাকিটা ভাগ্য।

সমকাল: বিদেশি কোচের কাছ থেকে কেমন হেল্প পাচ্ছেন?

রনি: আমাদের হেড কোচ ল্যান্স ক্লুজনার গ্রেটম্যান, বিখ্যাত খেলোয়াড় ছিলেন, বড় কোচ তিনি। খেলার আগে উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে- আমার সমস্যার কথা বললাম, তিনি আমাকে ছোট্ট একটা টিপস দিলেন যে, আমি কী করলে আরও বেশি ভালো খেলতে পারব।

সমকাল: সে টিপসটা কী?

রনি: ছোট্ট বিষয়, স্কিল নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, তুমি ব্যাট সুইং একটু জোরে করো। তোমার একটা কাজই করতে হবে, শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে। ব্যাটিং পজিশন ঠিক থাকলে সবকিছু ঠিকমতো হবে। বলে জোরে হিট করতে পারবে, বল যাবেও জোরে। টাইমিং করতে পারবে। স্কিলে কোনো সমস্যা নেই। বল জোরে মারতে পার। খালি ব্যালান্স ঠিক রাখো। ভারসাম্য থাকলে যে জায়গায় বল পাঠাতে চাও সেখানে যাবে।

সমকাল: এত সুন্দর একটি জয়ের পর নিশ্চয়ই খুব আনন্দ হয়েছে?

রনি: হ্যাঁ হয়েছে। দোয়া করবেন যেন ভালো খেলতে পারি। কারণ এখনও অনেক পথ বাকি। পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো খেলতে হবে।

সমকাল: এনসিএল, বিসিএল খেলার ছন্দটা কি কাজে লেগেছে বিপিএলে?

রনি: হ্যাঁ অবশ্যই। কভিডের কারণে আমরা অনেক দিন খেলার বাইরে ছিলাম। সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিসিবি আমাদের জাতীয় লিগ এবং সিসিএল খেলার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় উপকার হয়েছে। কারণ মাঠে খেলা থাকলে খেলোয়াড়দের কাজে আসে।

সমকাল: আপনি তো সারাবছরই প্রস্তুতির ভেতরে থাকেন?

রনি: সেটা তো অবশ্যই। এটা তো আমাকে করতেই হবে। আমি যদি অন্য কোনো ব্যবসা করতাম সেটা আমাকে নিয়মিত করতে হতো। খেলোয়াড় হিসেবে খেলা আমার কাজ। খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমাকে ফিট রাখতে হবে, স্কিল ট্রেনিং করতে হবে। এই কাজগুলো না করলে খেলতে গিয়ে ইনজুরড হতে পারি, খারাপ খেলতে পারি। চেষ্টা করি ফিটনেস ও স্কিল নিয়ে কাজ করতে।

সমকাল: জাতীয় দলে একটি ম্যাচ দেখে বাদ দেওয়ায় আক্ষেপ আছে?

রনি: আমারই ভুল ছিল হয়তো। আমি ভালো খেলিনি ওইভাবে। চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি।

সমকাল: আরেকটু সুযোগ তো পেতে পারতেন?

রনি: যেটা হয়েছে সেটা আমার কপালে ছিল। জাতীয় দলে ফিরতে হলে আমাকে ভালো খেলতে হবে।

মন্তব্য করুন