জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া সব খাতে দর কমেছে

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সমকাল প্রতিবেদক

টানা পঞ্চম দিনে গড়াল দেশের শেয়ারবাজারের দরপতন। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিনই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। অবশ্য গতকাল ব্যাংক, বীমাসহ অন্য সব খাতের প্রায় সব শেয়ারের দর কমলেও বেড়েছে শুধু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ খাতের সব শেয়ারের দর।

দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২০৫ কোম্পানির শেয়ার বা ৬১ শতাংশের দর কমেছে, বেড়েছে ৮৮টি শেয়ার বা ২৬ শতাংশের দর। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৫৬ শতাংশের দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৩০ শতাংশের দর। বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমায় দুই বাজারের লেনদেন প্রায় ৫০ কোটি টাকা কমে ৭৩৭ কোটি টাকায় নেমেছে।

ঈদের ছুটির পর গত সপ্তাহের দরপতনের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সক্রিয় না হওয়াকে প্রধান কারণ বলে জানিয়েছিলেন বাজার-সংশ্নিষ্টরা। তবে চলতি সপ্তাহও দরপতন দিয়ে শুরু হওয়ার পেছনে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে দুদকের মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক বড় কারণ বলে মনে করছেন তারা।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের আগে মার্জিন ঋণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার দুদক শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছিল। গতকাল দুদক আরও ১২ মামলা করেছে। এসব মামলায় রাষ্ট্রায়ত্ত আইসিবির এবং বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শেয়ারবাজারের কিছু বিনিয়োগকারীকে আসামি করা হয়েছে। লেনদেনে এ ঘটনার প্রভাব ছিল বলে মনে করছেন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর কারণ হিসেবে তারা জানান, ওই সময়ে সব ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রায় সব বড় বিনিয়োগকারী বড় ধরনের অনিয়ম করেছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, মার্জিন ঋণের অনিয়মে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আইসিবির বড় আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় এ অনিয়মের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দুদক।

এদিকে, দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল অধিকাংশ শেয়ারের দর ও বাজার সূচকে উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ১৫ মিনিটে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪২৪ পয়েন্ট ছাড়ায়। এর পরই দরপতন শুরু হয়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ কারণে শুরুর সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় প্রায় ৪০ পয়েন্ট হারিয়ে সূচকটি ৫৫৮৫ পয়েন্টে নামে। যদিও ক্লোজিং প্রাইসের হিসেবে আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৫৯০ পয়েন্টে নেমেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে গতকাল ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির কোনোটিরই দর বাড়েনি। খাতটির ২৮ কোম্পানির দরপতন হয়েছে, অপরিবর্তিত ছিল দুটি। এতে পুরো খাতের দরপতন হয়েছে দেড় শতাংশের ওপর। সর্বাধিক ৪ শতাংশ কমেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দর। ৩ শতাংশের ওপর দর হারিয়েছে এবি, সিটি, ঢাকা, যমুনা, প্রিমিয়ার ও উত্তরা ব্যাংক।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ২১টি দর হারিয়েছে। সর্বাধিক সাড়ে ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। ৪ শতাংশের ওপর দর হারায় বিআইএফসি, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আইপিডিসি ও মাইডাস ফাইন্যান্স। এমন দরপতনের মধ্যে থামেনি ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের অস্বাভাবিক উত্থানের ধারা। গতকালও শেয়ারটির দর ৫ শতাংশের ওপর বেড়েছে।

বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে গতকালও ৩৪টির বাজারদর কমেছে, বেড়েছে মাত্র সাতটির। সর্বাধিক সাড়ে ৬ শতাংশ দর হারিয়েছে প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স। সোনার বাংলা ও পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বাজারদরে পতন ৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন খারাপ অবস্থায়ও পপুলার লাইফের পৌনে ৫ শতাংশ ও সানলাইফের ২ শতাংশ দর বেড়েছে।

প্রকৌশল খাতের ৩৬ কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর কমেছে। সর্বাধিক ৬ শতাংশ দর হারিয়েছে সুহৃদ। বিপরীতে সোয়া ৬ শতাংশ দর বেড়েছে বিবিএস কেবলসের। দরপতনের ধারায় থাকা বস্ত্র খাতের ১২ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৯টির দর কমেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ছয় কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১২টির দর। অন্য অধিকাংশ খাতে ছিল একই চিত্র। এ ক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। খাতটির ১৯ কোম্পানির মধ্যে শুধু ইন্ট্রাকোর শেয়ারদর সামান্য কমেছে। বাকি সব শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতটির গড় শেয়ারদর বেড়েছে আড়াই শতাংশ। সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে খুলনা পাওয়ারের শেয়ার। এ ছাড়া শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ারদর পৌনে ৭ শতাংশ এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের দর ৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে টেলিযোগাযোগ ও সিমেন্ট খাতে। টেলিযোগাযোগ খাতের দুই কোম্পানির উভয়টির বাজারদর বেড়েছে। এর মধ্যে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের শেয়ার। আর সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির দর বেড়েছে। সর্বাধিক ৪ শতাংশ দর বেড়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের।